রাজনৈতিক দল ও কমিশন ইতিহাস রচনা করেছে: ড. ইউনূস

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৭ বার
শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা / একটি বাংলাদেশ ডেস্ক

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দল ও কমিশনকে ‘অসম্ভবকে সম্ভব করার’ উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুক্রবার বিকেলে একটি উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ঘটনা একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থান করে নেবে। ড. ইউনূসের মতে, এই সমঝোতা ও ঐক্য কেবলমাত্র বাংলাদেশের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি প্রেরণার উৎস হবে।

ড. ইউনূসের মন্তব্য আসে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর। এই সনদে স্বাক্ষর করেছেন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রতিনিধি, যার মধ্যে রয়েছেন বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি এবং গণসংহতি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা। এই সনদ স্বাক্ষর প্রক্রিয়াটি একটি দীর্ঘসূত্রী রাজনৈতিক আলোচনার ফলাফল। জুন মাসে শুরু হওয়া প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দলগুলোর মধ্যে একটি ঐক্যমত্য গড়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত জুলাই জাতীয় সনদে প্রতিফলিত হয়েছে।

আজকের অনুষ্ঠানে বিকাল ৪টা ৩৭ মিনিটে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সনদ স্বাক্ষর শুরু হয়। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিকাল ৫টায় ড. ইউনূস এবং অন্যান্য নেতা ও কমিশনের সদস্যরা সনদে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা।

ড. ইউনূস তার বক্তব্যে বলেন, “রাজনৈতিক বিভাজন এবং দলের স্বার্থকে পেছনে রেখে সকলের অংশগ্রহণে এই সনদ বাস্তবায়িত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, যখন দেশপ্রেম এবং নাগরিক দায়বদ্ধতা প্রথম স্থানে আসে, তখন অসম্ভব মনে হওয়া বিষয়গুলোও সম্ভব হয়ে ওঠে। আমাদের এই উদ্যোগ শুধু দেশের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক স্তরে আমাদের সংহতির শক্তিকে প্রদর্শন করবে।”

উল্লেখ্য, যদিও বেশিরভাগ দল এই ঐক্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে, তবুও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের অংশগ্রহণ স্থগিত করেছে। এনসিপি গত বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তারা আইনি ভিত্তির নিশ্চয়তা ছাড়া এই সনদে স্বাক্ষর করবে না। তবে অন্যান্য দলের প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট যে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রক্রিয়া গড়ে ওঠেছে।

এই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংহতি নয়, দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য করার একটি প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বারবার উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সংলাপের অভাব এবং বিভাজনকে কাটিয়ে উঠতে এই সনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ড. ইউনূস আরও বলেন, “আমরা জানি, রাজনৈতিক সংলাপ এবং অংশীদারিত্ব ছাড়া একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আজকের এই স্বাক্ষর প্রমাণ করে যে, দেশের নেতারা পারস্পরিক সমঝোতা এবং জাতীয় স্বার্থকে প্রথম স্থানে রেখেছেন। এটি আমাদের সকলের জন্য একটি উদাহরণ এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ কেবল একটি নথি নয়, এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রতীক। একাধিক দল এবং কমিশনের মধ্যে এই ধরনের ঐক্য, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভাজনের পর, একটি বিরল কাণ্ড। এটি দেশের নাগরিকদের মধ্যে আশা এবং আস্থা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করবে, কারণ তারা দেখেছেন যে, রাজনৈতিক নেতারা কেবল নিজেদের স্বার্থে নয়, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করতে সক্ষম।

এভাবে, জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নয়, সমগ্র জাতির জন্য একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের উদ্যোগ দেশের নাগরিকদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়াবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত