হোয়াইট হাউজে নতুন বলরুম নির্মাণে বিতর্ক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৬ বার
হোয়াইট হাউজে নতুন বলরুম নির্মাণে বিতর্ক

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউজে শুরু হয়েছে নতুন বলরুম নির্মাণের কাজ, যা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইস্ট উইংয়ের (East Wing) একটি বড় অংশ ভেঙে নতুন এই বলরুম তৈরি করা হচ্ছে। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই ভবনের এমন পরিবর্তনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অনেক ইতিহাসবিদ, রাজনীতিক ও নাগরিক সংগঠন।

সোমবার ইস্ট উইংয়ের মূল প্রবেশদ্বারের একটি অংশ এবং জানালার বিশাল অংশ ভেঙে ফেলা হয়, যেখানে আগে প্রেস কনফারেন্স রুম ও কিছু প্রশাসনিক দপ্তর ছিল। নির্মাণ শ্রমিকদের একাধিক ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত ভাইরাল হয়। পরে হোয়াইট হাউজ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে, সেখানে “সম্পূর্ণ আধুনিকীকরণ ও পুনর্গঠন” করা হচ্ছে।

তবে এই কাজের পেছনে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত পছন্দই মুখ্য ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করছেন অনেকে। গত জুলাই মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ব্যয়ে একটি “বিশাল, রাজকীয় এবং আধুনিক” বলরুম নির্মাণ করবেন, যা হোয়াইট হাউজের “গৌরব ও সৌন্দর্য বাড়াবে”। তিনি বলেছিলেন, “বিদ্যমান ভবনে কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না। এটি তার পাশে নির্মিত হবে এবং ঐতিহ্যের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে কাজটি সম্পন্ন করা হবে।”

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, তাঁর সেই আশ্বাস বাস্তবে পুরোপুরি রক্ষা করা হয়নি। হোয়াইট হাউজের ঐতিহাসিক ইস্ট উইং অংশে সরাসরি ভাঙচুর শুরু হওয়ায় সমালোচকরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র নান্দনিক পরিবর্তন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক স্থাপনার স্থাপত্য ও ইতিহাসের সঙ্গে হস্তক্ষেপ।

ইতিহাসবিদ মার্থা হোয়াইটম্যান বলেন, “হোয়াইট হাউজ শুধু একটি সরকারি ভবন নয়, এটি আমেরিকান গণতন্ত্রের প্রতীক। ট্রাম্প প্রশাসন সেটিকে ব্যক্তিগত স্থাপনায় রূপ দিতে চায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

এই প্রকল্পে সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়েও উঠেছে প্রশ্ন। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানায়, ২৫০ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পে সরকারি তহবিলের ব্যবহার অনুমোদনের প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। তবুও নির্মাণ শুরু হয়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা অভিযোগ তুলেছেন যে, প্রেসিডেন্ট সরকারি সম্পদ ও ঐতিহাসিক স্থাপনাকে তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। সিনেটর আলেকজান্দ্রিয়া ও’কনর বলেন, “হোয়াইট হাউজের ভেতরে ব্যক্তিগত বিনোদন কেন্দ্র তৈরি করা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার। এটি প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।”

অন্যদিকে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা দাবি করছেন, এই বলরুম ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সভা, সরকারি নৈশভোজ এবং রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র শন কনওয়ে বলেন, “এটি কেবল ট্রাম্পের নয়, ভবিষ্যতের সব প্রশাসনের জন্য একটি প্রয়োজনীয় সংযোজন। হোয়াইট হাউজে রাষ্ট্রীয় অতিথি সংবর্ধনা বা আনুষ্ঠানিক সভার জন্য বর্তমানে যে জায়গা রয়েছে, তা অনেক পুরনো ও সীমিত। নতুন বলরুম সেই ঘাটতি পূরণ করবে।”

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত স্পষ্টতই বিভক্ত। অনেকেই ট্রাম্পকে “নিজের ইচ্ছেমতো ইতিহাস বদলানো” বলে সমালোচনা করেছেন। অনেকে আবার বলছেন, “হোয়াইট হাউজ সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক হওয়া উচিত, ট্রাম্প সেটিই করছেন।”

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিশন (National Capital Planning Commission) জানিয়েছে, তারা এই প্রকল্পের স্থাপত্য নকশা ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “হোয়াইট হাউজের মতো ঐতিহাসিক ভবনে যেকোনো স্থাপত্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক মূল্য বিবেচনা করতেই হবে।”

ট্রাম্প প্রশাসন এখনো প্রকল্পটির নির্দিষ্ট সময়সীমা বা সম্পন্ন হওয়ার তারিখ জানায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যেই বলরুমটি পুরোপুরি প্রস্তুত হবে।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলো বলছে, এই বিতর্ক শুধু একটি স্থাপনার নয়, বরং ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্যের ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। হোয়াইট হাউজে নতুন বলরুম নির্মাণ হয়তো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, কিন্তু তা এখন আমেরিকান ইতিহাস ও গণতন্ত্রের প্রতীকী স্থাপনাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর বিতর্কের সূচনা করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত