প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মানুষের জীবনে পোষা প্রাণী শুধু বিনোদন বা শখের বিষয় নয়—তারা হয়ে উঠতে পারে মানসিক প্রশান্তি ও শারীরিক সুস্থতার এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে পোষা প্রাণীর প্রতি আকর্ষণ ও ভালোবাসা একটি মানবিক গুণ হিসেবে বিকশিত হয়, যা তাদের মানসিক বিকাশ ও সহানুভূতির অনুভূতিকে আরও গভীর করে তোলে।
একজন অভিভাবক জানান, তার সন্তান বাসায় একটি বিড়াল পোষার জন্য প্রায়ই বায়না ধরে। এমনকি পাখি, কুকুর বা অন্য প্রাণীদের প্রতিও শিশুটির বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। সে প্রাণীগুলোর সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসে, তাদের খাওয়ায়, যত্ন নেয়, আর খেলাধুলায় মেতে থাকে। অভিভাবকটির মতে, এই আচরণ তার সন্তানের ভেতরে এক ধরনের মমতা, সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলছে, যা মানুষ হিসেবে বড় হওয়ার পথে অমূল্য শিক্ষা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিজ্ঞানীরাও একমত—পোষা প্রাণীর সংস্পর্শ কেবল মানসিক আনন্দই দেয় না, এটি শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ছোটবেলা থেকে বিড়াল, কুকুর বা অন্যান্য প্রাণীর সংস্পর্শে থাকে, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী হয়। প্রাণীর শরীরের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংস্পর্শের কারণে শরীর স্বাভাবিকভাবে জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করার সক্ষমতা অর্জন করে।
গবেষকদের দাবি, পোষা প্রাণীর উপস্থিতি অ্যালার্জি, একজিমা, চুলকানি, এমনকি থাইরয়েড সমস্যা বা টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসের মতো অটোইমিউন রোগের ঝুঁকিও কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়া, প্রাণীর সান্নিধ্যে থাকা মানুষের মানসিক চাপ ও একাকীত্ব কমায়, যা হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের জন্য প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানো শুধু আনন্দের উৎস নয়, এটি তাদের আবেগীয় বিকাশেরও একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তারা অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল, দায়িত্বশীল ও মমতাময় হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে এটি পরিবারে স্নেহ ও সম্পর্কের বন্ধনকেও আরও দৃঢ় করে তোলে।
বর্তমান দ্রুতগতির জীবনে যেখানে প্রযুক্তি ও একাকীত্ব মানুষের সম্পর্ককে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে, সেখানে পোষা প্রাণী হয়ে উঠতে পারে মানসিক প্রশান্তির এক নিঃশব্দ সঙ্গী। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন—প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা শুধু একটি শখ নয়, এটি মানবিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন।