চিংড়ি ও হিমায়িত মাছ রফতানিতে উজ্জ্বলতা, হালাল সার্টিফিকেশনের গুরুত্ব বৃদ্ধি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫২ বার
চিংড়ি ও হিমায়িত মাছ রফতানিতে উজ্জ্বলতা, হালাল সার্টিফিকেশনের গুরুত্ব বৃদ্ধি

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রফতানি খাতের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে চিংড়ি ও হিমায়িত মাছের রফতানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উজ্জ্বল প্রবণতা দেশের সামুদ্রিক ও মৎস খাতকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে চিংড়ি ও হিমায়িত মাছের রফতানি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধারা বজায় রাখতে হলে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মানসম্মত হালাল সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করাই মূল চাবিকাঠি।

চিংড়ি রফতানি খাতে দেশের অবদান ছোট হলেও স্থির। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের তিন মাসে চিংড়ি রফতানিতে ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে অক্টোবর মাসে ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ হ্রাস ঘটে। এ ধরনের অস্থিরতা থাকলেও প্রথম চার মাসের হিসাব অনুযায়ী, চিংড়ি রফতানি আয় বছর ব্যবধানে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২ কোটি ১৬ লাখ ডলার হয়েছে। এই বৃদ্ধির পেছনে মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও মানসম্মত পণ্যের গুরুত্বই প্রভাব ফেলেছে।

হিমায়িত মাছের রফতানিতেও সদৃশ প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের তিন মাসে হিমায়িত মাছের রফতানি ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও অক্টোবর মাসে ২১ দশমিক ৬৩ শতাংশ হ্রাস রেকর্ড করা হয়। তা সত্ত্বেও, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বছর ব্যবধানে রফতানি আয় বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার, যা প্রমাণ করে হিমায়িত মাছের রফতানি ধারাবাহিকভাবে দেশের রফতানি আয়কে সহায়তা করছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, কেবলমাত্র রফতানির পরিমাণ বৃদ্ধি নয়, বরং মানোন্নয়নের দিকে জোর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং হালাল সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করা হলে রফতানির ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, “মাছ প্রক্রিয়াজাত করে নতুন নতুন খাদ্যপণ্য তৈরি করা গেলে রফতানি বাজারে সুযোগের ভেতর সম্ভাবনা আরও বাড়বে। হাইগ্রেডেড এবং ভ্যালু অ্যাডেড পণ্যে হালাল ফুড সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু রফতানির জন্যই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা ও খ্যাতি বৃদ্ধির জন্যও অপরিহার্য।”

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সবজি রফতানিও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রথম চার মাসের হিসাব অনুযায়ী, সবজি রফতানি আয় বেড়ে ২ কোটি ১৭ লাখ ডলার হয়েছে, যা ৪৭ দশমিক ১৯ শতাংশের সমান। এই বৃদ্ধিতে দেশের কৃষক সম্প্রদায় এবং কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত বীজ ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মানসম্পন্ন সবজি রফতানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মসলা রফতানিতেও ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। যদিও জুলাই ও আগস্টে মসলা রফতানি কিছুটা কম ছিল, তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে রফতানি বেড়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে মসলা রফতানি আয় ১ কোটি ৯৩ লাখ ডলারে পৌঁছেছে, যা বছরের শুরু থেকে ৬ দশমিক ০১ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশীয় মসলা পণ্যের গুণমান, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার মাধ্যমে রফতানিতে আরও বড় সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

চিংড়ি, হিমায়িত মাছ, সবজি এবং মসলার রফতানিতে ইতিবাচক প্রবণতা দেশীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এ ধারা বজায় রাখতে হলে মানোন্নয়ন, হালাল সার্টিফিকেশন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। রফতানিতে মানোন্নয়নের পাশাপাশি বাজারজাতকরণ ও প্যাকেজিং উন্নত করা গেলে, দেশের খাতগুলোর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে হালাল সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু রফতানি বৃদ্ধি নয়, বরং ক্রেতার মধ্যে আস্থা ও পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করে। ড. মাহফুজ কবির বলেন, “যে পণ্যের হালাল সার্টিফিকেশন নেই, তা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পিছিয়ে যায়। তাই প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে সঙ্গে হালাল সার্টিফিকেশনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”

সর্বশেষে বলা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের রফতানি পরিসংখ্যান চিংড়ি, হিমায়িত মাছ, সবজি এবং মসলা খাতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত প্রদান করছে। তবে রফতানি ধারাকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল করতে হলে মানোন্নয়ন, হালাল সার্টিফিকেশন, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ অপরিহার্য। দেশের উৎপাদক, রফতানিকারক এবং নীতিনির্ধারকরা একসাথে কাজ করলে, বাংলাদেশের রফতানি খাত আরও শক্তিশালী ও বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত