আজ আত্মপ্রকাশ করছে এনসিপির ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১১ বার
আজ আত্মপ্রকাশ করছে এনসিপির ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ক্রীড়াবিষয়ক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স। আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাওয়া এই সংগঠনে যুক্ত হচ্ছেন দেশের পরিচিত ক্রীড়া সংগঠক নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অর্থ কমিটির সাবেক প্রধান এম নাজমুল ইসলাম। সংগঠনটির আহ্বায়ক হিসেবে নাজমুল আবেদীন ফাহিম এবং সদস্যসচিব হিসেবে এম নাজমুল ইসলামের দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে।

সোমবার বিকেল চারটায় রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের দুই সদস্য নতুন সংগঠনে দুই নাজমুলের যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এনসিপির স্পোর্টস উইং হিসেবে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, সংগঠনটির নেতৃত্বে আসতে যাওয়া দুজনেরই দেশের ক্রিকেট ও ক্রীড়া প্রশাসনের সঙ্গে পরিচিতি রয়েছে। একজন দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেট কোচিং, খেলোয়াড় উন্নয়ন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। অন্যজন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অর্থ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অতীত কর্মকাণ্ড নতুন সংগঠনটির কার্যক্রমে কী ধরনের ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নাজমুল আবেদীন ফাহিম বাংলাদেশের ক্রিকেটে পরিচিত একটি নাম। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) কোচ হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর ২০০৫ সালে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে যোগ দেন। শুরুতে বিসিবির হাই পারফরম্যান্স দলের জ্যেষ্ঠ কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রশিক্ষক এবং বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবেও কাজ করেন।

দেশের ক্রিকেটে প্রতিভা অন্বেষণ, খেলোয়াড় তৈরি এবং প্রশিক্ষণব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট ও নারী ক্রিকেটের বিকাশে তাঁর কাজ আলোচিত হয়েছে। ২০১৭ সালে তিনি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের দায়িত্ব নেন। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এশিয়া কাপের শিরোপা জয় করে। একই সময়ে দলটি ২০১৯ সালের আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেও সাফল্য অর্জন করে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি বিসিবি থেকে পদত্যাগ করেন।

দীর্ঘ কোচিং ও ক্রিকেট উন্নয়নসংক্রান্ত অভিজ্ঞতার কারণে নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একজন পরিচিত সংগঠক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নতুন সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে এনসিপি ক্রীড়া খাতে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত করার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, সাংগঠনিক কাঠামো এবং ক্রীড়া উন্নয়নে নির্দিষ্ট উদ্যোগ সম্পর্কে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বিস্তারিত জানানো হতে পারে।

অন্যদিকে এম নাজমুল ইসলাম বিসিবির অর্থ কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গত জানুয়ারিতে আলোচনায় আসেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্নে তাঁর কিছু মন্তব্য ক্রিকেটাঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি করে। সে সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, খেলোয়াড়দের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও তাঁরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারছেন না। তাঁর বক্তব্যে ক্রিকেটারদের অবদান ও পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

নাজমুল ইসলামের ওই মন্তব্যের পর ক্রিকেটারদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। খেলোয়াড়দের দাবির মুখে বিসিবি তাঁকে অর্থ কমিটির প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ক্রিকেটারদের সঙ্গে বোর্ডের সম্পর্ক এবং ক্রিকেট প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যের ধরন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিসিবি ও ক্রিকেটারদের মধ্যে আলোচনা হয়। খেলোয়াড়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নাজমুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করবেন বলে বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসের পর ক্রিকেটাররা খেলায় ফেরেন। তবে পরবর্তী সময়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। নাজমুল ইসলামকে আবারও অর্থ কমিটির প্রধানের দায়িত্বে বসানো হয়েছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ফলে তাঁর নতুন রাজনৈতিক ও ক্রীড়াসংগঠনিক দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি অতীত বিতর্কের কারণে বাড়তি মনোযোগ পাচ্ছে।

ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে এনসিপি ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি বাড়াতে চাইছে। রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি ক্রীড়াবিষয়ক প্ল্যাটফর্মও জনসম্পৃক্ততা তৈরির একটি ক্ষেত্র। খেলাধুলা তরুণদের অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক সংযোগ এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি করে। তাই ক্রীড়াক্ষেত্রে একটি সংগঠনের কার্যক্রম কেবল দলীয় পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর ক্রীড়া উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করা কতটা সম্ভব হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা বিকাশ, প্রশিক্ষণের সুযোগ, খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা এবং ক্রীড়া প্রশাসনে জবাবদিহির মতো নানা বিষয় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। নতুন সংগঠনটি এসব ক্ষেত্রে কী ধরনের অবস্থান নেয়, তা ভবিষ্যতে স্পষ্ট হবে। বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো, তরুণদের সংগঠিত করা এবং বিভিন্ন খেলায় সমান গুরুত্ব দেওয়ার মতো উদ্যোগ সংগঠনটির কার্যক্রমকে অর্থবহ করে তুলতে পারে।

দুই নাজমুলের অভিজ্ঞতা নতুন সংগঠনটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। তবে নেতৃত্বের পাশাপাশি সংগঠনের বাস্তব কর্মপরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রম এবং ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে সম্পর্কই এর গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে খেলোয়াড়দের মর্যাদা, মতামত ও পেশাগত অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়াও ক্রীড়াসংগঠনের জন্য জরুরি।

সব মিলিয়ে, ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশ এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন একটি ক্ষেত্র যুক্ত করছে। নাজমুল আবেদীন ফাহিম ও এম নাজমুল ইসলামের যোগদান সংগঠনটির নেতৃত্বে ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে। তবে আত্মপ্রকাশের পর সংগঠনটি কীভাবে কাজ করবে এবং দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, সেটিই হবে আগামী দিনের মূল বিবেচ্য বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com