প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
টাঙ্গাইলের সাংবাদিক মহব্বত হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা সম্প্রতি এলাকায় বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ও একাধিক বেসরকারি টেলিভিশনের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মহব্বত হোসেনের বিরুদ্ধে হুমকি ও মানহানিকর অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।
জানা গেছে, লাবু খন্দকার নামে এক ব্যক্তি গত রোববার সন্ধ্যায় মহব্বত হোসেনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি অডিও কল রেকর্ড পাঠায়। এরপর ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে হুমকি দেওয়া হয়। বার্তায় বলা হয়েছে, “সুলতান সালাউদ্দিন টুকু তোকে বাঁচাতে পারবে না। আমি তোকে ৫টি হত্যা মামলার আসামী বানাব।” এছাড়া ঢাকায় এনটিভি এবং ‘আমার দেশ’ অফিসে গেলে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
এই হুমকির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবহার। লাবু খন্দকার মহব্বত হোসেনের বিরুদ্ধে পাঠানো অভিযোগের খাম ও কুরিয়ার রসিদের ছবি হোয়াটসঅ্যাপে প্রেরণ করেছেন। এতে দেখা যায়, কিভাবে সামাজিক মাধ্যমে হুমকি ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং সাংবাদিকের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
হুমকিদাতা লাবু খন্দকারের পাঠানো অডিও রেকর্ডে দেখা যায়, অজ্ঞাত এক নারীকে হত্যা মামলার বাদী হিসেবে সাজিয়ে তার কাছ থেকে বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। এতে বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও মহব্বত হোসেনকে জড়িয়ে আপত্তিকর কথাবার্তা বলানো হয়েছে। এই সাজানো অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।
মহব্বত হোসেন রবিবার রাতেই টাঙ্গাইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, টাঙ্গাইলের এক সাংবাদিক নেতার উস্কানিতে লাবু খন্দকার কয়েক মাস ধরে সামাজিক মাধ্যমে তার ও তার পরিবারের ছবি ব্যবহার করে কুরুচিপূর্ণ কথা লিখছে। সামাজিক মাধ্যমে এই কর্মকাণ্ডের ফলে সাংবাদিক মহব্বত হোসেন এবং তার পরিবার মানহানির শিকার হয়েছেন।
সাংবাদিক মহব্বত হোসেন জানিয়েছেন, এই ঘটনা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উভয়ের জন্যই গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হুমকিদাতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং কুরিয়ার রসিদ, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও অডিও রেকর্ড সংগ্রহ করে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলও সরগরম হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাংবাদিকদের উপর হুমকি ও মানহানি শুধু ব্যক্তিগত বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি দেশের সংবাদ পরিবেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষভাবে, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে এমন ধরনের মানহানি এবং হুমকি প্রচার করা নতুন ধরনের সমস্যার পরিচায়ক, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
এদিকে, মহব্বত হোসেন বলেছেন, “আমি সাংবাদিক হিসাবে সত্য প্রকাশের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু আমার পরিবারের নিরাপত্তা এখন গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আশা করি প্রশাসন দ্রুত হুমকিদাতাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।”
এই ঘটনা দেশের সাংবাদিক সমাজে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলো একযোগে সতর্কতার সংকেত দিয়েছেন যে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হুমকি ও মানহানি ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনা এভাবে সহ্য করা হবে না।