ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে রাজধানীসহ সারা দেশে বিক্ষোভে উত্তাল তৌহিদী জনতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৪ বার
ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে রাজধানীসহ সারা দেশে বিক্ষোভে উত্তাল তৌহিদী জনতা

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশজুড়ে সহিংসতা, হত্যা, অপহরণ ও দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) নিষিদ্ধের দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে তৌহিদী জনতা। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরসহ দেশের নানা স্থানে হাজারো মানুষ এ দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে “ইন্তিফাদা বাংলাদেশ” নামের একটি সংগঠন বড় আকারের সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা ইসকনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরে সংগঠনটি নিষিদ্ধের জোর দাবি জানান। বক্তারা অভিযোগ করেন, ইসকন বাংলাদেশে বারবার ধর্মীয় উসকানি, নারী নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। তারা বলেন, “ইসকনের কর্মকাণ্ড শুধু ধর্মীয় অবমাননাই নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।”

প্রবাসীদের জন্য এনবিআরের নতুন সুবিধা

সমাবেশে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন নেতারা। এর মধ্যে প্রথম দাবিতে বলা হয়, গাজীপুরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগকে প্রকাশ্যে স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভিকটিমের প্রতি দোষারোপ বন্ধ করতে হবে। পুলিশ প্রশাসনের আচরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ঘটনাটিতে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

দ্বিতীয় দাবিতে উল্লেখ করা হয়, টঙ্গী এলাকায় সংঘটিত অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বক্তারা দাবি করেন, এসব ঘটনায় ইসকনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে, যা রাষ্ট্রীয়ভাবে তদন্ত করা জরুরি।

তৃতীয় দাবিতে বক্তারা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে “কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ” এবং ইসলামবিরোধী মনোভাব রোধে একটি জাতীয় নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান। তাদের মতে, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামকে হেয়প্রতিপন্ন করার প্রবণতা রোধে রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা থাকা উচিত।

চতুর্থ দাবিতে বলা হয়, মুসলিম নারীর সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা অভিযোগ করেন, “দেশে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনায় ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করা হচ্ছে, অথচ আইন প্রয়োগে গাফিলতি দেখা যাচ্ছে।”

শেষ দাবিতে তারা বলেন, ইসলামবিদ্বেষ-বিরোধী কর্মকাণ্ডে যারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন, সেই ইমাম, নাগরিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় নেতাদের ওপর হামলা এবং হয়রানির ঘটনায় সরকারের নীরবতা উদ্বেগজনক।

রাজধানীর পাশাপাশি সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রাজশাহী ও খুলনাতেও একই দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এসব স্থানে স্থানীয় মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে মিছিল বের হয়ে প্রধান সড়কগুলোতে অবস্থান নেয়। মিছিলে বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠনের ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার দেখা যায়, যেখানে লেখা ছিল “ইসকন নিষিদ্ধ করো”, “ইসলামবিদ্বেষ বন্ধ করো” এবং “নারী নির্যাতনের বিচার চাই”।

চট্টগ্রামের জেএমসেন রোডে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, “ইসকন নামের এই সংগঠনটি ধর্মীয় সহনশীলতার মুখোশ পরে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে। রাষ্ট্রের উচিত অবিলম্বে তাদের কর্মকাণ্ডের বিচার করা।” তারা আরও দাবি করেন, বাংলাদেশে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হলে ইসকনের মতো বিতর্কিত সংগঠনের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে।

ঢাকায় বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এক পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ বেষ্টনী তৈরি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও কিছু এলাকায় সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলেছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইসকনকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তা ধর্মীয় সংবেদনশীলতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। অনেকেই মনে করছেন, ধর্মীয় সংগঠনগুলো এখন সরকারের কাছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “ইসকন নিষিদ্ধের দাবিটি কেবল একটি ধর্মীয় প্রতিবাদ নয়, বরং এটি সমাজে ধর্মীয় প্রভাব ও রাষ্ট্রীয় নীতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নকেও সামনে এনেছে। সরকার যদি সংলাপের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি সামাল না দেয়, তাহলে এটি বড় ধরনের সামাজিক বিভাজনে রূপ নিতে পারে।”

অন্যদিকে, ইসকন কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সংগঠনের ঢাকা কার্যালয়ের এক সদস্য গণমাধ্যমকে জানান, তারা অভিযোগগুলোকে “ভিত্তিহীন” মনে করছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইসকন নিষিদ্ধের দাবিটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ ধর্মীয় অনুভূতির পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছেন, আবার অনেকে বলছেন, একটি ধর্মীয় সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।

তবে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মাত্রা দেখে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যদি সরকার দ্রুত কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এই ইস্যু আরও বড় রাজনৈতিক রূপ নিতে পারে, যা দেশের সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখার আহ্বান জানিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে ভারসাম্যপূর্ণ ও সংলাপনির্ভর পদক্ষেপ নিতে হবে—যাতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক শান্তি উভয়ই বজায় থাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত