দ্বিতীয় মৌসুমেই কি স্লটের লিভারপুলের দম ফুরিয়ে গেল?

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪২ বার
দ্বিতীয় মৌসুমেই কি স্লটের লিভারপুলের দম ফুরিয়ে গেল?

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫।  একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টানা পরাজয়ের ভার যেন আর সামলাতে পারছে না আর্নে স্লটের লিভারপুল। এক সময় যে দলটা ছিল ইউরোপীয় ফুটবলে আগ্রাসী খেলার প্রতীক, সেই দলই এখন যেন ভেঙে পড়েছে আত্মবিশ্বাসহীনতায়। টানা চার ম্যাচ হারের পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তাদের অবস্থান নেমে গেছে ছয় নম্বরে। চ্যাম্পিয়নশিপের পথে থাকা আর্সেনালের থেকে চার পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা এই দলটির অবস্থা এখন সত্যিই চিন্তার।

রোববার ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে ৩-২ গোলে হেরে আবারও শিরোপার দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছে লিভারপুল। ম্যাচের শুরু থেকেই তারা ছিল ছন্নছাড়া। রক্ষণে বারবার ভুল, মাঝমাঠে ছন্দহীনতা, আর আক্রমণে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে একসময়কার ভয়ঙ্কর লিভারপুলকে চিনতেই পারছিল না সমর্থকেরা।

এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয়ে যেন কিছুটা আশার আলো দেখেছিল অ্যানফিল্ডের দলটি। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে জয়ের পর যে লিভারপুলকে দেখে মনে হয়েছিল ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে সেই লিভারপুলই আবার পুরনো দুর্বলতায় জর্জরিত।

ম্যাচের মাত্র পাঁচ মিনিটেই প্রথম গোল হজম করে দলটি। ব্রেন্টফোর্ডের দাঙ্গো ওয়াত্তারা বক্সের ভেতরে এক দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করে এগিয়ে দেন দলকে। এরপর ৪৫ মিনিটে কেভিন শাডের গোল লিভারপুলকে আরও চাপে ফেলে। বিরতির আগে মিলোস কেরকেজ গোল করে ব্যবধান কমালেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি লিভারপুল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এক বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে ইগর থিয়াগো গোল করে লিড বাড়িয়ে দেন ব্রেন্টফোর্ড। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মোহাম্মদ সালাহর গোল লিভারপুলকে খানিকটা আশা দিলেও সেটি ছিল কেবল সান্ত্বনা।

এই হারে পয়েন্ট টেবিলে লিভারপুলের অবস্থান এখন ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ। শীর্ষে থাকা আর্সেনাল যদি পরের ম্যাচে জয় পায়, তবে দুই দলের ব্যবধান বেড়ে যাবে সাত পয়েন্টে। অর্থাৎ শিরোপার দৌড়ে টিকে থাকতে হলে স্লটের দলকে এখনই ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

লিভারপুলের এই পতনের পেছনে বিশ্লেষকরা খুঁজছেন নানা কারণ। প্রথমত, দলের রক্ষণভাগে সমন্বয়ের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে। ভার্জিল ফন ডাইক ও কনাতে—এই দুই ডিফেন্ডারের পারফরম্যান্সে আর আগের ধার নেই। মাঝমাঠে ডোমিনিক শবোস্লাই কিংবা ম্যাক অ্যালিস্টাররা ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছেন না। আক্রমণে সালাহ এখনো লড়াই করছেন, কিন্তু একার প্রচেষ্টায় তিনি দলের দুরবস্থা কাটাতে পারছেন না।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আর্নে স্লটের কৌশল হয়তো ইংলিশ লিগের প্রতিপক্ষরা এখন মুখস্ত করে ফেলেছে। প্রথম মৌসুমে তার ট্যাকটিকস দিয়ে প্রতিপক্ষকে চমকে দিয়েছিলেন, কিন্তু দ্বিতীয় মৌসুমে সেই জাদু আর কাজ করছে না। প্রতিপক্ষরা এখন জানে, লিভারপুলকে থামানোর উপায় কীভাবে খুঁজে বের করতে হয়।

ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ম্যাচের বিতর্কিত মুহূর্ত নিয়েও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দাঙ্গো ওয়াতারাকে ফন ডাইক বক্সের বাইরে ফাউল করেছিলেন বলে মনে হলেও, ভিডিও রিভিউতে দেখা যায় ফাউলটি ঠিক বক্সের লাইনে। ফলে রেফারি পেনাল্টি দেন এবং ব্রেন্টফোর্ড সেখান থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর আগে কোডি গাকপোর ওপর নাথান কলিন্সের ফাউল নিয়েও লিভারপুলের খেলোয়াড়রা পেনাল্টির দাবি তোলেন, কিন্তু রেফারি সেটি নাকচ করে দেন। এতে উত্তেজনা চরমে ওঠে মাঠে। ফন ডাইক ও শবোস্লাইকে দেখা যায় রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়াতে।

ফুটবল বোদ্ধারা বলছেন, লিভারপুলের সমস্যা শুধু মাঠে নয়, মানসিকভাবেও দলটি ভেঙে পড়েছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে আগের সেই আগ্রাসন বা একে অপরের প্রতি আস্থা দেখা যাচ্ছে না। একসময় যে দলটি শেষ মুহূর্তেও ম্যাচ জেতার বিশ্বাস রাখত, এখন তারা হারের আশঙ্কায়ই মাঠে নামে।

প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাস বলছে, কোনো দল টানা চার ম্যাচ হারলে শিরোপা জেতা প্রায় অসম্ভব। যদিও এখনও মৌসুমের অনেক বাকি, তবু স্লটের দলের খেলার ধরণ দেখে মনে হচ্ছে তারা হয়তো এবার শিরোপা ধরে রাখতে পারবে না।

জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাসেম আলী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অনেক আলেম-ওলামাকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

লিভারপুলের এক সময়কার স্বপ্নের মৌসুমটা এখন স্মৃতির পাতায়। গেল মৌসুমে যেখানে তারা ছিল অপরাজেয়, এবার সেই দলের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে বিভ্রান্তি আর হতাশা। নতুন মৌসুমের শুরুতে যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে দল সাজানো হয়েছিল, সেই প্রত্যাশা পূরণে এখন বড় প্রশ্নের মুখে আর্নে স্লট।

খেলোয়াড় বদলের সময়ও তার কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে দলবদলে বেশ কিছু নতুন মুখ এলেও তারা কেউই এখনো নিজের ছাপ রাখতে পারেননি। রায়ান গ্রাভেনবার্গ, ম্যাক অ্যালিস্টার, এমনকি জাপানি তারকা এন্ডোও দলকে আগের ধারায় ফিরিয়ে আনতে পারেননি। ফলে মধ্যমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে লিভারপুল, যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে প্রতিটি ম্যাচেই।

এখন প্রশ্ন একটাই—দ্বিতীয় মৌসুমেই কি স্লটের লিভারপুলের দম ফুরিয়ে গেল? নাকি সময়ের সঙ্গে আবার ঘুরে দাঁড়াবে তারা? উত্তরটা পেতে ফুটবলপ্রেমীদের হয়তো আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু একটাই সত্য, যদি লিভারপুল খুব দ্রুত নিজেদের ছন্দে না ফেরে, তবে প্রিমিয়ার লিগে তাদের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন হয়তো এই অক্টোবরেই ফুরিয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত