পেন্টাগন ইরানের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় ২০০ বিলিয়ন ডলার বাজেট

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬
  • ১১০ বার
বিলিয়ন ডলার বাজেট

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন এখন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরও ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট চাইছে, যা দেশটির কংগ্রেসে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। এই চাহিদাটি যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এসেছে, যেখানে খরচের পরিমাণের দ্রুত বৃদ্ধি এবং জনমতের বিরূপ প্রতিক্রিয়া কারণে হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তাও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে কংগ্রেস এই বিশাল অর্থ অনুমোদন করবে কি না।

বিশ্বের শক্তিধর সামরিক সংগঠনের অন্যতম পেন্টাগন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে প্রদত্ত তহবিলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি হোয়াইট হাউসের কাছে আবেদন করেছে যে কংগ্রেসের অনুমোদনের জন্য ইরানের যুদ্ধ পরিচালনা, যুদ্ধোয়ুদ্ধ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও অস্ত্রের মজুদ পুনরায় পূরণ করার জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হোক। এমনকি এই অনুরোধটি চলমান বিমান হামলা অভিযান ও সামরিক পরিচালনার ব্যয়কে বহুগুণে ছাড়িয়ে গিয়েছে।

পেন্টাগনের এই অনুরোধটি শুধু যুদ্ধ চালানো নয়, বরঞ্চ যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক মিসাইল, ড্রোন, লেজার–নির্দেশিত বোমা ও অন্যান্য উচ্চমূল্যবান সামরিক সরঞ্জাম তৈরির জন্যও ব্যয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে। এই ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার খরচ হওয়া, যা পুরো যুদ্ধ খরচ সম্পর্কে হাই সেনসেটিভ হিসাব প্রদান করে।

তবে এই আবেদনটি রাজনৈতিক রঙ নিয়ে কংগ্রেসে প্রবেশ করেছে, যেখানে ডেমোক্র্যাটরা ইতোমধ্যেই জোরালো সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, যুদ্ধের উদ্দেশ্য, স্থির কৌশল ও পরিস্কার লক্ষ্য ব্যতীত এই দুর্দান্ত অর্থ বরাদ্দ করা উচিত নয়। তাদের মতে, এই যুদ্ধ ব্যাপক মানবিক ক্ষতি, শহর ধ্বংস এবং আন্তর্জাতিক স্তরে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে, যার জন্য বাজেট বরাদ্দের সমর্থন পাওয়া কঠিন।

সে একদিকে, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এই তহবিলের সমর্থনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যদিও তারা এখনও পরিষ্কার আইন প্রণয়ন কৌশল বা সিনেটে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোটের পথ খুঁজে পায়নি। কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট, বিশেষ করে জনগণের মধ্যে যুদ্ধের সমর্থন কম থাকায়। অনেক নাগরিকই এমন বিশাল অর্থ বরাদ্দের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন, এবং ধরে নিচ্ছেন যে এই অর্থ বরাদ্দ সবশেষে দেশটির সামরিক অগ্রাধিকারকে নতুন করে স্থাপন করবে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই স্বীকার করেছেন যে, পেন্টাগনের অনুরোধের পরিমাণ এতটা বড় যে এটি কংগ্রেসের অনুমোদনের ‘বাস্তবসম্মত’ সুযোগ পাবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো জনমতের বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বিস্তৃত বিরোধ।

অন্যান্য বিশ্লেষক মনে করেন, পেন্টাগন ঠিকই এমন একটি পরিকল্পনা করেছে যাতে যুদ্ধের খরচ দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে এবং বিদ্যমান সরঞ্জামগুলি দ্রুত নষ্ট হওয়ায় পুনঃউৎপাদনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে যুদ্ধ খরচ আরও বাড়বে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শিল্প বিশেষভাবে মিসাইল ও অন্যান্য সরঞ্জাম উৎপাদনে মূল্যবান সময় ও অর্থ ব্যয় করবে।

অন্যদিকে, এটি একটি রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি পেন্টাগনের এই অনুরোধ গ্রহণ না হয় তাহলে তা মার্কিন সরকারের ইরানে সামরিক অংশগ্রহণের প্রতি জনমতের বিরূপ মনোভাবকে প্রতিফলিত করবে। আবার যদি অনুমোদিত হয়, তবে এটি নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করবে যে অর্থ বরাদ্দের আগে কি যথেষ্ট কৌশলগত ও কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা হয়েছে কি না।

বিশ্ব রাজনীতিতে এমন বিশাল অর্থের যুদ্ধ তহবিলের আবেদন এর আগে দেখা যায়নি; এমন পরিস্থিতি যেখানে সামরিক অভিযান আর্থিক দিক থেকে সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছে — এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের ওপর চাপ বাড়াবে না বরঞ্চ আন্তর্জাতিক মন্দা পরিস্থিতিও আরও জটিল করে তুলবে। এমন ব্যয় যদি অনুমোদিত হয়, তাহলে এর প্রভাব মার্কিন অর্থনীতি, সামরিক প্রস্তুতি, এবং বিশ্ব শক্তি ভারসাম্যের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলবে।

যুদ্ধ, বাজেট ও রাজনৈতিক বিরোধ—এই তিনটি উপাদান এখন মার্কিন কংগ্রেসের সামনে এক ভয়াবহ প্রতিকূল পরীক্ষায় দাঁড়িয়েছে। জনমতের চাপ, অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক চাপ মিলিয়ে এই বরাদ্দের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, যার সিদ্ধান্ত কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘসময় ধরে আলোচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com