ফার্মগেট-মতিঝিল মেট্রোরেলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু: পদার্থ খসে পড়ে মৃত্যু ও নিরাপত্তা-উঠছে প্রশ্নচিহ্ন”

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩১ বার
মেট্রোরেল দুর্ঘটনা: বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন, ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকার ব্যস্ততম রুটের এক অংশে আজ সন্ধ্যায় পুনরায় চালু হলো Dhaka Metro Rail (MRT) লাইন‑৬। তবে এই আনন্দের পেছনে রয়েছে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার ছায়া, যা এক সাধারণ পথচলার জীবনের বিদায় ঘটিয়েছে এবং মেট্রোর নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে আলোচনায় তুলেছে।

রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ১২ টা ১৫ মিনিটে ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোর ভারতের ঊর্ধ্বভাগে স্থাপিত একটি বিঅরিং প্যাড (bearing pad) হঠাৎ ছিটকে পড়ে এক পথচারীর মাথায় লেগে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি শারিয়াটপুরের নড়িয়া উপজেলার এক বাসিন্দা। মুহূর্তেই ঘটনাস্থলে বড় এক ধাক্কা অনুভূত হয়, এক চা-দোকানের কাঁচ ভেঙে আহত হয় দুই জন।

এই দুর্ঘটনার পরই সকাল ১২ টা ৩০ মিনিটের দিকে ওই রুট (উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত) মেট্রো চলাচল স্থগিত করা হয়।  এরপর দুপুর ৩ টার দিকে উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও অংশের ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়। এবং সন্ধ্যা ৭ টা ১৫ মিনিটে মতিঝিল থেকে শাহবাগ পর্যন্ত সেসব সেবা চালু করা হয়। তবে আগারগাঁও থেকে শাহবাগ পর্যন্ত পুরো রুট এখনও নিরাপত্তা যাচাই শেষে খোলা হয়নি।

দুর্ঘটনায় তৎক্ষণাৎ জনসাধারণ, সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ও মেট্রো অপারেটর Dhaka Mass Transit Company Limited (DMTCL) সক্রিয় হয়। দুর্ঘটনার পর মেরামতকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের রক্ষণাবেক্ষণ টিম। এদিকে রোড ট্রান্সপোর্ট ও ব্রিজেস মন্ত্রণালয়ের পরামর্শক দুদরফা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই ঘটনায় মেট্রো অপারেটরে যেমন হঠাৎ জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি গতকালের একেবারে নিরবে না ঘটেছে এমন দুর্ঘটনায় প্রথম নজর পড়েছে না। এক ভাষ্য অনুযায়ী, ঠিক এক বছর আগেও সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ একই রুটের পাশেই একটি বিঅরিং প্যাড খসে পড়েছিল, আর সে সময় সে ঘটনা যথেষ্ট বড় ছড়াতেই ইনডিকেটেড হয়েছিল।

উল্লেখ্য, এই বিঅরিং প্যাডগুলি ট্রেন চলাচলের সময় সেতু বা ভায়াডাক্টের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। সিঞ্চরণ ও কম্পন শোষণ, লোড বণ্টন এই সকল কাজ এই খন্ডগুলোর। যদি কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয় অথবা বসান প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকে, তাহলে ভায়াডাক্টের অংশ হেঁচড়ার এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি উর্ধ্বমুখী হয়।

ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া ও চলতি ব্যবস্থা

দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ৫ লাখ টাকার সহযোগিতা দেওয়া হবে– এ রকম ঘোষণা দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপরিচালকের মাধ্যমে। DMTCL কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এ রুটে সেবা চালু রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট মাত্র দুটি স্তূপ (পাইলার)-এর বিয়ারিং প্যাড সঠিকভাবে প্রতিস্থাপন করা অপরিহার্য।

গণপরিবহন-সড়ক মন্ত্রণালয়ের কারিগররা বলছেন, এর আগে দায়বদ্ধ কর্তৃপক্ষ কয়েকবার সতর্ক করেছে যে, এই অংশে ট্রেনের বাঁক রয়েছে এবং বাঁকে অতিরিক্ত চাপে বিয়ারিং খণ্ডগুলোর স্থিতিশীলতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

কিন্তু উৎকণ্ঠার কারণ?

মূল বিষয়টি হলো যে, দৃষ্টিগোচর হয়েছে বেশ কয়েক দফায়:

  • এই রুটেই প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, ফলে কি শুধুই ‘একক দুর্ঘটনা’ বলা যায় না?

  • রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পূর্ণভাবে হয়েছিল কি না, এবং পরিকল্পিত সময়ে মেরামত কাজ হয়েছে কি না– এসব আজ প্রশ্নের মুখে।

  • মেট্রো স্থাপনায় নিরাপত্তা সার্টিফায়েড রয়েছে কি না– বিশেষ করে ভায়াডাক্টের বেল্ট, বিয়ারিং প্যাড বা জোডয়েন্ট অংশে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেট্রো শুরু হওয়ার পর একটি বড় নিরাপত্তা রিভিউ রিপোর্ট জমা পড়েনি।

  • জনসাধারণের হাঁটার পথ ও মেট্রোর সড়কের নিচের অংশের নিরাপত্তা। সরাসরি খসা পড়া অংশটি ফুটপাথে ছিল, যেখানে পথচারী চলাফেরা করছিলেন। পথচারীরা বিনা রূপে ঝুঁকিতে ছিল– এ বিষয়টি গুরুত্ব বহন করে।

যাত্রীদের নিকটবর্তী প্রভাব

রোববার দুপুরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও বা মতিঝিল রোড রুটে তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হয়। গাড়ি ও বাসের সংখ্যা বেড়ে যানজট দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যাত্রীদের সময় ও খরচ উভয়ই বাড়ে। এমন অবস্থায় মেট্রোর নির্ভরযোগ্যতা একবারেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ

চালু হওয়া সত্ত্বেও পুরো রুট এখনও পরীক্ষামূলক ধাপে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন। মেট্রোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন এখন সময়োপযোগী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু দ্রুত মেরামত করেই কাজ শেষ নয়—পরবর্তী দিকে এই ধরণের যন্ত্রাংশ জোরালো প্রকৌশল মান অনুযায়ী প্রস্তুত করা, পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ লোপন করা যাবে না।

উল্লেখযোগ্য যে, মেট্রোরেই নয়—এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক বা স্থাপত্য উপাদান দ্রুত বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। কঠোর রক্ষণাবেক্ষণ চক্র, নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন, এবং সংশ্লিষ্ট কঠোর কারিগরি মানদণ্ড এখানে অপরিহার্য। জনসাধারণের কঠিন ভরসা রাখার জন্য এই ধরনের সেবা ‘নিরবিচ্ছিন্ন, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য’ হতে হবে।

এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজধানীর দ্রুতগতির গণপরিবহন প্রকল্পে এক নজিরবহুল সতর্কবার্তা। আজকের মৃত্যুর ঘটনা শুধু এক ব্যক্তির নয়, একটি সিস্টেম-চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন। সাধারণ পথচলার জীবনের নিরাপত্তা ও জনগণের যাতায়াত-সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট সর্বস্তরের কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বের সঙ্গে সামনের দিকে ধাপে ধাপে কাজ করতে হবে।

আপনি যদি চান, তাহলে এই রুটে এখন কি ধরনের মেরামত সম্পন্ন হয়েছে, অথবা যাত্রীদের জন্য কি নিরাপত্তা বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- সে নিয়েও অনুসন্ধান করা যেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত