ছয় আরব দেশকে সংযুক্ত করবে বিশাল রেলওয়ে নেটওয়ার্ক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪০ বার
ছয় আরব দেশকে সংযুক্ত করবে বিশাল রেলওয়ে নেটওয়ার্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের ছয় আরব দেশ—সৌদি আরব, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত—এখন এক সমন্বিত রেলওয়ে নেটওয়ার্ক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। গাল্ফ রেলওয়ে প্রকল্প বা উপসাগরীয় রেলওয়ে প্রকল্প নামে পরিচিত এই প্রকল্পটি আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুসংহত করবে এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।

উক্ত প্রকল্পের আওতায় মোট দুই হাজার ১৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা হবে। এতে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলো ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটার গতিতে চলার সক্ষমতা রাখবে, আর মালবাহী ট্রেনগুলো ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫০ বিলিয়ন ডলার, যা ছয়টি দেশের মধ্যে আনুপাতিকভাবে ভাগ করে বহন করা হবে।

কুয়েত ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশটির প্রধান রেলওয়ে স্টেশনের নকশার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রকল্পের সমন্বয় ও বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো আশা করছে, ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পটি কেবলমাত্র যাত্রী এবং মালবাহী পরিবহন সহজ করবে না, বরং এটি ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, এবং অঞ্চলের অর্থনৈতিক সংহতিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো একে অপরের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত হবে এবং অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রেলওয়ে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো একে অপরের বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারবে এবং অবকাঠামোগত বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। প্রকল্পটি শেষ হলে গোটা অঞ্চলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও লোকালয়ে যাতায়াত আরও দ্রুত, সুরক্ষিত এবং দক্ষ হবে।

এছাড়া এই রেলওয়ে নেটওয়ার্ক পরিবেশবান্ধব হওয়ায়, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খরচ কমানো এবং কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ হ্রাসে সহায়ক হবে। সমন্বিত এই প্রকল্পে দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

গাল্ফ রেলওয়ে প্রকল্পটি মধ্যপ্রাচ্যে যুগান্তকারী ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি শুধু দেশগুলোকে সংযুক্ত করবে না, বরং তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের এক নতুন সূচনা হিসেবে ইতিহাসে স্বাক্ষর রেখে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত