সিলেট-কুমারগাঁও-বাদাঘাট চারলেন প্রকল্পে স্থবিরতা: তিন বছরেও শেষ হয়নি কাজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৬ বার
সিলেট-কুমারগাঁও-বাদাঘাট চারলেন প্রকল্পে স্থবিরতা: তিন বছরেও শেষ হয়নি কাজ

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ | সিলেট, বাংলাদেশ
নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সিলেটের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একটি আধুনিক চারলেন সড়ক, যা শহরের যানজট কমিয়ে দেবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নতুন গতি আনবে। ২০২২ সালে শুরু হওয়া কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট ফোর লেন উন্নয়ন প্রকল্প কিন্তু দীর্ঘ তিন বছর পার হয়ে গেলেও এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। জমি অধিগ্রহণের জটিলতা, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং মামলার প্রক্রিয়া প্রকল্পের অগ্রগতিকে ব্যাহত করেছে। এর ফলে স্থানীয়রা এখনও নানা সমস্যার মুখোমুখি, যার মধ্যে আছে ভয়ঙ্কর যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা অস্বস্তি।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাদাঘাট হয়ে কুমারগাঁও পর্যন্ত ১২.৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক প্রকল্পটি ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে শুরু হয়। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার, কিন্তু এখন তা ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জমি অধিগ্রহণের জন্য ৭৭ কোটি টাকা জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ভূমি মালিকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দেওয়ায় কাজ থমকে আছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে চলমান মামলার কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেরিতে পড়েছে।

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

প্রকল্পের আওতায় সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের ছয় কিলোমিটার অংশ কুমারগাঁও বাস স্টেশন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। বাদাঘাট হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত চারলেনের এই সড়কটির মধ্যে ৪.৩ কিলোমিটার এলাকা সওজের মালিকানাধীন হওয়ায় সেখানে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণে জটিলতা প্রকল্পের প্রধান বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। নীলগাঁও ও বাইশটিলা বাজার এলাকায় জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সড়ক নির্মাণের কাজ এখনও থমকে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকল্পের স্থবিরতার কারণে তাদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। যেসব মালবোঝাই ট্রাক শহরের মধ্যে দিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে, তারা ব্যাপক যানজটের সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা আশা করছেন, সড়কটি সম্পূর্ণ হলে শহরের ভেতর দিয়ে ট্রাক চলাচল কমবে এবং বাইপাস ব্যবহার করে গন্তব্যে সহজে পৌঁছানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি, নীলগাঁও এলাকায় রাস্তার খানাখন্দের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সড়ক শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের চলাচলে সমস্যা থাকবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। ৮ নং কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ১ নং প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আল মামুন শাহিন আহমদ বলেন, জমি মালিকদের দ্রুত নোটিশ দিয়ে তাদের অধিকার বুঝিয়ে দিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে হবে, যাতে সাধারণ জনগণ উপকৃত হয়। তাদের মতে, সড়কটি সম্পূর্ণ হলে সিলেট নগরীর যানজট কমবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে উন্নতি আসবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসইএল লিমিটেডের সার্ভেয়ার মো. সবুজ বেপারী জানান, যেসব এলাকায় জমি অধিগ্রহণের সমস্যা নেই সেখানে কাজ চলছে, কিন্তু যেসব এলাকায় জটিলতা আছে, সেখানে কাজ বন্ধ রয়েছে। সওজ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে ৭৭ কোটি টাকা জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং কিছু জায়গায় মামলা চলমান থাকায় কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। তবে তারা আশাবাদী, শিগগিরই এই সমস্যা সমাধান হয়ে প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে।

জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, মীর কাসেম আলী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অনেক আলেম-ওলামাকে মিথ্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, জমি বুঝে পাওয়ার পর অতিরিক্ত ছয় মাস সময় লাগবে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হবে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিন বছরের স্থবিরতার পরও স্থানীয়দের আশা, সিলেট-কুমারগাঁও-বাদাঘাট চারলেন সড়ক প্রকল্প শেষ হলে শহরের যানজট কমবে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত