প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানীর সচিবালয়ে এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উল্লেখযোগ্য দাবি-দাওয়া করেন। তিনি সংবাদিদের সামনে বলেন, “অনেকেই আমাদের কাছে নানান ধরনের আবদার ও তদবির নিয়ে আসেন। আমরা এগুলো রক্ষা করতে না পারায় আমাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও মিথ্যা অপপ্রচার করা হয়। পুলিশ ও কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন এখানে হয় যোগ্যতার ভিত্তিতে ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে।” এছাড়া নির্বাচনের জন্য লেভেল-প্লেইং ফিল্ড প্রস্তুত রয়েছে এবং তিনি মোবাইল নম্বর নিবন্ধন ও সিম-কার্ড সংক্রান্ত নতুন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন, যা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে।
উপদেষ্টা ওই দিনে করেন জনপ্রাসঙ্গিক কিছু বিবৃতি। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি জানান, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী একজন মোবাইল গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)-এর বিপরীতে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম নিবন্ধন করতে পারে; আগামী ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের পর প্রতিপক্ষ ১০টিতে নামিয়ে আনা হবে। এরপর নির্বাচনের আগে গ্রাহক প্রতি সিমের সংখ্যা আরও কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “একজনের সিমকার্ড ব্যবহার করে অন্যজন অপরাধ করে। এতে প্রকৃত দোষী ব্যক্তি অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। তাই ব্যক্তি-পর্যায় রেজিস্ট্রেশন করা সিমকার্ড কমিয়ে আনা হবে।”
তিনি পরবর্তী কথায় বলেন, “নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি আসে নাই। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে লেভেল প্লেইং ফিল্ড আগেও ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোতে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ ও পদায়ন করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইদানিং আমাদের কর্মকর্তা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা কোনো দলের জন্য নয়, দেশের জন্য ও জনগণের জন্য কাজ করছেন।”
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর সিনিয়র সচিব ড. নাসিমুল গনি, আইজিপি বাহারুল আলম, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তিনি সাংবাদিকদের সামনে আরও বলেন, “বদলি-পোস্টিং ও নিয়োগ ব্যবস্থায় নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে আমাদের নজর রয়েছে; অনিয়ম হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” এছাড়া তিনি উল্লেখ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এই বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে।
এই বিবৃতির উদ্দেশ্য বিচার করলে দেখা যাবে, একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট মুহূর্তে উপদেষ্টার প্রেস কোণস্থল থেকে দেওয়া বার্তাগুলো দেশের জনগণ, রাজনৈতিক দলের উদ্বেগ-প্রত্যাশা এবং নির্বাচন-প্রস্তুতির পটভূমিতে সেট করা হয়েছে। তিনি আবেদন করেছেন, শুধু প্রশাসন-বাহিনীই নয়, রাজনৈতিক দলগুলোকেও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ গড়তে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা নিতে হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশকে তিনি তুলে ধরা চেষ্টা করেছেন।
তবে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম-এর আগে এমন রূপের বক্তব্য ইতিমধ্যে সাংবাদিকদের সামনে দিচ্ছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত বছর তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন – “Publish true and accurate news. When accurate news is published, false news will naturally be exposed”। এছাড়া ২০২৫ সালের জুনে তিনি বলেছিলেন পুলিশের দুর্নীতি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে একটি রিফর্ম প্রকল্প চালু হয়েছে। এই তথ্যগুলো দেখিয়ে দেয় যে তার বক্তব্য শুধু এক-আলাপ নয়, বরং প্রশাসনিক সংস্কার ও নিয়ন্ত্রণ পরিবেশে একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে।
একই সঙ্গে তারা ধারণা দিয়েছেন যে, নির্বাচনকালীন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সিম-কার্ড নিবন্ধন ও ন্যূনতম সিম সীমাবদ্ধতা বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বর্তমান তথ্যভিত্তিতে যদিও ১৫ থেকে ১০ সিম নিবার্দ্ধকরণের বিষয়টি মিডিয়া সারাংশ হিসেবে উঠে আসেছে, তবে সরকারের অফিসিয়াল ঘোষণা বা সংশ্লিষ্ট আইন পরিবর্তনের নির্দেশ এখনও সর্বত্র নিশ্চিতভাবে প্রচারিত হয়নি। তাই একাধিক রাজনৈতিক মনোবল ও মিডিয়া মনিটরিং এই প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে: এই সিম-নিবন্ধন সীমার্ধ কমানোর সিদ্ধান্ত কীভাবে বাস্তবে কার্যকর হবে? সাধারণ গ্রাহক-প্রতিবন্ধিতদের অবস্থা কীভাবে হবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের খোঁজ এখনও মাঠ-পর্যায়ে অপেক্ষমান।
আরওভাবে দেখা গেছে, উপদেষ্টার ভাষ্য অনুসারে “বদলি ও পদায়ন এখানে যোগ্যতার ভিত্তিতে ও নিয়মতান্ত্রিকভাবেই হয়”–এই রোপণযোগ্য দাবিতে বাস্তব প্রেক্ষাপটে আলোচনা রয়েছে। নিয়োগ-বদল কিংবা পোস্টিং-বদলে রাজনৈতিক প্রভাব, তদবির-রিসোর্টিং সিস্টেম বা অনিয়ম-সংক্রান্ত অভিযোগ-সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিডিয়াতে দেখা গেছে। যেমন, একটি সংবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, তার দপ্তরে ‘লবিং’ এখনও প্রাসঙ্গিক রয়েছে – “since his appointment… the number of people claiming to be his relatives and friends has increased significantly—even though he does not know most of them”– এমন মন্তব্যও করেছেন। এই তথ্যমৌলিক ভাবে যেসব দাবি তিনি করছেন সেগুলোর বাস্তবতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
চূড়ান্তভাবে বলা যায়, আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টার দেওয়া বক্তব্য একটি বড়-স্কেলের প্রশাসনিক এবং নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে। এটি শুধুই বিবৃতি নয়; প্রশাসনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার হিসেবে ধরা যেতে পারে। জনগণ, সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক দল-প্রতিষ্ঠান এ কথাকে স্বাগত জানাতে পারে কোনো মূল্যে। তবে একান্তভাবে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করলে বলা যায় যে, দাবি এবং বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে ও এই পার্থক্য তৈরি হয় তথ্যসংকটে এবং অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতায়। সুতরাং এই ধরণের বক্তব্যগুলোর পরবর্তী বাস্তব কার্যকরতা নজরদারি ও অনুসন্ধানের বিষয় হয়ে থাকবে।
আমরা পরবর্তী প্রতিবেদনে দেখব- এই সিম-নিবন্ধন বিধি কীভাবে বাস্তবে umgesetzt হচ্ছে, বদলি-পোস্টিং নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, এবং নির্বাচনের সময় এই লেভেল-প্লেইং ফিল্ড নিয়ে রাজনৈতিক দল-সহ অধিকারভিত্তিক সংগঠন কী প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে।