কমিশন কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না: সিইসি নাসির উদ্দিন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৬ বার
কমিশন কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না: সিইসি নাসির উদ্দিন

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন কমিশন কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। তিনি বলেছেন, নির্বাচন হবে সংবিধান ও আইনের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর ইচ্ছানুযায়ী নয়। বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, “কমিশনের কাজ হচ্ছে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনের আয়োজন করা। আমরা সেই দায়িত্ব পালন করছি এবং করবও। কোনো প্রকার রাজনৈতিক, প্রশাসনিক কিংবা আন্তর্জাতিক চাপের কাছে আমরা মাথা নত করব না। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন কারও বিপক্ষে নয়, আবার কারও পক্ষেও নয়। আমরা চাই সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক, যাতে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে কেউ যদি অংশ না নেয়, সেটি তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত—সেটি নিয়ে কমিশনের করার কিছু নেই।”

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সিইসি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সংবিধানে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। আমরা সেই সীমার মধ্যেই কাজ করছি। কেউ যদি মনে করেন কমিশনকে প্রভাবিত করা যাবে, তারা ভুল ভাবছেন।”

তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ইভিএম প্রস্তুতকরণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সিইসি বলেন, “আমরা চাই নির্বাচনের দিন যেন জনগণ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

সিইসি আরও বলেন, “জনগণের আস্থা অর্জন করা ছাড়া নির্বাচনের কোনো অর্থ হয় না। তাই আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে সবাই বিশ্বাস করবে যে তাদের ভোটের মূল্য আছে এবং সেই ভোটই ফল নির্ধারণ করবে।”

এ সময় তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান, “সবাই যেন সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ করে। ঘৃণা, হুমকি বা অপপ্রচার দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা ঠিক নয়। বিরোধিতা থাকতে পারে, কিন্তু সেটি হতে হবে নীতির ভিত্তিতে।”

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “আমরা পর্যবেক্ষকদের স্বাগত জানাই। তারা যাতে স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিদেশি পর্যবেক্ষক মানেই বিদেশি হস্তক্ষেপ নয়—এটা সবাইকে বুঝতে হবে।”

কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা নিয়মিতভাবে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। প্রযুক্তিনির্ভর ভোট গ্রহণে যে জটিলতা থাকতে পারে, সেগুলোর সমাধানও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। এবার আমরা চাই প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বজায় থাকুক।”

তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “নির্বাচন কমিশন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, কোনো ব্যক্তি বা সরকারের কাছে নয়। আমরা গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি মজবুত করতে কাজ করছি। কেউ যদি মনে করে হুমকি বা প্রভাব খাটিয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যাবে, তারা ভুল ভাবছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিইসির এই বক্তব্য মূলত নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার বার্তা পুনর্নিশ্চিত করারই অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দল কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও কমিশনের এমন অবস্থান নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এমন প্রেক্ষাপটে সিইসির এই স্পষ্ট ঘোষণা সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও এক ধরনের আস্থার বার্তা বয়ে এনেছে। অনেকের আশা, এবার হয়তো সত্যিই একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—যেখানে জনগণের ভোটই হবে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একমাত্র চাবিকাঠি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত