বিশ্বে নারীর প্রতি সহিংসতায় ৮৪ কোটি ভুক্তভোগী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৩ বার
বিশ্বে নারীর প্রতি সহিংসতায় ৮৪ কোটি ভুক্তভোগী

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী জীবনে কোনো না কোনো সময়ে স্বামী বা ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর হাতে শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সংখ্যাগতভাবে এদের পরিমাণ প্রায় ৮৪ কোটি। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে বুধবার, আন্তর্জাতিকভাবে নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূলের দিবসের আগেই, যা ২৫ নভেম্বর পালিত হবে।

ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সের প্রায় ৩১ কোটি ৬০ লাখ নারী ও মেয়েশিশু নিজের একজন ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর হাতে শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এটি বিশ্বজুড়ে এই বয়সসীমার নারী ও মেয়েশিশুদের প্রায় ১১ শতাংশের সমান। প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ১৬৮টি দেশের সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এই প্রতিবেদনের সঙ্গে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “নারীর প্রতি সহিংসতা মানবজাতির ওপর হওয়া প্রাচীনতম এবং সর্বব্যাপী অন্যায়। অথচ এখন পর্যন্ত এ নিয়ে সবচেয়ে কম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোনো সমাজই নিজেকে ন্যায্য, নিরাপদ বা সুস্থ বলতে পারে না, যখন তার অর্ধেক জনসংখ্যা ভয়ের মধ্যে বাস করে। এই সহিংসতা শেষ করা কেবল নীতিগত বিষয় নয়; এটি মর্যাদা, সমতা এবং মানবাধিকার-সংক্রান্ত বিষয়। প্রতিটি পরিসংখ্যানের পেছনে এমন একজন নারী বা মেয়ে রয়েছেন, যাঁর জীবন চিরতরে বদলে গেছে।”

প্রতিবেদন উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমাগত বাড়তে থাকা সশস্ত্র সংঘাত, দীর্ঘস্থায়ী সংকট এবং পরিবেশগত অবক্ষয় ও বিপর্যয়গুলো নারী ও মেয়েশিশুদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। বিশেষত যেসব নারী যুদ্ধক্ষেত্রে বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বাস করছেন, তারা ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। বাস্তুচ্যুতি এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে এ ধরনের সহিংসতার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রতিবেদকরা।

ডব্লিউএইচওয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নারীর প্রতি সহিংসতা এখনো ‘গভীরভাবে অবহেলিত একটি সংকট’। এমন পরিস্থিতির মধ্যে এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে তহবিলের allocated পরিমাণ মারাত্মকভাবে কম। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী ত্রাণ তহবিলের মাত্র ০.২ শতাংশ নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিতে বরাদ্দ করা হয়েছিল। এ বছর এই বরাদ্দ আরও কমে গেছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে দেশের বৈদেশিক সাহায্য ও উন্নয়ন তহবিলে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচওর বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নারীর প্রতি সহিংসতা শুধু ব্যক্তিগত বা সামাজিক একটি সমস্যা নয়; এটি মানবাধিকার, সমতা এবং সামাজিক ন্যায্যতার একটি মৌলিক চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি নির্যাতনের পেছনে একজন বাস্তব মানুষ রয়েছে, যার জীবন ও সম্ভাবনা ধ্বংসপ্রাপ্ত। এটি শুধু নীতিগত উদ্যোগের বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার বিষয়।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আরও বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল করতে সরকারের পাশাপাশি সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। নারীর ওপর সহিংসতা কমানো মানে শুধু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা নয়, এটি সামগ্রিক সামাজিক স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, পরিবারিক সহিংসতা, যৌন নিপীড়ন এবং ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর হাত ধরে ঘটে এমন অন্যায় প্রতিরোধে তহবিল ও সরকারি সমর্থন সঠিকভাবে বরাদ্দ করা না হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বাস করা নারী ও মেয়েশিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সমগ্র বিশ্বে নারী ও মেয়েশিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে শক্তিশালী আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে নারীর ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং নীতিমালা গ্রহণ করা হয়।

বিশ্বজুড়ে নারীর প্রতি সহিংসতা কমাতে এই প্রতিবেদনের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি নারী ও মেয়েশিশুদের জন্য সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান হিসেবে কাজ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত