প্রকাশ: ১০ নভেম্বর সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা সামনে রেখেই দেশজুড়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রস্তুতির কাজ শেষ করতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিশন। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের সময় নাশকতা, স্যাবোটাজ ও বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা করছে তারা।
সম্প্রতি ইসিতে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসংক্রান্ত বৈঠকে এই সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন সশস্ত্র বাহিনী, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান, পুলিশের আইজিসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। বৈঠকে ২২টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রস্তুতকরণ, ভোটকেন্দ্রগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।
ইসি সূত্র জানায়, সংসদ নির্বাচনের ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার ৬৬৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটিং, যেখানে সম্ভাব্য স্যাবোটাজ বা অবৈধ হস্তক্ষেপ হতে পারে। এছাড়াও, নির্বাচনের সময় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গুজব ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। ইসি আশঙ্কা করছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড পুরো নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এমএমএম নাসির উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। ইসি সূত্র জানায়, এই বৈঠকগুলোর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। চলতি মাসের মধ্যে আরও একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া, নির্বাচনের সময় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে। কমিশন সচেতন যে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে নির্বাচনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব দিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তুতি কার্যক্রম দেশের শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য নাশকতামূলক কার্যক্রম প্রতিহত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষা করা কঠিন।
এভাবে, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রস্তুতি সম্পন্নের পথে রয়েছে। ভোটকেন্দ্র থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই হাতে নেওয়া হয়েছে।
সংক্ষেপে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নাশকতা ও স্যাবোটাজের শঙ্কা বিবেচনা করে ইসি জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে চলমান এই প্রস্তুতি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।