স্যান্টনারের অবিশ্বাস্য লড়াইয়েও জয়ের মুখ দেখতে পারল না নিউজিল্যান্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৯ বার
স্যান্টনারের অবিশ্বাস্য লড়াইয়েও জয়ের মুখ দেখতে পারল না নিউজিল্যান্ড

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অকল্যান্ডে দর্শকরা ক্রিকেটের এক চমকপ্রদ লড়াই দেখেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান করে। এরপর ১৬৫ রানের লক্ষ্যে নিউজিল্যান্ড ব্যাট করতে নেমে নবম উইকেট হারিয়ে মাত্র ১০৭ রান তুলতে পারে। শেষ ২০ বলে প্রয়োজন ছিল ৫৮ রান, যা তখন নিশ্চিতভাবেই জয় নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছিল। ঠিক এখান থেকেই শুরু হয় নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের একক লড়াই।

নবম উইকেটে দাঁড়িয়ে স্যান্টনার শেষ ৩ ওভারে ২ ছক্কা ও ৮টি চারের মারার মাধ্যমে দলকে পুনরায় লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনেন। তবে একক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কিউই দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার কাইরন সিলসের দারুণ বোলিং এবং দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের সহযোগিতায় ক্যারিবীয়রা ৭ রানে জয়ের মুখ দেখেছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের শুরুটা মোটেই খারাপ ছিল না। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক শাই হোপের নেতৃত্বে দলটি অর্ধশতকসহ ১৬৪ রানের সংগ্রহ করে। হোপ ৫০-এর বেশি রান করে দলের স্কোর বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের অবদানও যথেষ্ট ছিল, যার ফলে কিউই বোলারদের জন্য চাপ তৈরি হয়।

নিউজিল্যান্ডের জবাবে শুরুটা মোটেই সুখকর হয়নি। ওপেনার টিম রবিনসন ও ডেভন কনওয়ে ৩ ওভারের মধ্যে ৩০ রান যোগ করেন, তবে চতুর্থ ওভারে কনওয়ে মাত্র ১২ বলে ১৩ রান করে আউট হন। এরপর ক্রমাগত উইকেট হারাতে থাকে কিউইরা। ১৭ ওভারের আগে ১০৭ রানে নবম উইকেট পতনের পর দল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল।

ঠিক এই মুহূর্তে মাঠে নামেন মিচেল স্যান্টনার। আট নম্বরে নেমে মাত্র ২৮ বলে ৫৫ রান করে দলের সম্ভাবনা ধরে রাখেন। তার রানের মাঝে ছিল ২ ছক্কা এবং ৮টি চমৎকার চার। স্যান্টনারের একক লড়াই কিউই দলের হতাশা কিছুটা দূর করে এবং শেষ পর্যন্ত ১৫৭ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সাহায্য করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হয়নি।

ম্যাচ শেষে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, স্যান্টনারের এই ইনিংস সত্যিই প্রশংসনীয়, যা প্রমাণ করে এক ক্রিকেটারের একক প্রচেষ্টা দলের খেলার ধারা কতটা বদলে দিতে পারে। যদিও নিউজিল্যান্ডের দল বড় ব্যবধান হার এবং শেষ মুহূর্তে স্যান্টনারের চেষ্টা সত্ত্বেও জয় ছিনিয়ে আনতে পারেনি, তবে এই লড়াই দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার কাইরন সিলসের বোলিং ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিলস তার স্টাম্পিং এবং বাউন্সিং বোলের মাধ্যমে কিউই ব্যাটসম্যানদের ভোগান্তির মধ্যে ফেলে দেন। এছাড়া দলের অন্যান্য বোলারদের সঠিক শাস্তিমূলক বোলিংও নিউজিল্যান্ডকে জয়ের সুযোগ থেকে দূরে রাখে।

অতীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে সিরিজগুলো সাধারণত উত্তেজনাপূর্ণ এবং এই ম্যাচও তার ব্যতিক্রম ছিল না। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন-আপের একাধিক খেলোয়াড় শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলেও স্যান্টনারের একক পারফরম্যান্স তাদের সম্ভাব্য হার রোধ করেছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ম্যাচ থেকে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং কোচিং ও দলীয় সমন্বয় নিয়ে অনেক শিখতে হবে।

ম্যাচ শেষে কিউই অধিনায়ক স্যান্টনার বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি আমাদের দলকে লড়াইয়ে রাখার জন্য। ব্যাটিং নিয়ে সবসময়ই চ্যালেঞ্জ থাকে, তবে কখনো কখনো একক প্রচেষ্টার পরও ফলাফল আপনার পক্ষে নাও যেতে পারে। আমরা এই হার থেকে শিখব এবং পরের ম্যাচে আরও শক্তিশালী হয়ে মাঠে নামব।”

নিউজিল্যান্ডের এই হার সত্ত্বেও স্যান্টনারের ইনিংস এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে, যেটি দেখিয়েছে যে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কখনো কখনো এক খেলোয়াড়ের লড়াইও ম্যাচের রূপ পরিবর্তন করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত