সুন্দরবনের নদীতে নিখোঁজ নারী পাইলট রিয়ানা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১২ বার
এখনও উদ্ধার হয়নি নিখোঁজ নারী পাইলট রিয়ানা

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাগেরহাটের মোংলার পশুর নদীতে জালিবোট উল্টে নিখোঁজ হওয়া নারী পাইলট রিয়ানাকে ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও উদ্ধার করা যায়নি। শনিবার দুপুর ১টার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর থেকে বন বিভাগ, স্থানীয় জেলেরা এবং স্বেচ্ছাসেবীরা নদীজুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে, তবু রিয়ানার কোনো খোঁজ মেলেনি। নদীর প্রবল স্রোত ও বোটের ঢেউ তল্লাশিকে ব্যাহত করছে, বলে জানান মোংলা রেঞ্জের বন কর্মকর্তা সুরজিৎ চৌধুরী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ রিয়ানা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক পাইলট ছিলেন এবং বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন। কয়েক দিনের ছুটিতে তিনি দেশে এসে পরিবারসহ সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তারা ডাংমারী ও পশুর নদীর মিলনস্থলে পৌঁছান। হঠাৎ দ্রুতগামী বোটের ঢেউয়ের তোড়ে তাদের জালিবোট উল্টে যায়। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সাঁতরে নিরাপদে কূল পাড়ি দেন, তবে রিয়ানা নিখোঁজ হন।

পরিবারের সদস্যরা হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না রিয়ানাকে হারিয়েছি। নদীর দিকে তাকিয়ে আছি চাতক পাখির মতো— হয়তো সে ফিরে আসবে।” তারা দ্রুতগামী বোটচালকদের দায়ী করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সুরজিৎ চৌধুরী আরও বলেন, “আমরা উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছি। নদীর স্রোত তীব্র হওয়ায় তল্লাশি কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। রিয়ানা একজন প্রবাসী এবং একসময় বিমানবাহিনীতে পাইলট ছিলেন। তার সন্ধান এখনো চলছে।”

স্থানীয়দের সহায়তায় বন বিভাগের দল নদীজুড়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। উদ্ধারকাজে নৌকা, রশি এবং ডুবুরি ব্যবহার করা হচ্ছে। নদীর দুর্গম স্থানগুলোতে পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় তল্লাশি কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে। রিয়ানার পরিবার ও স্থানীয়রা উদ্বিগ্নভাবে প্রতিনিয়ত নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থান করছেন।

উল্লেখ্য, সুন্দরবন অঞ্চলের নদীগুলোতে দ্রুতগামী বোটের কারণে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য ঝুঁকি বেশি। রিয়ানার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বন বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে।

পরিবার ও স্থানীয়রা আশা করছেন, উদ্ধারকারীরা শীঘ্রই রিয়ানাকে খুঁজে বের করবেন। এই ঘটনায় প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে, কারণ রিয়ানা একজন নারী ও বিমান পাইলট হওয়ায় তার জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, প্রাকৃতিক স্রোত ও মানবসৃষ্ট ঝুঁকির সমন্বয় ঘটলে নদীতে যাত্রা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। তল্লাশি অভিযান ও স্থানীয়দের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিখোঁজ রিয়ানার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

রিয়ানার উদ্ধারে বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী ও পরিবারের সকল সদস্য একত্রে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নদীর বিভিন্ন অংশে ডুবুরি ও নৌকাযোগে তল্লাশি অব্যাহত আছে। উদ্ধারকারীরা আশা করছেন যে যত দ্রুত সম্ভব রিয়ানাকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে এবং তার পরিবারকে মানসিক শান্তি প্রদান করা যাবে।

রিয়ানার নিখোঁজ হওয়া দুর্ঘটনা পুরো জাতিকে সচেতন করেছে নদীতে যাতায়াতের ঝুঁকি সম্পর্কে। বিশেষ করে সুন্দরবনের মতো অরণ্য-নদী এলাকায় নিরাপত্তা ও সতর্কতা বাড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রিয়ানার পরিবার এবং স্থানীয় জনগণ আশাবাদী, এই উদ্ধার অভিযান শেষ পর্যন্ত সফল হবে। তারা প্রত্যাশা করছেন, দ্রুত তাকে উদ্ধার করা হবে এবং তার জীবন রক্ষিত হবে।

এ ঘটনায় প্রমাণিত হচ্ছে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও দুর্ঘটনার সঙ্গে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। রিয়ানার নিখোঁজ থাকা ইতিমধ্যেই দেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সঞ্চার করেছে এবং উদ্ধার অভিযানকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত