ইসির সঙ্গে ১২ রাজনৈতিক দলের সংলাপে নতুন রাজনৈতিক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৬ বার

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫ রবিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির গতি বাড়াতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি বড় রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। শনিবার এটি ঘোষণা করেছে যে, নিবন্ধিত ১২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করা হবে। এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচন-স্বচ্ছতার দিকে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসির মুখপাত্র জানান, এই সংলাপ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে। প্রথম সেশন সকাল ১০টা থেকে এবং দ্বিতীয় সেশন দুপুরের পর থেকে অনুষ্ঠিত হবে। ইসির সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রথম সেশনে অংশ নিতে যাচ্ছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। পরবর্তী সেশনে বসবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে এই সংলাপের মাধ্যমে ইসি রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত সংগ্রহ করবে এবং নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করার প্রস্তাবনা গঠন করবে।

এই সংলাপের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে মোট এগারো দফা আলোচ্যসূচি নিয়ে। ইসির পরিকল্পনায় রয়েছে প্রার্থীদের দায়িত্ব, নির্বাচনী আচরণবিধি, অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষর, রিটার্নিং অফিসার-প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি, প্রেরিত ভোট (আউট অব কান্ট্রি), পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা, ভোট এজেন্ট নিয়োগ, মিথ্যাভাষণ ও ভুল তথ্য প্রতিরোধ, সামাজিক মাধ্যম ও প্রযুক্তি অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তাজনিত বিষয়।

ইসির প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সংলাপে বলেন, “সবার সঙ্গে আলোচনায় আমরা এক-রূপতা গড়তে চাই। নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সহযোগিতা সরাসরি চায়।” তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলো মূল খেলোয়াড়, আর নির্বাচন কমিশন হলো একজন নিরপেক্ষ রেফারি; দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন একটি সংলাপ খুবই সময়োপযুক্ত। বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সন্দেহের মনোভাব রয়েছে, এবং ইসির এই উদ্যোগ অনেক ক্ষেত্রে মানুষের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে। দলীয় নেতারা সংলাপকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন যেখানে তারা সরাসরি ইসির সামনে তাদের চ্যালেঞ্জ, অনিশ্চয়তা ও প্রস্তাব তুলে ধরতে পারবে। অনেকেই আশাপ্রকাশ করছেন, এই ধরণের আলোচনায় ইসি ও দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে উঠলে আগামী নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।

তবে সমালোচকরাও আছেন। তারা বলছেন, শুধু কথার মধ্যে আটকে রেখে যদি বাস্তব কাজ শুরু না হয়, তাহলে সংলাপের ফল ছোট হতে পারে। তাদের দাবি, ইসির প্রতিশ্রুতিশীল পরিকল্পনা এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ছাড়া জনগণের আস্থা ফিরে আনা সহজ হবে না। তারা ইসিকে আহ্বান জানাচ্ছেন সংলাপের পরে এক এক করে প্রতিশ্রুতির প্রভাব পরীক্ষা করার জন্য নিরীক্ষণ কাঠামো গড়তে।

সাধারণ মানুষও এই ঘটনাকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। অনেক ভোটার মনে করছেন, যদি নির্বাচন-প্রক্রিয়া যতটা সম্ভব গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ হয়, তাহলে তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে আগ্রহী হবে। অন্যদিকে যদি শুধু আকর্ষণীয় ভঙ্গি দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত কোন পরিবর্তন না আসে, তাহলে হতাশার অনুভূতি বাড়তে পারে।

অবশ্য, এসকল আলোচনায় নজর রাখতে হবে ইসির প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে গুণগত মান। শুধুমাত্র উপস্থিতি এবং বক্তৃতা দিয়েই কাজ হবে না— যে আলোচনায় প্রস্তাব উঠছে, সেগুলো বাস্তবায়ন কতটা হবে, সেটাই আসল পরীক্ষার বিষয়।

এই উদ্যোগ সফল হলে, এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে। তবে আগামী সংলাপ এবং আলোচনার ফলাফল সম্পর্কে জনগণের দৃষ্টিকোণ, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া ও ইসির গতি নিয়ন্ত্রকতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত