সিলেটে ডিসি অফিস ঘেরাও

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৩ বার
সিলেটে ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপর নিষেধাজ্ঞা ডিসি অফিস ঘেরাও

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সিলেট মহানগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ১১ দফা দাবিতে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন, সিলেট জেলা শাখার কর্মীরা মঙ্গলবার সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। আম্বরখানা থেকে শুরু হওয়া মিছিল সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশে পরিণত হয়। এসময় শ্রমিকরা ‘রিকশা ফিরিয়ে দাও’, ‘লাইসেন্স দাও’, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি করো’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং পরে শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নিয়ে চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়ক অবরোধ সৃষ্টি করেন, যা ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়।

সমাবেশে বক্তারা প্রশাসনের ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায় ও অমানবিক’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, এই বাহন পরিবেশবান্ধব এবং নিম্নআয়ের হাজারো মানুষের জীবিকার একমাত্র উৎস। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক পরিবার অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি তাদের দাবি মেনে না নেওয়া হয়, তবে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংগঠনের আহ্বায়ক মাসরুর জলিল সমাবেশে জেলা প্রশাসক এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন। তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং তা বিভিন্ন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মাসরুর জলিল এর আগে সোমবার (২৭ অক্টোবর) সিলেট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে একই দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধবই নয়, এটি সাধারণ মানুষের চলাচলে সহায়ক। প্রশাসনের উচিত ছিল বিআরটিএর মাধ্যমে নীতিমালা প্রণয়ন ও লাইসেন্স প্রদান করা।’

শ্রমিক ইউনিয়নের ঘোষিত ১২ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আটক রিকশা ফেরত দেওয়া, চার্জিং গ্যারেজে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন, লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন চালু করা, শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ করা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা প্রদান।

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর উদ্যোগে নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধে অভিযান শুরু হয়। অভিযানের ফলে বহু রিকশা জব্দ করা হয় এবং বিভিন্ন চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এই পদক্ষেপে শ্রমিক সমাজে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।

শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন। তারা জানিয়েছে, বিকেল ৫টা পর্যন্ত শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান করে তাদের দাবির প্রতি দৃঢ়তার প্রকাশ করেছেন। তাদের সমাবেশে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসন তাদের সমস্যা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে এবং পুনরায় ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল শুরু করার মাধ্যমে জীবিকা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা নগর পরিবেশে পরিবেশবান্ধব এবং শহরের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ধরনের বাহনের সুষ্ঠু পরিচালনা নগরের জনগণের সুবিধা বৃদ্ধি করবে এবং শ্রমিকদের জীবিকা রক্ষা করবে।

সিলেট শহরের বিভিন্ন নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা সমাবেশ ও সড়ক অবরোধের কারণে ভোগান্তি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে শ্রমিক নেতারা দাবি করেছেন, আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলেও তাদের দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি কার্যকর করা হবে।

শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনের মাধ্যমে তারা প্রশাসনের সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার চেষ্টা চালাবে। ব্যাটারিচালিত রিকশার পুনরায় চলাচল এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের আন্দোলন দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও নজর রাখার উপযুক্ত উদাহরণ হতে পারে।

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

সিলেট শহরের এই আন্দোলন ও সমাবেশ নগর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিকদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হওয়ায় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে দ্রুত কার্যকর সমাধানের প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছে।

শ্রমিকদের এই আন্দোলন নগর পরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ঢাকা ও অন্যান্য মহানগরের অভিজ্ঞতার আলোকে সিলেটের এই কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন শহরের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত