২০২৬ বিশ্বকাপ: বাস্তবতা না রোমাঞ্চ-মেসি এখনও ক্ষুধার্ত, সে খেলতে চায়” -সুয়ারেজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৪ বার
২০২৬ বিশ্বকাপ: বাস্তবতা না রোমাঞ্চ-মেসি এখনও ক্ষুধার্ত, সে খেলতে চায়'' -সুয়ারেজ

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ · একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ফুটবলের ইতিহাসে লিওনেল মেসি এমন এক নাম, যার উপস্থিতি মানেই এক জাদুকরী মুহূর্ত। মাঠে তাঁর প্রতিটি পাস, ড্রিবল কিংবা গোল যেন ভক্তদের জন্য একেকটি আবেগঘন কবিতা। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পর থেকেই প্রশ্ন জেগেছে—এই কিংবদন্তি কি আরেকবার ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে ফিরবেন? সময় ঘনিয়ে আসছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের, যা অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়। এখন ফুটবল বিশ্বজুড়ে আলোচনায় একটিই প্রশ্ন—মেসি কি আবারও খেলবেন এই বিশ্বকাপে?

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেই বলেছেন, তাঁর ইচ্ছা আছে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলতে। তবে সেই সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে একটাই বিষয়ের ওপর—ফিট থাকা। তাঁর নিজের ভাষায়, “সত্যি বলতে, বিশ্বকাপে খেলা মানেই অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আমি সেখানে থাকতে চাই। দলের সঙ্গে থাকলে জাতীয় দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাই।” মেসি আরও বলেন, “আগামী বছর ইন্টার মিয়ামির প্রাক-মৌসুমের প্রস্তুতি শুরুর পর প্রতিদিন নিজের শরীরের অবস্থা পর্যালোচনা করব। আমি শতভাগ ফিট থাকলে মাঠে ফিরব। এটা আমার জন্য এক নতুন সুযোগ হবে।”

মেসির এই মন্তব্যের পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মধ্যে নতুন আশার আলো জ্বলে উঠেছে। আর্জেন্টিনা ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে যে জয়ের গল্প লিখেছিল, সেটি এখনও তাজা। মেসির হাতে উঁচিয়ে ধরা সেই সোনালি ট্রফি ছিল এক যুগের প্রতীক্ষার অবসান। এবার ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টে সেই শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ পেলে তা তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অর্জন হতে পারে।

তবে মেসি নিজেও জানেন, বয়স এখন আর আগের মতো তরুণ নয়। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে মাঠে নামার সময় তাঁর বয়স হবে প্রায় ৩৯। সেই বয়সে ফিটনেস ধরে রাখা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার গতিতে খেলা বড় চ্যালেঞ্জ। মেসি তাই নিজেকে প্রতিদিন নতুন করে পরীক্ষা করতে চান। তিনি বলেছেন, “আমি প্রতিদিন অনুশীলনে শরীর কেমন কাজ করছে, সেটা বুঝে চলব। এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাবে না।”

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

ইন্টার মিয়ামির হয়ে মেজর লিগ সকারে খেলার সময়ও তিনি দারুণ পারফর্ম করছেন। তবে ব্যস্ত সূচি, লম্বা ভ্রমণ ও বয়সজনিত ক্লান্তি একসঙ্গে তাঁকে চাপ দিচ্ছে। গত মৌসুমেই কয়েকটি ম্যাচে তাঁকে ইনজুরির কারণে বিশ্রাম নিতে হয়। এ কারণেই ২০২৪ সালের শেষ দিকে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, “সবচেয়ে যৌক্তিক বিষয় হলো হয়তো আমি আর বিশ্বকাপে খেলব না।” কিন্তু বছর ঘুরে আবারও যেন তাঁর মনের ভেতর সেই আগুন জ্বলে উঠেছে—শেষবারের মতো বিশ্বকাপে মাঠে নামার আকাঙ্ক্ষা।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি বিষয়টি নিয়ে সতর্ক আশাবাদী। তিনি বলেন, “মেসি নিজেই জানেন তাঁর শরীর ও মন কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। আমরা চাইলে তাঁকে না খেলানোর কোনো কারণ নেই। তবে সিদ্ধান্তটা সম্পূর্ণই মেসির।” কোচের এমন বক্তব্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে, দরজা এখনও বন্ধ হয়নি। দলও প্রস্তুত থাকবে মেসিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পনা সাজাতে, যদি তিনি খেলতে রাজি হন।

