ইউক্রেনে দুর্নীতির অভিযোগে বিচারমন্ত্রী বরখাস্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৮ বার
ইউক্রেনে দুর্নীতির অভিযোগে বিচারমন্ত্রী বরখাস্ত

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেশটির বিচারমন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কোকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কো এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গালুশচেঙ্কোর দায়িত্ব আপাতত উপমন্ত্রী লিউদমিলা সুগাক পালন করবেন।

এই পদক্ষেপ আসে অ্যান্টি-করাপশন প্রসিকিউটরদের অভিযোগের একদিন পর, যেখানে সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী গালুশচেঙ্কোর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়। স্পেশালাইজড অ্যান্টি-করাপশন প্রসিকিউটরস অফিস (এসএপিও) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ সহযোগী তিমুর মিন্ডিচের সাথে ১০০ মিলিয়ন ডলারের জ্বালানি খাত দুর্নীতির পরিকল্পনায় গালুশচেঙ্কো সম্পৃক্ত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চার বছর ধরে জ্বালানি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মিন্ডিচের কাছ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন, আর এর বিনিময়ে সরকারী অর্থের প্রবাহ নিশ্চিত করেছেন।

রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার কারণে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় এই দুর্নীতি তদন্ত প্রকাশ্যে আসায় সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা ইউক্রেনের জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মনোবলকে প্রভাবিত করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী সিভিরিদেঙ্কো এক বিবৃতিতে বলেন, “গালুশচেঙ্কোকে বিচারমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা সরকারে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্নীতিবাজদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমন্ত্রী লিউদমিলা সুগাক ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং বিচার বিভাগের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসএপিও জানিয়েছে, এই তদন্তের অংশ হিসেবে আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হতে পারে। ইউক্রেনের সংসদীয় কমিটি এই দুর্নীতি কেলেঙ্কারির ব্যাপারে সরকারকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বিশ্ব সংবাদমাধ্যম বলছে, এই ধরনের দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ইউক্রেনে যুদ্ধকালীন সময়ে জ্বালানি সরবরাহ ও সরকারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গালুশচেঙ্কোর বরখাস্ত একটি পদক্ষেপ হলেও দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা পুনঃস্থাপন করার জন্য আরও বিস্তৃত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

একাধিক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন দুর্নীতি প্রতিরোধ করা না গেলে দেশের পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়া ও নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া এই ঘটনা ইউক্রেনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রধানমন্ত্রী সিভিরিদেঙ্কোর সরকারের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

দুর্নীতির অভিযোগের সাথে সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রমাণাদি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সংস্থার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে ইউক্রেনের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষও তদন্ত শুরু করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

গালুশচেঙ্কোর বরখাস্তের পর রাজনৈতিক মহলে এবং জনগণের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এটিকে দেশের জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে কিছু সমালোচক মনে করছেন, এই ধরনের দুর্নীতি কেলেঙ্কারির ঘটনা দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী সিভিরিদেঙ্কো বারবার দেশকে সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের সময় সরকারের অর্থ ও জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরাপদ ব্যবস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই অবস্থায় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসা দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত