প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক বার্তা দিয়ে আবারও তার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করার জন্য। তিনি বলেন, যদি কিম আলোচনায় আগ্রহ দেখান, তিনি দক্ষিণ কোরিয়া সফরের সময়সূচি সামঞ্জস্য করতে এবং বৈঠকের সুযোগ নিতে প্রস্তুত আছেন। ট্রাম্পের এ ঘোষণার মাধ্যমে পুনরায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে।
ট্রাম্প এশিয়ার সফরের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া থেকে জাপান যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উল্লেখ করেন যে, কিমের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এলে তিনি প্রয়োজনমতো তার সফরের সময়সূচি বৃদ্ধি করতে প্রস্তুত। তিনি জানান, যদিও এটি পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার অংশ নয়, তবে বৈঠকের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক মহলে নতুন সম্ভাবনার সাড়া পড়েছে। ট্রাম্প এবং কিমের সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালে, যে বৈঠকটি উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়াকে বিভক্তকারী অসামরিক অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ঐ বৈঠকটি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ। ওই সময় বৈঠকের মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংলাপের ভিত্তি তৈরি হয়।
ট্রাম্প বলেন, তিনি কিমের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং প্রয়োজনে কিমের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে প্রস্তুত আছেন। তিনি আরও বলেন, “উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তি বাস্তবতা স্বীকার করা অপরিহার্য, এবং কিম যদি বৈঠকে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন, আমরা সেই সুযোগকে কাজে লাগাবো।”
অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়া স্পষ্ট করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের পারমাণবিক অবস্থান স্বীকার করে, তখনই বৈঠক সম্ভব। কিম জং উনের দাবি অনুযায়ী, পারমাণবিক শক্তি তাদের নিরাপত্তার অপরিবর্তনীয় ভিত্তি। তাই কিমের শর্ত পূরণ ছাড়া কোনো আলোচনার সম্ভাবনা নেই।
ট্রাম্পের এশিয়া সফরের সময়সূচি অনুযায়ী, তিনি বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছবেন। সেখানে তিনি এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের সিইও মধ্যাহ্নভোজে বক্তব্য রাখবেন এবং মার্কিন-এপেক নেতাদের নৈশভোজে অংশ নেবেন। পরের দিন তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে এক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। কিমের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক এই সফরের অন্তর্ভুক্ত থাকলেও তা এখনও চূড়ান্ত নয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের কিমের সঙ্গে পুনরায় বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ কূটনৈতিক সংলাপের নতুন ধারা তৈরি করতে পারে। এতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক বিষয়, সাইবার নিরাপত্তা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত আলোচনা পুনরুজ্জীবিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের পদক্ষেপ কূটনৈতিক ক্ষেত্রে কিছুটা অপ্রত্যাশিত হলেও তা দুই দেশের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধিতে কার্যকর হতে পারে।
এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও গুরুত্ব দিয়ে খবরে স্থান দিয়েছে। আনাদোলু এজেন্সি সোমবার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, ট্রাম্প কিমের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী এবং বৈঠকের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন।
সাম্প্রতিককালে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তি ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা বাড়লেও ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক সংলাপের নতুন পথ খুলতে পারে। এর ফলে কিম ও ট্রাম্পের পুরনো সম্পর্ক এবং পূর্ববর্তী বৈঠকের অভিজ্ঞতা উভয় পক্ষকে আরও কার্যকর কূটনৈতিক সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এইভাবে ট্রাম্প আবারও কিমের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা এশিয়ার কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।