মেসির ক্লাব সতীর্থ ও দীর্ঘদিনের বন্ধু লুইস সুয়ারেজ বলেছেন, “মেসি এখনও ক্ষুধার্ত, সে খেলতে চায়। কিন্তু সে জানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনই নয়।” এই মন্তব্য মেসির অবস্থানকেই আরও পরিষ্কার করে। নিজের মন, শরীর ও প্রেরণা—এই তিনটি উপাদান যদি একত্রে থাকে, তবেই তিনি খেলবেন।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ মঞ্চ মেসির জন্য এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। কারণ এটি হবে উত্তর আমেরিকায় প্রথমবার আয়োজিত ত্রিরাষ্ট্রীয় বিশ্বকাপ, যেখানে মেসির বর্তমান ক্লাব ইন্টার মিয়ামির ঘরের মাঠই ব্যবহৃত হতে পারে কিছু ম্যাচের জন্য। নিজের ক্লাবের দেশের মাটিতে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য স্বপ্নের মতো এক বিষয়। সেই সম্ভাবনাই তাঁকে নতুন করে উদ্দীপ্ত করছে।

তবে কেবল আবেগ নয়, বাস্তবতাও বড় ভূমিকা রাখছে। ২০২৩ সালে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে মেসি যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে নতুন মাত্রা এনে দিয়েছেন। এমএলএস-এ দর্শকসংখ্যা, টিভি রেটিং ও বাণিজ্যিক আগ্রহ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে মেসির অংশগ্রহণ কেবল আর্জেন্টিনা নয়, পুরো আয়োজক দেশগুলোর জন্যও হবে বিশাল প্রভাবশালী ঘটনা।

ফিটনেস ধরে রাখা এবং ইনজুরি এড়ানো এখন তাঁর মূল লক্ষ্য। এ কারণেই তিনি ক্লাবের হয়ে মৌসুমে কিছু ম্যাচে বিশ্রাম নেন, যাতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় মঞ্চে প্রস্তুতি বজায় থাকে। তিনি বলেছেন, “আমি জানি, আমার ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছি। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে হিসাব করে। কিন্তু যদি আমি শরীর ও মনে প্রস্তুত থাকি, তাহলে বিশ্বকাপে না খেলার কোনো কারণ দেখি না।”

বিশ্বজুড়ে বিশ্লেষকেরা বলছেন, মেসির মতো একজন খেলোয়াড়ের পক্ষে ৩৯ বছর বয়সেও উচ্চ পর্যায়ে খেলা অসম্ভব নয়, যদি তিনি নিজের শরীর ও মানসিক ভারসাম্য ঠিক রাখেন। অনেকেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর উদাহরণ টানছেন—যিনি চল্লিশের কাছাকাছি বয়সেও খেলছেন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। মেসির শৈল্পিক খেলার ধরন, নিখুঁত পাস এবং মুভমেন্ট তাঁকে অন্যদের চেয়ে সুবিধা দেয়। তাঁর ফুটবলে শারীরিক লড়াইয়ের চেয়ে কৌশল ও বুদ্ধিমত্তা বেশি প্রভাব ফেলে, যা বয়সের সীমাকে খানিকটা লাঘব করতে পারে।

তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়—তিনি কি মানসিকভাবে প্রস্তুত আরেকটি দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং মৌসুমের জন্য? বিশ্বকাপ মানে ৩০ দিনের তীব্র প্রতিযোগিতা, যেখানে শারীরিক সক্ষমতা ছাড়াও মানসিক চাপ সামলানো জরুরি। মেসি জানেন, এই চ্যালেঞ্জে নামতে হলে নিজেকে নতুনভাবে প্রস্তুত করতে হবে। তাঁর বর্তমান ক্লাব কোচ গারদার্দো টাটা মার্তিনো বলেছেন, “মেসির মধ্যে এখনও আগ্রহ আছে। আমি ওকে জানি বহু বছর ধরে—যখন তার চোখে সেই উজ্জ্বলতা দেখি, বুঝি কিছু একটা বিশেষ ঘটতে যাচ্ছে।”

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

এমন এক সময়, যখন নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা উঠে আসছে, তখনও মেসির উপস্থিতি দলের জন্য অনুপ্রেরণা। আর্জেন্টিনার অনেক তরুণ খেলোয়াড়, যেমন হুলিয়ান আলভারেজ বা এনজো ফার্নান্দেজ, এখনো বলেন, “মেসি দলে থাকলে আত্মবিশ্বাস দ্বিগুণ হয়ে যায়।” তাই তাঁর বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, জাতীয় দলের মনোবল ও ঐক্যেরও প্রতীক।

সবশেষে, মেসির কথাতেই ফুটে ওঠে তাঁর মনের অবস্থান—“আমি জানি না ২০২৬ পর্যন্ত খেলব কি না। কিন্তু যদি শরীর অনুমতি দেয়, আমি অবশ্যই সেখানে থাকতে চাই। বিশ্বকাপ মানেই বিশেষ কিছু, আর আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা মানেই গর্ব।”

ফুটবলের রাজপুত্র কি সত্যিই আবারও বিশ্বমঞ্চে দেখা দেবেন? সময়ই সেই উত্তর দেবে। কিন্তু একথা নিশ্চিত—যখনই লিওনেল মেসি মাঠে নামেন, বিশ্ব তাকিয়ে থাকে তাঁর দিকে, যেন ইতিহাসের নতুন কোনো অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। আর সেই সম্ভাবনাই হয়তো এই মুহূর্তে ফুটবল ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় উত্তেজনার উৎস।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত