কমিশন ঘোষণা করল সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ‘জিহাদ’

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৯ বার
কুমিল্লা বার্ডে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নির্বাচন‑প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জ নিরূপণ ও উত্তরণের উপায় বিষয়ক এক দিনব্যাপী কর্মশালায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনের উপর। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনকে ‘জিহাদ’ হিসেবে গ্রহণ করেছে।

সোমবার (১০ নভেম্বর) কুমিল্লার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা অংশ নেন। কর্মশালার আয়োজন করা হয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের যৌথ উদ্যোগে।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “এই নির্বাচনের উপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ। সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য কমিশন ‘জিহাদ’ ঘোষণা করেছে।” তিনি আরও দৃঢ়ভাবে বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে কাউকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশা একটি ভালো নির্বাচন।”

তিনি জানিয়েছেন, হয়তো কিছু মানুষ এখনও সন্দেহ করছেন যে নির্বাচন হবে না — তবে তা সম্পূর্ণ ভুল। “নির্বাচন হবেই এবং তা হবে অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ,” যোগ করেন তিনি। এ‑সময় তিনি নির্ধারণ করে বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে সতর্ক ও নিরপেক্ষ থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আব্দুল হালিম খান, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়সার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান এবং নির্বাচনী সচিবালয়ের উপ‑প্রধান (উপ‑সচিব) ও প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা হাসান। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন।

কার্যক্রমে অংশ নেয়া ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে মুখোমুখি হতে পারে এমন চ্যালেঞ্জ ও তা উত্তরণের উপায় নিয়ে সক্রিয় ভাবনাবিনিময় করেন। বক্তারা বলেন, ভোটকেন্দ্র হলো গণতন্ত্রের প্রতিচ্ছবি; তাই সেখানে দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা চলবে না।

আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন এককভাবে এই দায়িত্ব পালন করছে না। প্রশাসন, পুলিশ, মাঠ কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণ—সবাই মিলিয়ে অংশ নিতে হবে। অতীতে কিছু ভুল হলেও এবার একটি গ্রহণযোগ্য ও সুন্দর নির্বাচন আয়োজনই প্রধান লক্ষ্য।

কর্মশালায় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিয়োগ, দায়িত্ববিভাজন, ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলোর কার্যকারিতা ও মনিটরিং ব্যবস্থাসহ সুষ্ঠু ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিশন ইতিমধ্যে ভোটকেন্দ্রগুলোর তালিকা প্রস্তুত করছে, সিসি ক্যামেরা বসানোর সুপারিশ করা হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের জন্য মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এভাবে, নির্বাচন কোন রাজনৈতিক দল বা অংশগ্রহণকারীর ভয় দ্বারা প্রভাবিত হবে না। নির্বাচন হবে সময়নিষ্ঠ, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ। আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের এই ঘোষণা ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্ষমতা বাড়াতে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংক্ষেপে বলা যায় — যে নির্বাচন অনিশ্চিত মনে হচ্ছিল, সেই ধারণাকে সরাসরি খারিজ করেছেন তিনি। নির্বাচনের মাত্র ৮০ থেকে ৯০ দিন বাকি, এবং দেশের সর্বস্তরের ভোটগ্রহণ কর্মীরা প্রস্তুত হবেন। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করছে একটি গণপ্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে।

ভোটগ্রহণকারীরা দায়িত্ব পালন করছেন গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে। তারা ভোটকেন্দ্র সচল রাখতে, ভোটপ্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ রাখতে, আইন অনুযায়ী কাজ করতে এবং ভোটারদের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

এই কর্মশালা নির্বাচন কমিশনের আগাম প্রস্তুতির প্রমাণ। আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের বার্তা হলো, এখনই সকলকে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি দেশের গণতন্ত্র, মানুষের বিশ্বাস ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয় হলো মাঠ‑পর্যায় কতটা বাস্তবিক পরিবর্তন দেখা যাবে এবং ভোটারদের আস্থা কতটা বৃদ্ধি পাবে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে পাঠকদের জানাচ্ছে যে, নির্বাচনের প্রস্তুতি শুধুমাত্র প্রশাসন বা কমিশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটি সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সম্মিলিত প্রয়াস।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত