কৃষিক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জ্ঞান অর্জনে জাপানে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৪ বার
কৃষিক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জ্ঞান অর্জনে জাপানে

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

পাবনায় অবস্থিত পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (PUST) থেকে এক বিরল এবং গৌরবময় একটি দল এখন জাপানে অবস্থান করছে। তারা দণ্ডায়মান গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই আট সদস্যের দল—একজন শিক্ষক ও সাতজন শিক্ষার্থী—জাপানের Yamanashi University-এ যে এক-সপ্তাহ ব্যাপী ‘Sakura Science Program’র অংশ হিসেবে অংশ নিচ্ছে, তা শুধু একটি শিক্ষা বিমানভ্রমণই নয়, বাংলাদেশের ভূগোলে প্রযুক্তি ও কৃষি ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সূচনা।

২৬ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই নলেজ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, যেখানে দলটি একাডেমিক ক্লাস, ল্যাবরেটরি অভিজ্ঞতা, এবং বাস্তব কাঠামোয় গবেষণা করবেন। আয়োজক বিশ্ববিদ্যালয় Yamanashi-এর ল্যাব, কর্মশালা, প্রযুক্তি প্রদর্শনী এবং আলোচনায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি, Smart Agriculture বা স্মার্ট কৃষি সংক্রান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও মেশিন লার্নিং (ML) প্রযুক্তিগুলো শিখবেন। PUST-র প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শেখ রাসেল আল আহম্মেদ নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই দলকে। এই ধরনের বিদেশ যাওয়া গবেষক দলে PUST-র ইতিহাসে এটাই প্রথম।

এই প্রতিনিধি দল মূলত শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক নিয়ে গঠিত। শিক্ষার্থীরা হলেন: কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী অর্পা কর পূজা; পরিসংখ্যান বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী মো. আব্দুর রাকিব; ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মোসা. মুন্নী খাতুন ও কামিল আহমেদ; ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের আরিফুল ইসলাম ও মানব চন্দ্র চন্দ; এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের জাবিন তাসনিম উপমা। এই আট সদস্যের দলটি PUST-র অন্যতম জোর দেওয়া শ্রেণিতে আছেন।

প্রোগ্রামে তারা কী করবে? তারা কৃষিক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি প্রয়োগ এবং আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। প্রোগ্রামের স্বরূপ হলো পাইথন প্রোগ্রামিং, কৃষি-তথ্য বিশ্লেষণের জন্য মেশিন লার্নিং, স্মার্ট কৃষিতে এআই-র চালিকা শক্তি। এছাড়া Yamanashi-র ল্যাবগুলো, সংশ্লিষ্ট রোবটিক্স সিস্টেম, অপটিক্যাল যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৃষি-প্রযুক্তি একীকরণের প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন। এই অভিজ্ঞতাগুলো দেশে ফিরে কৃষি সমস্যার সমাধানে প্রয়োগ করা হবে।

ল্যাবরেটরি কাজ, প্রযুক্তি প্রদর্শনী ও বাস্তব ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কর্ম­সংযোগের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। PUST এবং Yamanashi University পরবর্তী সময়ে এক সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং বিষয়ে যৌথ গবেষণা ও এক্সচেঞ্জ চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে।

উপাচার্য ড. এসএম আব্দুল‑আওয়াল এই বিষয়ে বলছেন, “Yamanashi বিশ্ববিদ্যালয় ও তার অঞ্চলে কৃষিনির্ভর পরিবেশের কারণে এই ধরনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। আমাদের শিক্ষার্থীদের এআই ও মেশিন লার্নিংয়ে যে দক্ষতা রয়েছে, সেটিই তারা এখানে প্রয়োগ করছেন।”

এই উদ্যোগ শুধুই শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, দেশের কৃষি ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কৃষির উৎপাদন, খামার ব্যবস্থাপনা ও যান্ত্রিকীকরণ দ্রুত অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রতিপাদ্য। এই প্রেক্ষাপটে স্মার্ট কৃষিতে এআই প্রয়োগ শিক্ষার্থীদের হাতে এক শক্তিশালী হাতিয়ার দিচ্ছে। আগামীতে তারা দেশে ফিরে এই প্রযুক্তিগুলো প্রয়োগ করে নতুন উদ্ভাবন আনবেন — যেমন ওয়েব-ভিত্তিক কৃষি পরামর্শ সিস্টেম, মেশিন লার্নিং চালিত ফসল পূর্বাভাস; বা অপটিক্যাল যোগাযোগ ও রোবটিক্স-মাধ্যমে কৃষি প্রক্রিয়ার দক্ষতা বাড়ানোর মতো উদ্যোগ।

একই সঙ্গে, এটি উপস্থিত করছে PUST-র আন্তর্জাতিকীকরণ ও বৈশ্বিক শিক্ষা নেটওয়ার্ক গঠনের দৃঢ় ইচ্ছে। PUST-এর ‘ন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল কো­l্যাবোরেশন সেল’ও এই ধরণের উদ্যোগকে উৎসাহ দিয়ে আসছে।

এই এক-সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা শুধু প্রযুক্তি শিখবেন না, তারা ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে নিজেদের সক্ষমতা যাচাই করবেন। দেশের বাইরের এমন এক পরিবেশে এসে শিক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রিসার্চ নেটওয়ার্ক গড়ার অভিজ্ঞতাও অর্জন করছেন। ভবিষ্যতে তারা শিক্ষক, গবেষক বা উদ্যোগী হিসেবে সেই নেটওয়ার্ককে কাজে লাগাতে পারবেন।

এই মুহূর্তে আমরা দেখতে পাচ্ছি, একটি স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও গবেষণা কেন্দ্রে যাওয়া একটি দল কেবল দেশময় নয়, বিশ্বময় ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। আধুনিক চ্যালেঞ্জ যেমন কৃষি, প্রযুক্তি ও পরিবেশ বিষয়ে নির্ভর করছে — সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এই ধরণের আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ উদ্যোগ turning point হয়ে উঠতে পারে।

অবশেষে বলা যেতে পারে, PUST-র ওই আট সদস্য শুধু জাপানে গেছেন না; তারা দেশে ফিরে এক নতুন অধ্যায় আরম্ভ করবেন। কৃষি ক্ষেত্রে এআই-ভিত্তিক উদ্ভাবন, অধ্যয়ন ও প্রযুক্তি ট্রান্সফারের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে নিজস্ব শিক্ষণ ও গবেষণার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। এভাবে শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, দেশের জন্যও সঞ্চিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত