প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ফুটবল বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ক্লাব বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়ের দিকে। ৩২ দলের চমকপ্রদ লড়াই পেরিয়ে এখন দাঁড়িয়ে আছে মাত্র চারটি দল—ইউরোপের তিন পরাশক্তি পিএসজি, রিয়াল মাদ্রিদ ও চেলসি; আর দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করা ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্স। তিনটি ম্যাচই এখন অপেক্ষা করছে—দুটি সেমিফাইনাল এবং মহাবিশ্বের আকাঙ্ক্ষিত ফাইনাল।
সামনের এই সেমিফাইনাল পর্ব হয়ে উঠেছে কেবল একটি ট্রফি জয়ের লক্ষ্য নয়, বরং স্মৃতি, সম্পর্ক ও পুনর্মিলনের জটিল আবহে মোড়ানো এক নাট্যমঞ্চ। আর সেই মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একজন—কিলিয়ান এমবাপ্পে।
গত মৌসুমে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমানো ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবার প্রথমবারের মতো মাঠে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন নিজের সাবেক ক্লাবের বিরুদ্ধে। এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং এক অনুভব, যেখানে পুরোনো প্রেম ও বর্তমান বাস্তবতার সংঘাত অনিবার্য। পিএসজির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে এখন রিয়ালের প্রধান অস্ত্র। অভিষেক মৌসুমেই করে ফেলেছেন ৪৪ গোল। যদিও এখনো বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেননি, তবে তার প্রতিটি গোল যেন জানান দিচ্ছে—তিনি থেমে যাওয়ার লোক নন।
রিয়ালের কোয়ার্টার ফাইনালে ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে রোমাঞ্চকর জয়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে শেষ গোলটি করেন এমবাপ্পে, আর প্রথম গোলটি করেন দলের নতুন উদীয়মান তারকা গঞ্জালো গার্সিয়া। পাঁচ ম্যাচে চার গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে আলোচনায় এসেছেন গার্সিয়া। কিন্তু পিএসজির কোচ ও খেলোয়াড়রা মানছেন, তাদের সবচেয়ে বড় হুমকি সেই মানুষটি, যিনি একসময় পিএসজির প্রতীক ছিলেন—এমবাপ্পে।
তবে পিএসজিও পিছিয়ে নেই আত্মবিশ্বাসে। কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা দেখিয়েছে, দলটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। নতুন ব্যবস্থাপনায় তারা যেন আর শুধুই ‘তারকা নির্ভর’ নয়, বরং একটি ঘরোয়া টিমওয়ার্কের বহিঃপ্রকাশ।
রিয়াল-পিএসজির এই সেমিফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বৈরথটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সময় আগামীকাল রাতে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। একদিকে পুরনো ক্লাবের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ, অন্যদিকে প্রাক্তন তারকাকে থামানোর লড়াই—এ যেন শুধু খেলাধুলার খেলা নয়, এটা আবেগ আর সম্মানের লড়াই।
অন্যদিকে, আজ রাত ১টায় একই ভেন্যুতে সেমিফাইনালের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইংলিশ জায়ান্ট চেলসি এবং দক্ষিণ আমেরিকার চমক ফ্লুমিনেন্স। এই ম্যাচটিও একইভাবে আবেগঘন পুনর্মিলনের আবহে মোড়ানো। ফ্লুমিনেন্স অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা দীর্ঘদিন চেলসিতে কাটানোর পর এখন নিজের জন্মভূমির ক্লাবের নেতৃত্বে আছেন এবং এই ম্যাচে প্রাক্তন ক্লাবের বিরুদ্ধে মাঠে নামার জন্য রীতিমতো উন্মুখ।
আর চেলসির ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড জোয়াওপেদ্রো একসময় খেলেছেন ফ্লুমিনেন্সে। অর্থাৎ, দুই দলেই একে অপরের ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে, যার প্রতিফলন হবে মাঠের লড়াইয়ে, কিন্তু আবেগ ছাপিয়ে যেন ভ্রাতৃত্বও বজায় থাকবে।
১৩ জুলাই হবে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনাল। তবে তার আগে দুটি সেমিফাইনালেই রয়েছে এমন সব নাটকীয়তা, উত্তেজনা ও আবেগ, যা ফুটবলকে শুধুমাত্র খেলা নয়—একটি সংস্কৃতি, একটি ইতিহাস হিসেবে পুনঃস্থাপন করে।
এমবাপ্পে কি প্রাক্তন ক্লাবের বুকেই লিখবেন নতুন বিজয়ের গল্প? নাকি পিএসজি প্রমাণ করবে, তারা এখন এমবাপ্পে ছাড়া আরও শক্তিশালী? আর চেলসি-ফ্লুমিনেন্স ম্যাচ কি শুধু প্রতিযোগিতা, নাকি স্মৃতিরও এক দুলুনি? উত্তরের জন্য অপেক্ষা আর কয়েক ঘণ্টা।








