শাকসু নির্বাচন আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস ভিসির

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৬ বার
শাকসু নির্বাচন আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস ভিসির

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর সম্প্রতি শাকসু নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটায় ভাইস চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎ উপলক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভাইস চ্যান্সেলর বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রণীত শাকসু প্রবিধান নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করেন। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হিসেবে প্রতিটি ধাপে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমাদের লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, নির্ভয় এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করা, যা শিক্ষার্থীদের আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত হবে।”

সাক্ষাৎকালে ভাইস চ্যান্সেলর আরও বলেন, নির্বাচনের প্রতিটি প্রক্রিয়ায় সততা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা অপরিহার্য। তিনি আশ্বাস দেন যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভোটের দিন এবং প্রাক-নির্বাচনী প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপে কমিশনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে না ঘটে, সেই বিষয়েও প্রশাসন নজর দেবে।

এসময় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন এবং রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই মিলে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমকে সহায়ক করার বিষয়ে আশ্বাস দেন এবং প্রশাসনিক যে কোনো ধরনের সহযোগিতায় প্রস্তুত থাকার প্রতিশ্রুতি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এই বৈঠক শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই স্পষ্ট সহযোগিতার ঘোষণায় নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে। দীর্ঘদিন ধরেই শাকসু নির্বাচনের সময় শিক্ষার্থীরা স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু ভোট প্রক্রিয়ার প্রত্যাশা রাখে। তাই প্রশাসনের এই উদ্যোগকে শিক্ষার্থীরা স্বাগত জানিয়েছেন।

এছাড়া নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুনভাবে প্রণীত শাকসু প্রবিধান অনুসারে নির্বাচনের প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা, প্রার্থীদের নাম ঘোষণা, ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং ফলাফল প্রকাশ—all প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা হবে। ভাইস চ্যান্সেলরের আশ্বাসে প্রশাসনিক সহযোগিতা থাকায় এই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন একযোগে কাজ করবে যাতে কোনো অনিয়ম বা বিরোধী পরিস্থিতি তৈরি না হয়। ভোটের দিন সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে যথাযথ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মকর্তা মোতায়েন করা হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী বা প্রার্থী বঞ্চিত না হয়।

শিক্ষার্থীরা এই খবরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত প্রচেষ্টা শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করবে। কিছু শিক্ষার্থী বলেন, “ভিসি এবং প্রশাসনের সহযোগিতার আশ্বাস আমাদের আত্মবিশ্বাস দেয়। আমরা আশা করি এবার নির্বাচন সুষ্ঠু, নির্ভয় এবং গ্রহণযোগ্য হবে।”

এই নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। শাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণের সুযোগ পান। তাই প্রশাসনের সহযোগিতা এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা শিক্ষার্থীদের আস্থা এবং অংশগ্রহণ বাড়াবে।

ভাইস চ্যান্সেলর এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এই পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিবেশকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রার্থীদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভোটে অংশগ্রহণ বাড়াবে এবং ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করবে।

নির্বাচন কমিশনের প্রধান অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ বৈঠকের পরে জানান, প্রশাসনের সহযোগিতা ভোট প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে এবং শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসীভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। কমিশন প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে সব প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করবে।

সাক্ষাতের শেষে ভাইস চ্যান্সেলর আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু ভোট প্রদানের দায়িত্ব শুধুমাত্র কমিশনের নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে। তাই প্রশাসন ভোট প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে কমিশনের পাশে থাকবে এবং সকল সম্ভাব্য বাধা দূর করতে সহযোগিতা করবে।

এভাবে প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত প্রস্তুতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, আসন্ন শাকসু নির্বাচন গতানুগতিক সব সমস্যাকে অতিক্রম করে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত