সিলেটে ফুটপাতে হাঁটার জায়গা চাওয়ায় হামলার শিকার শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী, এক কিশোর গ্রেপ্তার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭০ বার
 সিলেটে ফুটপাতে হাঁটার জায়গা চাওয়ায় হামলার শিকার শাবিপ্রবি শিক্ষার্থী, এক কিশোর গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার এলাকায় ফুটপাতে হাঁটার জায়গা চাওয়াকে কেন্দ্র করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী হামলার শিকার হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, তবে আরও দুইজন অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দিকে। আহত শিক্ষার্থী মো. জাকারিয়া, শাবিপ্রবির রসায়ন বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তিনি নিয়মিত টিউশনি শেষে প্রতিদিনের মতো ওই রাতে লামাবাজারের দিকে হাঁটছিলেন। কিন্তু রিকাবীবাজার পয়েন্টের কাছে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিশোরের কারণে চলাচলে অসুবিধা হওয়ায় জাকারিয়া তাঁকে সরে দাঁড়াতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কিশোরটি তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। জাকারিয়া প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

প্রবাসীদের জন্য এনবিআরের নতুন সুবিধা

মুহূর্তের মধ্যে ওই কিশোরের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন এগিয়ে আসে এবং জাকারিয়ার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। লাঠি, লাথি ও ঘুষির আঘাতে তাঁর মুখ ও মাড়ি ফেটে যায়। স্থানীয় লোকজন জাকারিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানান, তাঁর মুখমণ্ডল ও মুখের ভেতরে গভীর ক্ষত হয়েছে, যা থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত হলেও শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন।

এই ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী মো. জাকারিয়া নিজেই বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সেই কিশোরকে, যিনি প্রথমে তর্কে জড়ান। অন্য দুই আসামি সাফু (২৪) ও সালমান (২৫), দুজনই স্থানীয় যুবক বলে জানা গেছে। সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। তবে বাকিদের এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ফুটপাতে চলাচল নিয়ে তুচ্ছ বিষয় থেকে এই ঘটনাটি ঘটে গেছে। আমরা ইতিমধ্যে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছি, বাকি দুজনকে ধরতে অভিযান চলছে।” তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি পরিকল্পিত নয়, বরং হঠাৎ উত্তেজনা থেকেই সহিংসতা সৃষ্টি হয়।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর বেলাল শিকদার বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। একজন শিক্ষার্থী শুধু ফুটপাতে হেঁটে যাওয়ার সময় মারধরের শিকার হয়েছেন—এটি কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। আমরা আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছি।” তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং ও অনিয়ন্ত্রিত পথচারী চলাচলের কারণে জটিল অবস্থায় রয়েছে। অনেক জায়গায় হকার ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন, ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে চলাচল করছেন। এতে প্রায়ই ছোটখাটো সংঘর্ষ বা ঝগড়ার ঘটনা ঘটছে।

নগরবাসীর একাংশ বলছে, ফুটপাত জনগণের হাঁটার জায়গা, কিন্তু এখন তা দখল হয়ে পড়েছে অবৈধ দোকান ও গাড়ি পার্কিংয়ে। এতে সাধারণ মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। “জাকারিয়ার মতো একজন শিক্ষার্থী শুধু নিজের হাঁটার জায়গা চাওয়ায় রক্তাক্ত হলেন—এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র,” বলছেন স্থানীয় সমাজকর্মী রাশেদা পারভীন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সদস্য বলেন, “এই ধরনের হামলা প্রতিদিনই ঘটছে, তবে অনেক সময় ভুক্তভোগীরা মামলা করেন না। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এই ঘটনাটি একটি বার্তা হওয়া উচিত যে, ফুটপাতের অধিকার কারও দখলে নয়।”

ঘটনার পর শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, একজন সাধারণ নাগরিকের ফুটপাতে হাঁটার অধিকার রয়েছে, সেখানে হামলার ঘটনা প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রতিফলন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার সব ব্যয়ভার বহন করবে তারা। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা হবে।

হাসিনাসহ তিনজনের বিচারকাজ শেষ: রায়ের দিন ১৩ নভেম্বর

এই হামলার ঘটনা আবারও সামনে এনে দিয়েছে নগরজীবনের একটি মৌলিক সমস্যা—ফুটপাতের দখল ও নিরাপত্তাহীনতা। নাগরিক অধিকার ও জননিরাপত্তা রক্ষায় সিলেট নগর কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

এই ঘটনার পর সিলেটের শিক্ষার্থী, নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো একত্রে দাবি তুলেছে—ফুটপাত শুধু পথচারীদের জন্যই, এবং এর দখল বা অপব্যবহার বন্ধ করতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত