প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে সন্ত্রাসবিরোধী একটি যৌথ অভিযানে পাঁচজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। শনিবার বান্নু ও লাক্কি মারওয়াত জেলার তখতি খেল ও হাওয়াইদের সীমান্তবর্তী এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। দেশটির পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) যৌথভাবে এই অভিযানের দায়িত্বে ছিল। রাষ্ট্রীয়ভাবে পাকিস্তান সরকার এই ধরনের নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ হিসেবে উল্লেখ করে। অভিযানের লক্ষ্যও ছিল ভারতের সহায়তাপুষ্ট এই গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা।
বান্নু আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তা সাজাদ খানের তত্ত্বাবধানে অভিযানটি সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযানে পাঁচজন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। আঞ্চলিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশ ও সিটিডির মূল দায়িত্বের অংশ। তিনি বলেন, “আমরা সবসময় প্রস্তুত। যেকোনো সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করতে এবং জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে আমরা কাজ চালিয়ে যাব। এই ধরনের অভিযানের মাধ্যমে আমরা সন্ত্রাসের যে কোনো ছড়ানো প্রচেষ্টা রোধ করতে চাই।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও নিষিদ্ধ কার্যক্রমের জন্য নাজুক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণকে ভয়ভীতি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। এই ধরনের অভিযান তাদের কার্যক্রমকে ব্যাহত করার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকারিতা প্রদর্শন করে।
স্থানীয় মানুষ জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে পূর্বে তারা নিয়মিত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ ও সিটিডির যৌথ অভিযান এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে এনেছে। অনেকেই বলেন, “যে কোনো সময় যখন সন্ত্রাসী হামলা ঘটতে পারে, তখন নিরাপত্তা বাহিনী আমাদের পাশে থাকায় আমরা স্বস্তি অনুভব করি।”
পাকিস্তানের সরকার এই ধরনের অভিযানকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। গত কয়েক বছর ধরে খাইবার পাখতুনখোয়া ও এর আশেপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিশেষ করে পাকিস্তান-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। এ ধরনের অভিযান স্থানীয় মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হলে অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা বলছেন, নিরাপত্তা বাহিনী শুধু অভিযান চালানো নয়, সন্ত্রাসী তৎপরতা রোধ এবং এলাকার জনগণকে সন্ত্রাসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নিয়মিত নজরদারি ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, এই অভিযানের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনী স্থানীয় জনগণকে এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে সচেতন ও সুরক্ষিত রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকে, তবে স্থানীয়ভাবে শান্তি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রূপ ফিরে পাবে।
এই অভিযানের ফলে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ উভয়েই স্বস্তি পেতে শুরু করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, এটি পুরোপুরি সন্ত্রাস মুক্ত অঞ্চলের নিশ্চয়তা নয়। কারণ, সীমান্তবর্তী এলাকা জটিল ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সমস্যার জটিলতায় আবদ্ধ। তাই নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে চলতে হবে।
সংক্ষেপে বলা যায়, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় এই যৌথ অভিযান কেবল পাঁচজন জঙ্গির মৃত্যু ঘটানো নয়, এটি এলাকার নিরাপত্তা, জনগণের জীবন ও দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও অভিযানের মাধ্যমে এই ধরনের নিষিদ্ধ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আশা করছেন।