আরপিও ধারা পরিবর্তন নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৪ বার
আরপিওর ধারা পরিবর্তন নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করার জন্য Representation of the People Order (আরপিও)‑র বেশ কিছু ধারা সংশোধন করা হয়েছে। তবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, সংশোধিত ধারাগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এখনও পূর্ণ আলোচনা হয়নি এবং মতবিরোধের বিষয় থাকলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।

আখতার আহমেদ বলেন, “আমরা নিজের মতো করে আরপিও সংশোধন করেছি এটি আংশিক সত্য। তবে কমিশনের সুপারিশ বিবেচনায় করেই এটি করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ আগামী সপ্তাহে শুরু হতে পারে এবং আলোচনার ভিত্তিতে যুক্তিযুক্ত মনে হওয়া ধারা পরিবর্তনের পথ খোলা থাকবে।

সংশোধিত আরপিও‑র মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো জোট হয়ে প্রতীকে নির্বাচন করার নিয়ম। পূর্বে মিত্রদলগুলো জোট হিসেবে এক প্রতীকে অংশ নিতে পারত, তবে নতুন সংশোধনায় বলা হয়েছে যে জোট হলেও প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দল নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করবে। এছাড়া নির্বাচনের ফল স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতাও কিছু ধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে ইসির হাতে এসেছে।

এই পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বিএনপি সহ কয়েকটি দল বলেছে, সংশোধিত ধারাগুলো দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তারা মনে করে নির্বাচনী অংশীদারিত্বে প্রতীকের বিষয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা উচিত। সংশোধিত নিয়মের কারণে তাদের নির্বাচনী অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পুরনো প্রতীক ব্যবহার সীমিত হবে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

ইসি সচিব জানিয়েছেন, পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, “আপত্তি বা মতবিরোধ থাকা বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পর কমিশনের কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হলে সেগুলো পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। তবে পরিবর্তন এককভাবে সম্ভব নয়। সরকারের, দলের ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা প্রয়োজন।”

নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভোটার তালিকা, মেয়াদকাল পুনর্বিন্যাস, রাজনৈতিক দল ও পর্যবেক্ষক নিবন্ধনসহ বিভিন্ন ধাপ বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন। তবে সংলাপ এবং দল‑অধিকারভিত্তিক আলোচনা কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। সংশোধিত আরপিও‑র গেজেট এখনো দলগুলোর কাছে পৌঁছায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী আইন‑বিধিতে পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও দলগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়া তা প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা এবং গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করতে পারে। নির্বাচনের প্রতীক, ভোট বন্ধ করার ক্ষমতা এবং নির্বাচনী ব্যয়‑বিধি সংক্রান্ত ধারা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং সহমত নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

ইসি সচিবের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তারা সংলাপের জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে সংশোধিত ধারা পুনর্বিবেচনার পথে রয়েছে। “আমাদের লক্ষ্য সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা, আইন‑বিধি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো উন্নত করা যাতে ভোটারদের বিশ্বাস বাড়ে,” তিনি বলেন।

সরকারও দ্রুত আরপিও সংশোধন জারি করেছে। তবে দলগুলো মনে করছে, আগে থেকে বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া হঠাৎ পরিবর্তন প্রয়োগের ফলে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়া জন্ম নিতে পারে।

চলমান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সংলাপ সূচনা, দল‑পর্যবেক্ষক সংগঠন ও ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চূড়ান্ত করা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি ও অংশগ্রহণকারী সংগঠন‑দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও নির্দেশিকা গঠন। গেজেট প্রকাশিত হলে একদিনের মধ্যে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও অংশীদারিত্ব বাড়ানো এই মুহূর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশোধিত আরপিও‑র ফলে যদি বৃহৎ রাজনৈতিক দল বা মিত্রদলগুলো প্রতীক নির্বাচনে স্বতন্ত্র হতে বাধ্য হয়, তাহলে ভোটারদের জন্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে এই বিষয়গুলো সমাধান করা হলে নির্বাচন হবে প্রতিযোগিতামূলক, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য।

সংশোধিত আরপিও কেবল আইনগত পরিবর্তন নয়, এটি রাজনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সাধারণ ভোটার থেকে দল‑রাজনীতিক, পর্যবেক্ষক—সবাইকে নিজের ভূমিকা যাচাই করতে হবে যাতে নির্বাচন সময়োপযোগী, প্রতিযোগিতামূলক ও সর্বজনীন হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত