রাজধানীতে জাল টাকার চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮ বার
রাজধানীতে জাল টাকার চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর ওয়ারী থানার জুড়িয়াটুলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বিপুল পরিমাণ জাল ও আসল টাকা উদ্ধারসহ দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন নূরুল হক (৩২) এবং সাইদুল আমিন (২৪)। রোববার (৯ নভেম্বর) রাতে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁও বিভাগের একটি টিম জানতে পারে যে, ওয়ারী থানার জুড়িয়াটুলি এলাকার একটি বাসায় দুজন ব্যক্তি জাল টাকা নিয়ে অবস্থান করছে। পরে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে অভিযান চালিয়ে নূরুল ও সাইদুলকে আটক করা হয়। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকার জাল নোট, ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার আসল নোট, একটি টাকা গণনার মেশিন, দুটি স্ট্যাপলিং মেশিন এবং দুই প্যাকেট স্ট্যাপলার পিন জব্দ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

ডিএমপি কর্মকর্তা মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, “গ্রেফতারকৃত নূরুল হক ও সাইদুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকার নোট তৈরি করে বাজারে ছড়িয়ে আসছিলেন। তাদের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছিল। এই ধরণের অপরাধ প্রতিরোধে এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ডিবি এই অভিযান পরিচালনা করেছে।”

এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ধৃতদের সঙ্গে অন্য কোনো সহযোগী আছে কিনা তা নির্ধারণের জন্য অভিযান চলছে। এছাড়া, জব্দকৃত জাল টাকার উৎস ও বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া যাচাই করা হচ্ছে।

অভিযানকালে এলাকার স্থানীয়রা আতঙ্কিত ছিলেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা শুনেছিলাম যে এই এলাকায় জাল টাকার নোট ছড়ানোর ঘটনা চলছিল। ডিবি-র অভিযান দেখে আশ্বাস পেলাম যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ মানুষকে প্রতারক চক্র থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম। এটি আমাদের জন্য স্বস্তির বিষয়।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের জাল টাকার চক্র অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই দ্রুত অভিযানের মাধ্যমে চক্রের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতার করা প্রয়োজন।

ডিবি আরও জানিয়েছে, অভিযানের সময় ধৃতরা কোনও প্রতিরোধের চেষ্টা করেনি। তবে অভিযান পরিচালনার সময় গোয়েন্দা টিমকে সতর্ক ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হয়েছে যাতে কোনও দুর্ঘটনা বা জননিরাপত্তা ঝুঁকি না তৈরি হয়। অভিযান শেষ হওয়ার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা হয় যে, অবৈধ কার্যকলাপ চলতে থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত ও দমন করা হবে।

জাল টাকার এই চক্র ধরার ফলে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে আস্থা ফিরে পাবেন। ডিবি জানিয়েছে, এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত চালানো হবে এবং অর্থনীতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত