বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সব ইউনিট বন্ধ, উত্তরাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৯ বার

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দিনাজপুরের পাবর্তীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় তীব্র লোডশেডিং চলছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, কোথাও এক ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ চলে আসে আবার চলে যায়, আবার কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ আসে না।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ১নং ও ২নং ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা যথাক্রমে ১২৫ মেগাওয়াট করে ২৫০ মেগাওয়াট এবং ৩নং ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। কিন্তু দায়িত্বহীনতার কারণে ২নং ইউনিটটি প্রায় চার বছর ধরে বন্ধ। ২০২০ সালের নভেম্বরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি বন্ধ হয়ে গেলে, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, পিডিবি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় মেরামতের পদক্ষেপ নেয়নি। এর ফলে ১নং ও ৩নং ইউনিট চালু থাকলেও মোট উৎপাদন ছিল ২৬০–২৮০ মেগাওয়াট, যা নির্ধারিত ৪০০ মেগাওয়াটের চেয়ে কম।

সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ৩নং ইউনিটের গভর্নর ভাল্ব স্টিম সেন্সরের চারটি টারবাইন নষ্ট হয়ে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর রোববার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে ১নং ইউনিটের বয়লারের টিউব ফেটে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। এই কারণে কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল পরিচালনা করছে। পাঁচ বছরের চুক্তি মোতাবেক, এ বছর তাদের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হবে। চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন সচল রাখতে ছোট ধরনের মেরামত ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করতে হবে, কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। জোড়াতালি মেরামতের কারণে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে।

একই সূত্র জানায়, প্রতিটি ইউনিট সচল রাখতে দুটি করে ইলেকট্রো হাইড্রোলিক অয়েল পাম্পের প্রয়োজন। তবে ২০২২ সাল থেকে ৩নং ইউনিটের দুটি পাম্পের মধ্যে একটি নষ্ট হয়ে গেছে। একটি পাম্পের মাধ্যমে ইউনিটটি কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও মাঝে মাঝে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করেছে, কিন্তু তারা কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, ১নং ইউনিট মেরামত করতে কমপক্ষে সাতদিন সময় লাগবে। এছাড়া ৩নং ইউনিটটি মেরামত শেষে চালু করার মুহূর্তে আবারও নতুন তিন-চারটি সমস্যা দেখা দিয়েছে। চীনা ঠিকাদার এখনও ত্রুটি চিহ্নিত করতে পারেনি, এবং বড় ধরনের মেরামত সময় সাপেক্ষ।

এই পরিস্থিতিতে পাবর্তীপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ঘরে ঘরে লোডশেডিং চলছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, স্কুল, হাসপাতাল এবং সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ না থাকার কারণে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে সমস্যার মুখে পড়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দ্রুত মেরামত না করলে আগামী সপ্তাহগুলোতে উত্তরের জেলাগুলিতে আরও তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে।

বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ মেরামত কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে চেষ্টা করছে, তবে তা পুরোপুরি সচল হওয়ার জন্য কয়েকদিন সময় লাগবে। Meanwhile, উত্তরাঞ্চলের মানুষকে লোডশেডিংয়ের দীর্ঘ সময় সহ্য করতে হচ্ছে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত