প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সিলেট অঞ্চলে রাজনৈতিক অঙ্গন ধীরে ধীরে এখন জমে যাচ্ছে , বিশেষ করে সিলেট-১ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানান জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে আজ থেকে সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিএনপির সাবেক মেয়র এবং বর্তমানে বহাল থাকা মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচনি প্রচারণা কার্যক্রম শুরু হতে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের একাধিক এলাকায় জনসমাগম, পোস্টার ও ব্যানারে তাঁর পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা থেকে রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনার জন্ম নিয়েছে—তাহলে কি তিনি দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ‘গ্রীন সিগন্যাল’ পেয়েছেন?
দীর্ঘদিন ধরে সিলেট মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত আরিফুল হক চৌধুরী। তিনিই সিলেট সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় মেয়রদের একজন হিসেবে বিবেচিত। ২০১৩ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রতীকে জয়লাভ করে মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। চলমান স্থানীয় প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি সম্প্রতি তাঁকে দেখা গেছে বিভিন্ন গণসংযোগমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে, যা অনেকের কাছে নির্বাচনি প্রচারণার পূর্বাভাস হিসেবে মনে হয়েছে।
আজ বুধবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর সমর্থকরা প্রচারণামূলক পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করেছেন। দুপুরে কুমারপাড়ায় এক গণসংযোগ কর্মসূচিতে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে “ভবিষ্যৎ সংসদ সদস্য” হিসেবে সম্বোধন করায় সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়। অনেকেই মনে করছেন, দলীয় উচ্চপর্যায় থেকে হয়তো ইতোমধ্যে মৌখিক সম্মতি পেয়েছেন আরিফুল হক, যা তাঁকে নির্বাচনি প্রস্তুতিতে আরও উৎসাহিত করছে।
তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেটের কোনো আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবুও স্থানীয়ভাবে মাঠ পর্যায়ে যেভাবে আরিফুল হকের নাম ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় তাঁর অবস্থান বেশ শক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএনপির সিলেট মহানগর শাখার এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দল এখন প্রার্থী বাছাইয়ের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় আছে। তবে মাঠপর্যায়ের জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতার বিবেচনায় আরিফুল হক চৌধুরীর নাম শীর্ষ তালিকায় রয়েছে। তাঁর জনপ্রিয়তা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তাঁকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রেখেছে।”
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সিলেট-১ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্ববহ একটি আসন, যেখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লড়াই সব সময়ই তীব্র হয়। সর্বশেষ নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হলেও বিএনপির ভোটার ঘাঁটি এখনো অটুট রয়েছে। ফলে আরিফুল হক চৌধুরীর মতো জনপ্রিয় প্রার্থী মাঠে নামলে এই আসনে এক নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
নির্বাচনি পরিবেশে তাঁর প্রচারণা নিয়ে জানতে চাইলে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “আমি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থিতা ঘোষণা করিনি। আমি দলের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। তবে জনগণের সঙ্গে সব সময় ছিলাম, আছি, থাকব। তাঁরা যদি আমাকে চান, আমি প্রস্তুত।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, তাঁর সাম্প্রতিক গণসংযোগে হাজারো সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা অনেকের মতে তাঁর ভবিষ্যৎ প্রার্থিতা নিয়ে জনগণের ইতিবাচক মনোভাবেরই প্রতিফলন।
তবে বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আরিফুল হকসহ সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থীকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। শিগগিরই কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে।”
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আরিফুল হক যদি দলের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হন, তবে সিলেট-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে হাড্ডাহাড্ডি। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে এখনো তাঁর জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ণ, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর প্রতি আস্থা রয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সিলেট-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরিফুল হক চৌধুরীর নাম এখন সবচেয়ে আলোচিত। আনুষ্ঠানিক প্রার্থীতা ঘোষণা না হলেও তাঁর প্রচারণা, জনসম্পৃক্ততা ও জনসমর্থনের ধারাবাহিকতা দেখে অনেকেই বলছেন—তিনি হয়তো দলের ‘গ্রীন সিগন্যাল’ পেয়ে গেছেন, এবং সিলেট এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে একটি তুমুল নির্বাচনি লড়াইয়ের জন্য।