প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানীর তোপখানা রোডে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও নির্বাচনী ঐক্য: ক্ষমতা না জনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বিপ্লব হিসেবে স্বীকার করতে চাইছে না বলে মন্তব্য করেছেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘স্ট্যাবলিশমেন্ট ভেঙে যাওয়ার ভয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলো এটিকে বিপ্লব হিসেবে মানতে চায় না। কারণ বিপ্লবের প্রকৃত চরিত্র হলো বিদ্যমান শাসন ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করা। এটি হলে তাদের যে ক্ষমতা আছে, তা চলে যায়।’
আলোচনা সভায় মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে সারা দেশে যে মাত্রায় গণআন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল, তা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সংগ্রামের পর থেকে এমন নজির আর দেখা যায়নি। তিনি দাবি করেন, “আন্দোলনের সময় বিভিন্ন এলাকায় মানুষ শহীদ হয়েছেন। রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিম, কুমিল্লায় ৩৯ জন শহীদ হয়েছেন। উত্তরায়, যাত্রাবাড়ীতে মানুষ শহীদ হয়েছেন। এই ঘটনা তুলে ধরলে এটা স্পষ্ট যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে উপেক্ষা করে কেউ সত্যিকার বিপ্লবকে মানতে পারবে না।”
আলোচনা সভার আয়োজন ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশ এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি করেছে। অনুষ্ঠানে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্ব করেন, আর অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র শাহরিন সুলতানা ইরা।
সভায় বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম, আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সদস্যসচিব আরেফিন মুহাম্মদ হিজবুল্লাহ এবং প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
মাহমুদুর রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে, বড় রাজনৈতিক দলগুলো স্থায়িত্ব ও ক্ষমতার ভয়ে জনগণের গণঅভ্যুত্থানকে বিপ্লব স্বীকার করতে পিছপা হচ্ছে। তার মতে, জুলাই আন্দোলনের সময়কার শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা করলে এটি অবশ্যই বিপ্লবের পর্যায়ে পড়ে।
তিনি আরো বলেন, “যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আমরা বিপ্লব না বলি, তাহলে আসলে বিপ্লব কি? স্বাধীনতা বা সামাজিক পরিবর্তনের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করা হয়, তা কোথায় পরিমাপ করা হবে?” মাহমুদুর রহমানের এই বক্তব্যে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভা থেকে বেরিয়ে আসে স্পষ্ট বার্তা যে, দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা সংরক্ষণের স্বার্থে জনসাধারণের গণআন্দোলনের গুরুত্বকে স্বীকার করতে অনীহা প্রকাশ করছে। অন্যদিকে, স্থানীয় ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, জনগণের গণআন্দোলনের ইতিহাসকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক দলগুলো আগামী নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ঝুঁকিতে পড়তে পারে।