প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজনীতির উত্তাপ যখন বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ে দেশের নির্বাচনকাল নির্ধারণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও জল্পনা তুঙ্গে। এ প্রেক্ষাপটে শ্রমিক দলের এক আলোচনা সভায় বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে বক্তৃতা করেন ডা. এ জেড এম জাহিদ। তিনি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি প্রকাশিত ষড়যন্ত্রমূলক গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেন। তার ভাষ্য, “ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে।”
ডা. জাহিদ আরও বলেন, কিছু মহল জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য বিচ্ছিন্ন বক্তব্য প্রকাশ করছে, যাতে নির্বাচনের সময় পেছানো যায় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পথে বাধা সৃষ্টি হয়। তিনি এই ধরনের প্রচেষ্টা কঠোর সমালোচনা করে জানান, যারা ভাবছেন গণতন্ত্রকে দীর্ঘস্থায়ী করে দেওয়ার জন্য বিভাজন ও ষড়যন্ত্র চালানো সম্ভব, তারা বাস্তবের সঙ্গে মিলিয়ে চলতে পারছে না এবং ‘বোকার স্বর্গে বাস করছে’।
তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যেন স্থিতিশীল থাকে এবং জনগণ যেন নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, এজন্য সকলের দায়িত্ব রয়েছে। রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং ভোটের পরিবেশকে উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য করতে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
ডা. জাহিদ আরও বলেন, নির্বাচনের তারিখ পেছানোর প্রচেষ্টা এক প্রকার গণতন্ত্রকে হেলাফেলার মধ্যে ফেলার চেষ্টা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের জনগণ সচেতন ও দায়িত্বশীল থাকবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসব বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার হচ্ছে, তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলছে। তাই সব রাজনৈতিক পক্ষকে এখন সংলাপ ও বাস্তবমুখী রাজনীতির পথ অবলম্বন করতে হবে।
ডা. জাহিদের এই বক্তব্যে দেশের নির্বাচনী পরিবেশে স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি মনে করেন, নির্বাচন পেছানো বা বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, বরং তা দেশের গণতান্ত্রিক নীতির জন্য হুমকি। তাই সবাইকে দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডা. জাহিদের এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে সরকার ও রাজনৈতিক সংগঠন উভয়ই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিবাচক ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে উদ্যোগী। পাশাপাশি এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সর্বশেষে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, কোনো ষড়যন্ত্র বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এটিকে ব্যাহত করতে পারবে না। জনগণ তাদের ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করবে এবং দেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে।”
ডা. জাহিদের এই উক্তি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে, যা ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা এবং দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন ঘটাবে।