বরিশালে দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৯ বার
বরিশালে দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আজ সকাল ৯টায় বরিশাল নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে দাড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা। বেলসপার্ক প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া এই র‌্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ঘুরে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়। প্রায় কয়েক হাজার মোটরসাইকেল ও সহস্রাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক এতে অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন জামায়াতের বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির, বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির প্রফেসর মাহমুদ হোসাইন দুলাল, সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমান, বিএম কলেজের সাবেক এজিএস ও ঝালকাঠি সদর-নলছিটি আসনের প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া জামায়াতের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, যুব বিভাগ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, পেশাজীবী ফোরাম, আইনজীবী ফোরাম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম, ব্যবসায়ী ফোরাম, সাংস্কৃতিক বিভাগসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরাও শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

র‌্যালির শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, “আজকের এই বিশাল শোভাযাত্রা কোনো প্রদর্শনেচ্ছার বিষয় নয়। এটি ইসলামের পক্ষের গণজাগরণের এক বাস্তব প্রমাণ। বর্তমান সময়ে মানুষ দুনিয়াবী সকল মতবাদের কাছে নিরাশ হয়ে ইসলামের দিকে ফিরে আসছে। আমরা আশা করি, আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ, এবং আগামীর বরিশাল হবে দাঁড়িপাল্লার বরিশাল।”

শোভাযাত্রা নগরীর লঞ্চঘাট, সদর রোড, হাসপাতাল রোড, নথুল্লাবাদ, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক, রুপাতলী, দপদপিয়া সেতু, ভোলা-বরিশাল সড়ক এবং সাহেবেরহাট হয়ে বেলসপার্ক মাঠে এসে শেষ হয়। র‌্যালির পথে সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, দিনারের পুল, নথুল্লাবাদ ও রুপাতলী এলাকায়। এসব সভায় প্রার্থী অ্যাডভোকেট হেলাল বলেন, “বরিশাল সদর আসনে ইসলামের পক্ষে গণজোয়ার ইতিমধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে। সকল ইসলামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘরে তুলতে হবে।”

র‌্যালির প্রতিটি স্থান যেন উচ্ছ্বাসের স্রোত হয়ে ওঠে। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে উৎসুক এলাকাবাসী হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের অভিবাদন জানায়। গ্রামের ছোট শিশুরা, কিশোর এবং যুবকেরা এই শোভাযাত্রায় যোগ দেয় এবং উল্লাসে মুখরিত হয়। নারীরাও ঘর থেকে বের হয়ে রঙিন মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার দৃশ্য উপভোগ করেন। বিশেষ করে গ্রামের পথ এবং প্রধান সড়কের প্রতিটি মোড় যেন এক উৎসবমুখর এলাকায় পরিণত হয়।

শোভাযাত্রার সময়কার দৃশ্যাবলী দেখলে বোঝা যায়, রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে সামাজিক উদ্দীপনাও স্পষ্ট। প্রায়শই দেখা যায় নির্বাচনী শোভাযাত্রায় কেবল নেতাকর্মীরা অংশ নেন, কিন্তু আজকের এই শোভাযাত্রায় সাধারণ মানুষও সরাসরি অংশগ্রহণ করছেন। রাস্তার ধারে দাঁড়ানো মানুষজন ছোট হাত নেড়ে সমর্থন প্রকাশ করছেন, কিছু মানুষ নিজের ঘর থেকে শোভাযাত্রা দেখছেন এবং যুবকরা মোটরসাইকেল চালিয়ে র‌্যালিতে যোগ দিচ্ছেন।

অ্যাডভোকেট হেলাল আরও বলেন, “দাঁড়িপাল্লার এই গণজোয়ার দেখায় যে, মানুষের মধ্যে ইসলামের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি আস্থা এখনও অটুট আছে। আমাদের লক্ষ্য, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং বরিশালকে উদাহরণমূলক জেলা হিসেবে গড়ে তোলা।” তিনি যোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সৎ ও শান্তিপূর্ণ হতে হবে। তবে জনসমর্থন ও ঐক্য শক্তিশালী করতে এই ধরনের শোভাযাত্রা অপরিহার্য।

এছাড়া, র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা বিভিন্ন এলাকার মানুষদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপ-সম্বাদ করেন। স্থানীয় জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। তারা হাতে হাতে পতাকা, ব্যানার এবং দাঁড়িপাল্লার স্লোগান নিয়ে রাস্তায় নেমে সমর্থন জানায়।

শোভাযাত্রার সময় কখনো কখনো রাস্তার ধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও হাত নেড়ে নেতৃবৃন্দকে অভিবাদন জানান। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান বন্ধ রেখে শোভাযাত্রার এই উৎসবমুখর দৃশ্য দেখেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই র‌্যালি দুপুর পর্যন্ত চলেছে, এবং প্রতিটি অংশগ্রহণকারী তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের রাজনৈতিক শোভাযাত্রা শুধু নির্বাচনী প্রচারণার অংশ নয়, বরং স্থানীয় জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এমন শোভাযাত্রা সমাজে অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার পাশাপাশি নির্বাচনী উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

শেষ পর্যন্ত, বরিশালের এই বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা রাজনৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক সচেতনতার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি প্রতীয়মান করলো যে, স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাধারণ জনগণের একাত্মতা এবং দলীয় ঐক্য নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করছে।

শোভাযাত্রা শেষ হলে বেলসপার্ক প্রাঙ্গণে নেতৃবৃন্দ সাধারণ সমর্থকদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এবং সবাইকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। রঙিন পতাকা, স্লোগান, উল্লাস এবং মোটরসাইকেলের ঘ্রাণমিশ্রিত রোডপথে সৃষ্টি হওয়া দৃশ্য বরিশাল শহরের মানুষদের মনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত