ট্রাম্প সৌদির আহ্বানে সুদানে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করবেন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৭ বার
ট্রাম্প সৌদির আহ্বানে সুদানে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করবেন

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সুদানের দীর্ঘযুদ্ধে মানবিক সংকট দিন দিন তীব্র রূপ ধারণ করছে। এ সংকটের অবসানে এবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান–এর অনুরোধে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শক্তিধর দেশ একজোট হয়ে সুদানে সংঘাতের অবসান ঘটাতে কাজ করবে।

ট্রাম্পের ঘোষণা আসে ওয়াশিংটনে এক উচ্চস্তরের সৌদি‑যুক্তরাষ্ট্র ফোরামে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ট্রাম্প বলেন, “আমি বুঝতে পারছি, এটি সৌদি ও তার বন্ধুদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সুদানে কাজ শুরু করতে যাচ্ছি।” তিনি স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর এবং অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করবে।

ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন, সুদানে সহিংসতার মাত্রা ভয়াবহ এবং এটি বিশ্বের বড় মানবিক সংকটগুলোর মধ্যে একটি। তিনি উল্লেখ করেছেন, “মানবিক সহায়তা, খাদ্য, চিকিৎসা সবার জন্য জরুরি এখন।” তিনি স্বীকার করেছেন, যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে তার প্রথম ইচ্ছে ছিল না, তবে সৌদি যুবরাজের অনুরোধে বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন।

সুদানের গৃহযুদ্ধ ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলছে, যেখানে দুটি প্রধান পক্ষ রয়েছে: সুদানের সশস্ত্র বাহিনী এবং প্যারামিলিটার Rapid Support Forces (RSF)। সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষ শরণার্থী হয়েছে, দেশজুড়ে বিস্তৃত ধ্বংসযজ্ঞের ছবি প্রকাশিত হচ্ছে। ট্রাম্পের এই উদ্যোগে আশা করা হচ্ছে, অংশীদার দেশগুলো মিলিতভাবে যুদ্ধবিরতি আনতে সক্ষম হবে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুলবে।

তবে এই পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে সহজ নয়। অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে আগ্রাসনের ইতিহাস ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, UAE ও মিশর একটি সম্মিলিত কৌশল সাজাচ্ছে যা কেবল যুদ্ধ থামাবে না, বরং স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। বিশ্লেষকরাও প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্পের শান্তি প্রক্রিয়া কতটা বাস্তবসম্মত হবে এবং এটি সত্যিই সুদানের জনগণের জন্য মুক্তির রাস্তা খুলবে কি না।

সাধারণ মানুষের জন্য এই অঙ্গীকার শক্তিশালী প্রত্যাশা তৈরি করেছে। সুদানিরা দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা, খাদ্য ও চিকিৎসা আশায় আছে। শরণার্থী শিবিরের শিশু, প্রবীণ এবং পরিবাররা আজও নিরাপদ আশ্রয় ও মৌলিক চাহিদার অভাবে ভুগছেন। ট্রাম্পের ঘোষণা তাদের জন্য এক নতুন আশার আলো হতে পারে, যদিও বাস্তবায়নের পথে নানা বাধা ও জটিলতা রয়েছে।

সাম্প্রতিক এই ঘোষণায় রাজনৈতিক উচ্চমণ্ডলীর সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার মধ্যে এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। যদি ট্রাম্প ও মধ্যস্থতাকারীরা তাদের প্রতিশ্রুতি রাখেন এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেন, তবে এটি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি উদ্যোগ হিসেবে মনে রাখাও যেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত