ওষুধের দামে বৈশ্বিক বৈষম্য: তদন্তে ট্রাম্পের নির্দেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৮ বার
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বৈশ্বিক ওষুধবাজারে মূল্য বৈষম্য নিয়ে কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশি ওষুধ কোম্পানিগুলোর মূল্য নির্ধারণের নীতিমালা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যায্য কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসন একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ৩০১ অনুযায়ী এই তদন্ত পরিচালিত হবে। এতে দেখা হবে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলো প্রকৃত মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করছে কি না, নাকি নিজেদের বাজারে কম দামে বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তি দাম আদায় করছে। এই আইনের অধীনে তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী হোয়াইট হাউস চাইলে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদী নীতি’-রই ধারাবাহিকতা, যা আগেও বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। তাঁর প্রশাসনের নীতির ফলে একসময় চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়, যার প্রভাব পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এশিয়ার দেশগুলোর ওপরও পড়ে। এমনকি মিত্র দেশগুলোর পণ্যের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র অতীতে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করেছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ প্রেসক্রিপশন ওষুধের জন্য বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে। গবেষণা বলছে, একই ওষুধের দাম যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপ বা কানাডার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। উদাহরণ হিসেবে ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেন, “লন্ডনে একটি ওষুধ ১৩০ ডলারে কেনা যায়, কিন্তু নিউইয়র্কে সেই একই ওষুধ কিনতে লাগে ১,৩০০ ডলার।” ট্রাম্পের দাবি, বিদেশি সরকারগুলো নিজ নিজ বাজারে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করে রাখে, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর ওপর এর বাড়তি চাপ পড়ে। এজন্য তিনি মনে করেন, এই মূল্যনীতি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করছে। এই বৈষম্য মোকাবিলায় ট্রাম্প এ বছরের শুরুর দিকে ১৭টি বড় ওষুধ কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের কাছে চিঠি পাঠান, যেখানে তিনি নির্দেশ দেন—যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দাম যেন অন্যান্য উন্নত দেশের সঙ্গে সমান পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়। এরপর গত মাসে তিনি আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ওষুধ কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কারখানা স্থাপন না করে, তবে আমদানিকৃত ব্র্যান্ডেড ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। যদিও সেই শুল্ক এখনও কার্যকর হয়নি, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে কোম্পানিগুলোর ওপর তাৎক্ষণিক চাপ না দিয়ে কিছু সময় দেওয়া হবে। উদ্দেশ্য হলো—তাদের যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন সম্প্রসারণে উৎসাহিত করা এবং ধীরে ধীরে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমানো। এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই তদন্ত পদক্ষেপকে অনেকেই রাজনৈতিক কৌশল বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রেসক্রিপশন ওষুধের উচ্চমূল্য নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প পুনরায় জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও এখনো পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, ওষুধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছে, এই তদন্তের ফলাফল যদি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে নতুন শুল্ক আরোপের দিকে গড়ায়, তাহলে বিশ্বব্যাপী ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ কেবল প্রেসক্রিপশন ওষুধের দামকেই নয়, বরং পুরো বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোকেও প্রভাবিত করতে পারে। কারণ, এক দেশের দাম নিয়ন্ত্রণ নীতি অন্য দেশের উৎপাদন খরচ, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং বাজার ভারসাম্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক আরোপের পথে এগোয়, তবে তা আবারও এক নতুন “বাণিজ্য যুদ্ধের অধ্যায়” খুলে দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে। একটি বাংলাদেশ অনলাইন

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বৈশ্বিক ওষুধবাজারে মূল্য বৈষম্য নিয়ে কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশি ওষুধ কোম্পানিগুলোর মূল্য নির্ধারণের নীতিমালা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যায্য কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসন একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ৩০১ অনুযায়ী এই তদন্ত পরিচালিত হবে। এতে দেখা হবে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলো প্রকৃত মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করছে কি না, নাকি নিজেদের বাজারে কম দামে বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তি দাম আদায় করছে। এই আইনের অধীনে তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী হোয়াইট হাউস চাইলে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের ‘অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদী নীতি’-রই ধারাবাহিকতা, যা আগেও বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। তাঁর প্রশাসনের নীতির ফলে একসময় চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়, যার প্রভাব পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এশিয়ার দেশগুলোর ওপরও পড়ে। এমনকি মিত্র দেশগুলোর পণ্যের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র অতীতে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করেছিল।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ প্রেসক্রিপশন ওষুধের জন্য বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে। গবেষণা বলছে, একই ওষুধের দাম যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপ বা কানাডার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। উদাহরণ হিসেবে ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেন, “লন্ডনে একটি ওষুধ ১৩০ ডলারে কেনা যায়, কিন্তু নিউইয়র্কে সেই একই ওষুধ কিনতে লাগে ১,৩০০ ডলার।”

ট্রাম্পের দাবি, বিদেশি সরকারগুলো নিজ নিজ বাজারে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করে রাখে, অথচ যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর ওপর এর বাড়তি চাপ পড়ে। এজন্য তিনি মনে করেন, এই মূল্যনীতি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করছে।

এই বৈষম্য মোকাবিলায় ট্রাম্প এ বছরের শুরুর দিকে ১৭টি বড় ওষুধ কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের কাছে চিঠি পাঠান, যেখানে তিনি নির্দেশ দেন—যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দাম যেন অন্যান্য উন্নত দেশের সঙ্গে সমান পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়। এরপর গত মাসে তিনি আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ওষুধ কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কারখানা স্থাপন না করে, তবে আমদানিকৃত ব্র্যান্ডেড ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে

যদিও সেই শুল্ক এখনও কার্যকর হয়নি, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে কোম্পানিগুলোর ওপর তাৎক্ষণিক চাপ না দিয়ে কিছু সময় দেওয়া হবে। উদ্দেশ্য হলো—তাদের যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন সম্প্রসারণে উৎসাহিত করা এবং ধীরে ধীরে অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমানো।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই তদন্ত পদক্ষেপকে অনেকেই রাজনৈতিক কৌশল বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রেসক্রিপশন ওষুধের উচ্চমূল্য নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প পুনরায় জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও এখনো পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, ওষুধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছে, এই তদন্তের ফলাফল যদি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে নতুন শুল্ক আরোপের দিকে গড়ায়, তাহলে বিশ্বব্যাপী ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ কেবল প্রেসক্রিপশন ওষুধের দামকেই নয়, বরং পুরো বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোকেও প্রভাবিত করতে পারে। কারণ, এক দেশের দাম নিয়ন্ত্রণ নীতি অন্য দেশের উৎপাদন খরচ, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং বাজার ভারসাম্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক আরোপের পথে এগোয়, তবে তা আবারও এক নতুন “বাণিজ্য যুদ্ধের অধ্যায়” খুলে দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত