সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের যুক্তরাষ্ট্রে ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪২ বার
সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের যুক্তরাষ্ট্রে ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ঘোষণা

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে, যখন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১৯ নভেম্বর) প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এই বিনিয়োগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, প্রযুক্তি, এআই ও অন্যান্য খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে যাচ্ছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান জানান, “আমার মনে হয়, আজ বা আগামীকাল আমরা ঘোষণা করতে পারবো যে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগকে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে।” তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অবকাঠামো এবং অন্যান্য খাতে দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তি হতে যাচ্ছে, তা বড় ধরনের বিনিয়োগ সুযোগ তৈরি করবে।

বিনিয়োগের এই ঘোষণা প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “মানে আপনি বলছেন, ৬০০ বিলিয়ন এখন ১ ট্রিলিয়ন হবে?” জবাবে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স জানান, “নিশ্চিতভাবেই। আজ যে চুক্তিগুলো আমরা করছি, সেগুলোই এ বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে সহজ করবে।” ট্রাম্প এসময় সৌদি প্রিন্সকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ আপনি যুক্তরাষ্ট্রে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে সম্মত হয়েছেন। আর যেহেতু তিনি আমার বন্ধু, তাই হয়তো এটি ১ ট্রিলিয়নও হতে পারে—তবে আমাকে একটু এটা নিয়ে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা ৬০০ বিলিয়ন নিশ্চিত ভাবেই ধরতে পারি, তবে এই অংক আরও কিছুটা বাড়তে পারে।”

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত প্রিন্সেস রিমা বিনত বান্দার আল সউদ এই বৈঠককে ‘সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি বড় দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে, যদিও চুক্তির বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের এ ধরনের বিনিয়োগের ঘোষণা কেবল অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক বছরে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তরের উদ্যোগ ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশটি বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান করে তুলেছে। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা সৌদি আরবের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব বৃদ্ধির একটি বড় সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সৌদি আরবের এই বিশাল বিনিয়োগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে এবং এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি, অবকাঠামো, অটোমেশন এবং এআই খাত বিশেষভাবে উপকৃত হবে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের জন্য একটি শক্তিশালী মঞ্চ তৈরি হবে। এতে না শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্য উপকৃত হবে, বরং মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্কও আরও ঘনিষ্ঠ হবে।

সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিমা দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্যও ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাদের মতে, এ ধরনের বড় বিনিয়োগের উদ্যোগ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল করবে, এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে সৌদি আরবের অংশগ্রহণকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।

এই বিনিয়োগের প্রভাব কেবল ব্যবসা ও অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সৌদি আরবের শক্তিশালী অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে। বিশেষ করে, মার্কিন সঙ্গে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে সৌদি আরব ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনা, নিরাপত্তা চুক্তি এবং বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও বলেন, সৌদি আরবের এ ধরনের বিনিয়োগের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে। ব্যবসা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন চুক্তি ও অংশীদারিত্ব গড়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রিনিউয়েবল এনার্জি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের বৈঠক শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন এবং সৌদি নেতৃত্বের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে এই বৈঠক দেখানো হচ্ছে। এটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের সম্ভাবনাকে দৃঢ় করবে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত প্রিন্সেস রিমা বিনত বান্দার আল সউদ বলেন, “আজকের দিনটি সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। আমরা আশা করি এই বিনিয়োগ এবং চুক্তিগুলি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক বিকাশকে আরও দৃঢ় করবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই বিনিয়োগ শুধু দুই দেশের মধ্যেই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

সংক্ষেপে বলা যায়, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এক ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কর্মসংস্থান, ব্যবসা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি ও এআই খাতের উন্নয়ন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এটি দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে সৌদি আরবের অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করবে।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজর এবার সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর। এই বিনিয়োগ কেবল অর্থনীতির ক্ষেত্রেই নয়, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। আগামী দিনগুলোতে এই বিনিয়োগ বাস্তবায়ন, চুক্তির বিস্তারিত এবং তা দ্বারা সৃষ্ট কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে—এটাই এখন বিশ্ব অর্থনীতি ও কূটনীতির অঙ্গনে আলোচিত বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত