প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটজিপিটির ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে। মেটার নতুন নীতিমালার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ওপেনএআই। মেটার নতুন নিয়ম অনুসারে, হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসে (এপিআই) সাধারণ উদ্দেশ্যের এআই চ্যাটবট আর ব্যবহার করা যাবে না। এর ফলে, হোয়াটসঅ্যাপে শুধুমাত্র গ্রাহকসেবা বা ব্যবসায়িক সহায়তামূলক বিশেষায়িত এআই টুলগুলোই চালু থাকবে। এতে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীকে হোয়াটসঅ্যাপের বাইরে বিকল্প মাধ্যমে যেতে হবে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছেন। প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে, ব্যবহারকারীরা যাতে নিজেদের পুরোনো চ্যাট সংরক্ষণ করতে পারেন এবং ভবিষ্যতে অন্য প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারেন, সেই জন্য একটি সহজ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। মেটার ঘোষিত নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস এপিআইতে সাধারণ উদ্দেশ্যের এআই চ্যাটবট নিষিদ্ধ হবে। মেটা জানিয়েছে, এসব চ্যাটবটের কারণে বার্তা আদান–প্রদানের পরিমাণ বেড়ে সার্ভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে, যার ফলে সিস্টেম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটজিপিটির সেবা চালিয়ে যেতে চাইলেও মেটার নতুন নীতিমালার কারণে তা আর সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষায়, ‘আমরা চাই, ব্যবহারকারীদের জন্য পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়া যতটা সম্ভব সহজ ও স্বচ্ছ হোক।’
হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটজিপিটির চ্যাট হিস্ট্রি সরাসরি এক্সপোর্ট করার সুযোগ নেই। তবে ওপেনএআই এমন একটি ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করে পুরোনো চ্যাট হিস্ট্রি সংরক্ষণ করতে পারবেন। এতে হোয়াটসঅ্যাপে সেবা বন্ধ হলেও বার্তাগুলো চ্যাটজিপিটি অ্যাপে দেখা যাবে। ব্যবহারকারীদের প্রথমে অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস বা কম্পিউটারের জন্য চ্যাটজিপিটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। চাইলে ওয়েব ব্রাউজার থেকেও ব্যবহার করা যাবে। চ্যাট ডট ওপেনএআই ডটকম ঠিকানায় প্রবেশ করে লগইন করতে হবে। নতুন করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে, আর আগে থেকে অ্যাকাউন্ট থাকলে আগের তথ্য ব্যবহার করে সাইন ইন করা যাবে।
অ্যাকাউন্ট তৈরি বা লগইন করার পর হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটজিপিটির অফিশিয়াল প্রোফাইলে প্রবেশ করে সেখানে দেওয়া লিংকে ক্লিক করতে হবে। ওই লিংকের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত হবে। সংযোগ সম্পন্ন হলে হোয়াটসঅ্যাপে আগের চ্যাট স্বয়ংক্রিয়ভাবে চ্যাটজিপিটি অ্যাপের ইতিহাস অংশে সংরক্ষিত হবে এবং পরে সেগুলো দেখা যাবে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের পরও চ্যাটজিপিটি নিজস্ব অ্যাপ এবং ওয়েব সংস্করণে আগের মতো ব্যবহার করা যাবে। ব্যবহারকারীরা সেখানে ভয়েস চ্যাট, ফাইল আপলোড, ছবি তৈরি ও অন্যান্য সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানটি আশ্বাস দিয়েছে, পরিবর্তনের ফলে ব্যবহারকারীদের তথ্য সংরক্ষণ ও চ্যাট ইতিহাস হ্রাস পাবে না।
বিশ্বজুড়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অনেকে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে, শিক্ষাগত কাজে বা দৈনন্দিন তথ্য অনুসন্ধানের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছেন। হঠাৎ এই সেবা বন্ধ হওয়ার ফলে ব্যবহারকারীদের নতুন প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর করার প্রয়োজন হবে। ওপেনএআই ব্যবহারকারীদের জন্য এটি যতটা সম্ভব সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
মেটার নতুন নীতিমালা মূলত সার্ভারের ওপর চাপ কমানো এবং সিস্টেম পরিচালনায় সহজতা নিশ্চিত করার জন্য আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো আশা করছে, সাধারণ ব্যবহারকারীরা যেমন ব্যবসায়িক সহযোগিতা ও গ্রাহকসেবা পরিচালনা করতে পারবে, তেমনি স্বাভাবিক চ্যাট ও তথ্য অনুসন্ধানের জন্য বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ প্রযুক্তিগতভাবে যৌক্তিক হলেও ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি বড় পরিবর্তন। যারা প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে আসছেন, তাদের জন্য নতুন প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা অপরিহার্য। ওপেনএআই ইতোমধ্যেই এমন ব্যবস্থা নিয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা নিজেদের চ্যাট ইতিহাস সংরক্ষণ করতে পারেন এবং তথ্য হারানোর ঝুঁকি না থাকে।
তবে ব্যবহারকারীদের সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। অনলাইনে যে কোনো তথ্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও বৈধ পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত। ওপেনএআই এবং হোয়াটসঅ্যাপের নির্দেশিকা মেনে চললে এই পরিবর্তন সহজ ও ঝুঁকিমুক্তভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারী যারা ব্যক্তিগত এবং পেশাগত কাজের জন্য নির্ভরশীল, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন। এটি কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, ব্যবহারকারীদের অভ্যাস ও তথ্য ব্যবস্থাপনাকেও প্রভাবিত করবে।
পরিশেষে বলা যায়, হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাটজিপিটির বন্ধ হওয়া ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সময়ের সূচনা। তবে ওপেনএআইয়ের নতুন সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পুরোনো চ্যাট ইতিহাস এবং তথ্যগুলো হারাবেন না এবং চ্যাটজিপিটির মূল অ্যাপ ও ওয়েব সংস্করণে স্বাভাবিকভাবে সেবা চালিয়ে যেতে পারবেন।