বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের শেনজেন অঞ্চলে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে ঢাকার সুইডিশ দূতাবাস। এখন থেকে দূতাবাস আর শেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করবে না। ভিসা আবেদন, আমন্ত্রণপত্র, আপিল কিংবা নির্দিষ্ট কোনো আবেদনসংক্রান্ত তথ্য জানতে আবেদনকারী ও স্পন্সরদের সরাসরি সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় দূতাবাস।
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, শেনজেন ভিসাসংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্ব তারা আর পালন করছে না। ফলে এ ধরনের আবেদনের বিষয়ে আগের মতো দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য বা সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকছে না। আবেদনকারী, আমন্ত্রণকারী ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট স্পন্সরদের এখন থেকে সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির কাছেই তাঁদের প্রশ্ন ও আবেদনসংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরতে হবে।
এ পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ থেকে সুইডেনসহ শেনজেন অঞ্চলে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আবেদন করতে আগ্রহীদের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যাঁরা ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন, যাঁরা নতুন করে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিংবা যাঁদের পক্ষে সুইডেনে থাকা কোনো ব্যক্তি আমন্ত্রণপত্র বা স্পন্সরশিপের ব্যবস্থা করছেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, শেনজেন ভিসা বিষয়ে কোনো ধরনের নির্দেশনা, তথ্য কিংবা সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন এখন আর দূতাবাসের নেই। অর্থাৎ ভিসার আবেদন কীভাবে করতে হবে, কোনো নির্দিষ্ট আবেদনের বর্তমান অবস্থা কী, আমন্ত্রণপত্রসংক্রান্ত কোনো বিষয় কীভাবে সমাধান করতে হবে কিংবা কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের প্রক্রিয়া কী—এসব বিষয়ে দূতাবাসের কাছে যোগাযোগ করে উত্তর পাওয়ার প্রত্যাশা না রাখাই ভালো। এসব বিষয়ে সরাসরি সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
শেনজেন ভিসা ইউরোপের একাধিক দেশের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিসা ব্যবস্থা। পর্যটন, পারিবারিক সাক্ষাৎ, ব্যবসায়িক সফর কিংবা অন্য কোনো অনুমোদিত স্বল্পমেয়াদি উদ্দেশ্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই ভিসার প্রয়োজন হতে পারে। শেনজেন অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ভিসা কাঠামো থাকায় আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তবে কোন কর্তৃপক্ষ আবেদন গ্রহণ, মূল্যায়ন বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে দায়িত্ব পালন করবে, তা সংশ্লিষ্ট দেশের নির্ধারিত ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।
ঢাকার সুইডিশ দূতাবাসের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তির মূল বিষয় হলো, শেনজেন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে দূতাবাস আর আগের ভূমিকা পালন করছে না। এ কারণে আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ভিসা বন্ধ হয়ে গেছে—এমন ধারণা না করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের পরিবর্তনের বিষয়টি সঠিকভাবে বোঝা। বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে শেনজেন ভিসা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বরং দূতাবাস জানিয়েছে, তারা নিজেরা আর আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করছে না এবং এ-সংক্রান্ত যোগাযোগের জন্য সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
এই পার্থক্যটি আবেদনকারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ থাকা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা দেওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়লে আবেদনকারীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। ভিসার সুযোগ, আবেদন গ্রহণের পদ্ধতি কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাই অনুসরণ করা প্রয়োজন।
যাঁরা ইতিমধ্যে আবেদন জমা দিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আবেদনসংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন থাকলে সরাসরি সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আবেদন জমা দেওয়ার পর কোনো তথ্য সংশোধন, অতিরিক্ত কাগজপত্র, সিদ্ধান্তের অগ্রগতি কিংবা আপিলের বিষয়ে জানতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশনা নেওয়া জরুরি। পুরোনো যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে সময় নষ্ট না করে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী যোগাযোগ করাই আবেদনকারীদের জন্য যুক্তিসংগত হবে।
একইভাবে, সুইডেনে বসবাসরত কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে কাউকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে কিংবা কোনো আবেদনকারীর স্পন্সর হিসেবে যুক্ত থাকলে তাঁকেও পরিবর্তিত ব্যবস্থার বিষয়টি জানতে হবে। আমন্ত্রণপত্র বা স্পন্সরশিপসংক্রান্ত প্রশ্নের ক্ষেত্রেও দূতাবাসের পরিবর্তে সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এতে আবেদনকারী ও আমন্ত্রণকারীর মধ্যে তথ্যের অসামঞ্জস্য কমানো এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া সহজ হতে পারে।
ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ কাগজপত্র কিংবা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার কারণে অনেক সময় আবেদনকারীদের বাড়তি জটিলতায় পড়তে হয়। বিশেষ করে বিদেশে ভ্রমণের পরিকল্পনার সঙ্গে বিমান টিকিট, আবাসন, কর্মক্ষেত্রের ছুটি এবং পারিবারিক প্রস্তুতির মতো বিষয় যুক্ত থাকে। ফলে ভিসাসংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন এলে আবেদনকারীদের আগেভাগে তা জানা প্রয়োজন। ঢাকার সুইডিশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তির পর নতুন আবেদনকারী ও আগে থেকে প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিজেদের আবেদনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগের নির্দিষ্ট পদ্ধতি, নতুন কোনো আবেদনকেন্দ্রের তথ্য কিংবা পরিবর্তনের কার্যকর হওয়ার অতিরিক্ত কোনো সময়সূচি উল্লেখ করা হয়নি। তাই এসব বিষয়ে অনুমাননির্ভর তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, ঢাকার সুইডিশ দূতাবাসের এই ঘোষণা বাংলাদেশি শেনজেন ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনের বার্তা। আবেদন প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বে দূতাবাসের ভূমিকা বন্ধ হওয়ায় আবেদনকারী, স্পন্সর ও আমন্ত্রণকারীদের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। তবে এই ঘোষণাকে শেনজেন ভিসা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। বরং ভিসাসংক্রান্ত আবেদন ও তথ্যের জন্য এখন থেকে সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করাই হবে সংশ্লিষ্টদের জন্য প্রধান করণীয়।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত