সাংবাদিকের ওপর চড়াও বিনপি -বস্তুনিষ্ট সংবাদ কি তবে চর্চা হবে না, এমন আচরণের তীব্র নিন্দা করছি …

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৯১ বার
হিন্দু সম্মেলনে জামায়াত নেতার আহ্বান: “ধর্ম নয়, উন্নয়নেই আসুক ঐক্য”-গোলাম পরওয়ার

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে “আমার দেশ” পত্রিকার সাংবাদিক জাহিদুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনাকে। বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম মারধরের শিকার হন। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সোমবার তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, “গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর এভাবে হামলা দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়।” তিনি আরও বলেন, “সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতচর্চার জন্য আমাদের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগকে উপেক্ষা করে যদি অতীতের দমনমূলক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হয়, তাহলে জনগণ সেটি মেনে নেবে না। আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই, এ ধরনের অসুস্থ রাজনৈতিক আচরণ থেকে বেরিয়ে এসে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা হোক।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, রবিবার বিকেলে বিএনপির গুলশান অফিসে সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ চলাকালে ঘটনাটি ঘটে। অন্যান্য সাংবাদিকদের সঙ্গে সেখানে সংবাদ সংগ্রহে গিয়েছিলেন “আমার দেশ”-এর স্টাফ রিপোর্টার জাহিদুল ইসলাম। সভাকক্ষের দরজায় দলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করছিলেন তিনি। এ সময় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন।

‘আমরা বিএনপি’ পেজের ক্যামেরাপারসন ফয়সলের নেতৃত্বে একদল কর্মী জাহিদুলের ওপর হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তাঁরা সাংবাদিককে অফিসের দোতলার সিঁড়িতে নিয়ে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয় এবং আইডি কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়। হামলাকারীরা অভিযোগ করতে থাকে—‘আমার দেশ’ নাকি বিএনপির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করে।

অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে এসে জাহিদুলকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে তাদেরও লাঞ্ছিত করা হয়। শেষ পর্যন্ত উপস্থিত সাংবাদিকদের সহযোগিতায় জাহিদুলকে গুলশান কার্যালয়ের বাইরে নিয়ে এসে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে দ্রুত সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনায় আরও তিনজন সাংবাদিক—নয়া দিগন্তের ওয়াসিম আল ইমরান, জাগো নিউজের খালিদ হোসেন এবং ডেইলি স্টারের সাজ্জাদ—আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনাকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। তারা বলছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মৌলিক দায়িত্ব। সংবাদপত্র কেবল সরকারের সমালোচনাই নয়, সমাজের বিকাশে সত্য প্রকাশের মাধ্যম—এ সত্য ভুলে গেলে গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না।

জনগণের জানার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকারেই সাংবাদিকরা দিনরাত কাজ করে চলেছেন। যারা এই স্বাধীনতার ওপর চড়াও হয়, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে দেশের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও। আমার দেশ সহ অন্যান্য সাংবাদিকের ওপর চড়াও বিনপি -বস্তুনিষ্ট সংবাদ কি তবে চর্চা হবে না, এমন আচরণের তীব্র নিন্দা গোপন করছি। …

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত