সিলেট বিভাগের মনোয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে তারেক রহমানের বৈঠক, ‘সিগন্যাল পাননি কেউ’

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৩ বার
সিলেট বিভাগের মনোয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে তারেক রহমানের বৈঠক, ‘সিগন্যাল পাননি কেউ’

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়া এখন দলের ভেতরে তীব্র আগ্রহ ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে কারা দলীয় মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল প্রবল জল্পনা। সেই জল্পনার মাঝেই সোমবার বিকেলে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। তবে প্রত্যাশিত ‘গ্রিন সিগন্যাল’ কেউই পাননি, যা দলের ভেতরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বিভাগের নেতারা ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কার্যালয়ের বাইরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর ভিড় থাকলেও, বৈঠকে অংশ নিতে পারেন কেবলমাত্র মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। বৈঠকে প্রধান বক্তা ছিলেন একমাত্র তারেক রহমান। তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশে বলেন, দল এখন একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে, তাই ঐক্য ও শৃঙ্খলার বিকল্প নেই। যিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন, তাকে সবাইকে মেনে নিতে হবে, এবং তার পক্ষে একযোগে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার পর কেউ যেন উল্লাস মিছিল না করে—এটা দলের নীতির পরিপন্থী হবে।

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও সিলেট-৩ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল আহাদ খান জামাল বলেন, “তারেক রহমান ভাই বলেছেন, দলের স্বার্থই সবার আগে। কেউ মনোনয়ন না পেলেও তাকে বাদ দেওয়া হবে না, বরং ভবিষ্যতে দলে তার মূল্যায়ন হবে। তিনি সবাইকে সততা, ধৈর্য ও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।” তিনি আরও জানান, বৈঠকে কাউকেই স্পষ্টভাবে মনোনয়নের ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।

এর আগে ১৯ অক্টোবর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সে সময়ও একক প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়নি। ঐ বৈঠকে অংশ নেন ১২৯ জন প্রার্থী, কিন্তু সোমবারের বৈঠকে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। দলের ভেতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এবার অংশগ্রহণ সীমিত রাখার মূল উদ্দেশ্য ছিল আলোচনাকে আরও ফলপ্রসূ ও নিয়ন্ত্রিত রাখা।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শিগগিরই শুরু হবে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বলা হয়েছে, আনন্দঘন পরিবেশে ফরম সংগ্রহ করতে, যাতে দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং সহযোগিতার সংস্কৃতি বজায় থাকে। এরপর ধাপে ধাপে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তারেক রহমান নিজেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবেন কে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবারের এই বৈঠক ছিল দ্বিতীয় দিনের মত গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন বৈঠক, যেখানে শুধু সিলেটই নয়, বরিশাল, খুলনা ও ঢাকার মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও অংশ নেন। বিকাল চারটায় বরিশাল ও খুলনার বৈঠক শুরু হয়, সন্ধ্যা ছয়টায় সিলেট বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে তারেক রহমান যুক্ত হন এবং রাত আটটায় ঢাকা বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক শেষ হয়। প্রতিটি অধিবেশনে তারেক রহমান মনোযোগ সহকারে বক্তব্য রাখেন এবং দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান বৈঠকে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে লড়ছে, এটি কেবল একটি নির্বাচন নয়—এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন।” তাই যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তাকে বিজয়ী করার জন্য দলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, “ব্যক্তিগত উচ্চাশা নয়, জনগণের বিশ্বাস ও দলীয় ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সেলিমা রহমান। তারা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি চায় একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ টিম মাঠে নামাতে, যারা শুধু ভোটের লড়াই নয়, জনগণের আস্থা অর্জনেও সক্ষম হবে।

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

সিলেট বিভাগে বিএনপির প্রভাব ঐতিহাসিকভাবে দৃঢ় হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। একাধিক আসনে নতুন প্রজন্মের নেতারা উঠে এসেছেন, আবার অনেক অভিজ্ঞ রাজনীতিকও রয়েছেন যাদের জনপ্রিয়তা এখনো অটুট। ফলে দলের মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা স্বাভাবিকভাবেই তীব্র। তবে সোমবারের বৈঠকে তারেক রহমানের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে—বিএনপি এবার কোনো তাড়াহুড়ো বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়াতে চায় না। বরং দলীয় ঐক্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেই তারা জোর দিচ্ছে।

বৈঠক শেষে উপস্থিত কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ‘একটি বাংলাদেশ অনলাইন’-এর কাছে বলেন, তারা মনে করেন তারেক রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট একটি দিকনির্দেশনা পাওয়া গেছে—মনোনয়ন নয়, এখন অগ্রাধিকার হচ্ছে দলের সংগঠনকে আরও শক্ত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো। তাদের ভাষায়, “গ্রিন সিগন্যাল না পাওয়া মানে ব্যর্থতা নয়, বরং দলের ভিত আরও মজবুত করার সময় এসেছে।”

বিএনপির এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলো এখন সারা দেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। সবাই তাকিয়ে আছেন কবে শুরু হবে মনোনয়ন ফরম বিক্রি, এবং কাদের হাতে উঠবে ধানের শীষ প্রতীক। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি কৌশলগতভাবে আগাচ্ছে—নির্বাচনের আগে একটি ঐক্যবদ্ধ বিএনপি গড়ার লক্ষ্যে।

সোমবারের বৈঠক হয়তো কারও জন্য তাৎক্ষণিক সাফল্যের বার্তা আনেনি, কিন্তু এতে স্পষ্ট হয়েছে—বিএনপি এবার পরিকল্পনা ও ধৈর্যের পথে হাঁটছে। কারণ, তাদের কাছে আসন্ন নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক মঞ্চ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত