পরিবেশমন্ত্রী ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ৭৪ বার
পরিবেশমন্ত্রী ন্যাশনাল ব্যাংক চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। দেশের শাসনব্যবস্থায় মন্ত্রী হওয়ায় সব লাভজনক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ত্যাগের বাধ্যবাধকতা থাকায় এই পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে। ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পরিচালনা পর্ষদের ৫৩৯তম সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। পদ পরিবর্তনের পর ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন স্বতন্ত্র পরিচালক অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন।

ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে। মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সরকার গঠন করলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এ কারণে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ ত্যাগ করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।

নতুন চেয়ারম্যান মেলিতা মেহজাবিন ন্যাশনাল ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার ব্যাংকিং ও কর্পোরেট অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ। তিনি গ্রামীণফোন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো এবং ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার বাংলাদেশে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। মেলিতা মেহজাবিনের শিক্ষা ও পেশাগত অর্জনেও নজরকাড়া। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এবং ২০০৯ সালে প্রভাষক হিসেবে একই শিক্ষায়তনে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া তিনি শ্রীলঙ্কার কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে আলাদা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং কমনওয়েলথ স্কলার হিসেবে যুক্তরাজ্যের অ্যালায়েন্স ম্যানচেস্টার বিজনেস স্কুল থেকে অ্যাকাউন্টিং ও ফিন্যান্সে পিএইচডি করেছেন।

ন্যাশনাল ব্যাংকের ইতিহাসে চেয়ারম্যানের পদে পরিবর্তনের আগে নানা ঘূর্ণিঝড় চলছিল। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সিকদার পরিবারের মধ্যে বিবাদের কারণে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব তখন সৈয়দ ফারহাত আনোয়ারকে দেওয়া হয়। তার সময়ে ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক এবং ইউসিবির সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংক একীভূত করার আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কারণে সেই আলোচনা এগোতে পারেনি। ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মে ধুঁকতে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংক তাত্ক্ষণিকভাবে তারল্য সংকটে পড়েছিল।

২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয় এবং পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের হাতে চলে যায়। এরপর ব্যাংকের পুরোনো উদ্যোক্তা এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু ২১ বছর পর ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল ব্যাংকের শুরু থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার পদত্যাগ ন্যাশনাল ব্যাংকের নেতৃত্বে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। নতুন চেয়ারম্যান মেলিতা মেহজাবিনের নেতৃত্বে ব্যাংক তার আর্থিক ও পরিচালনাগত সক্ষমতা আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যাংকের দীর্ঘদিনের ইতিহাস, প্রশাসনিক কাঠামো এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে এই পদ পরিবর্তন কার্যকর ও সময়োপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন চেয়ারম্যানের অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কর্পোরেট খাতের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে ন্যাশনাল ব্যাংক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম হবে। ব্যাংকের পরিচালন পর্ষদের এবং নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়ে সঠিক নীতি নির্ধারণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত