ভূমিকম্পের সময় পড়ার দোয়া ও আশ্রয়ের কৌশল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৫ বার
ভূমিকম্পের সময় পড়ার দোয়া ও আশ্রয়ের কৌশল

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, বিশেষ করে ভূমিকম্প। এই ধরনের বিপদ-আপদ আমাদের অপ্রত্যাশিতভাবে আঘাত করতে পারে এবং দৈনন্দিন জীবনের স্থিতিশীলতা বিপন্ন করতে পারে। ইসলামিক শিক্ষায় এই প্রাকৃতিক বিপদের সময় মানুষকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ মানব জীবন চিরন্তনভাবে দুর্বল, এবং এমন সময়ে কেবলমাত্র আল্লাহর রহমত ও দয়া আমাদের রক্ষা করতে পারে।

ভূমিকম্প, তুষারপাত, বজ্রপাত, আগুন, বা বন্যার মতো বিপদ-আপদ হলো আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন। যখন মানুষ এই ধরনের বিপদের সম্মুখীন হয়, তখন তার প্রথম কাজ হওয়া উচিত আল্লাহর কাছে বিনম্র হৃদয়ে দোয়া করা। এটি কেবল আত্মরক্ষার জন্য নয়, বরং বিশ্বাস ও আত্মিক শান্তি অর্জনের একটি মাধ্যম। হাদিসে উল্লেখ আছে, নবী করিম (সা.) যখন বিপদে পড়তেন, তিনি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতেন।

একটি উল্লেখযোগ্য হাদিসে আবুল ইয়ুসর (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ভূমিকম্প বা বিপদের সময় নিম্নোক্ত দোয়া করতেন। তিনি দোয়া করতেন, “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঘর-বাড়ি ভেঙে চাপা পড়া থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, উচ্চ স্থান থেকে পতিত হওয়া থেকে, পানিতে ডুবে যাওয়া থেকে, আগুনে জ্বলা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপদ থেকে। আমি তোমার নিকট মৃত্যুর সময় শয়তানের প্ররোচনা থেকে, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন অবস্থায় মৃত্যুবরণ থেকে এবং দংশনজনিত বিপদ থেকে রক্ষা প্রার্থনা করি।” (আবু দাউদ: ১৫৫২)

আরবিতে দোয়াটি হলো:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَدْمِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ التَّرَدِّي وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْغَرَقِ وَالْحَرَقِ وَالْهَرَمِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ يَتَخَبَّطَنِي الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ فِي سَبِيلِكَ مُدْبِرًا وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ لَدِيغًا

বাংলায় উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাদমি ওয়া-আউযুবিকা মিনাত তারাদ্দি, ওয়া-আউযুবিকা মিনাল গারাকি ওয়াল-হারকি ওয়াল-হারামি, ওয়া-আউযুবিকা আন ইয়াতাখব্বাতানিশ শাইতানু ইনদাল মাওতি, ওয়া-আউযুবিকা আন আমুতা ফি সাবিলিকা মুদবিরান ওয়া-আউযুবিকা আন আমুতা লাদি-গান।

এছাড়াও, কোরআনে উল্লেখিত কিছু নির্দিষ্ট আয়াত ভূমিকম্প বা বিপদের সময় পড়লে আশ্রয় পাওয়ার জন্য বিশেষ কার্যকর বলে বিবেচিত। যেমন, সুরা আম্বিয়ার ৬৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে:
‘يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ’
যার বাংলা অর্থ, ‘হে আগুন! তুমি ইবরাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।’ এটি প্রতীকী অর্থে মানুষের প্রতি আল্লাহর রক্ষা ও নিরাপত্তার বার্তা বহন করে।

ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক বিপদের সময় শুধু দোয়া করা যথেষ্ট নয়, বরং সচেতন থাকা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি বা কর্মস্থলে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়া, ভবনের শক্তিশালী অংশে অবস্থান করা, এবং শিশু ও বৃদ্ধদের সঠিকভাবে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের প্রস্তুতি এবং আল্লাহর কাছে দোয়া একত্রে বিপদের সময় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

বিশ্বাসীরা মনে রাখবেন, প্রাকৃতিক বিপদ মানুষকে তার সীমাবদ্ধতা স্মরণ করায় এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও ভরসা শক্তিশালী করে। যখন বিপদ আসে, তখন নিজের আত্মাকে শান্ত করতে এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার মাধ্যমে মানবিক ও আত্মিক শক্তি অর্জন করা সম্ভব।

সুতরাং, ভূমিকম্প বা অন্য কোনো বিপদের সময় এই দোয়া পড়া এবং নিরাপদ স্থানে থাকা আমাদের নিরাপত্তা এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে দোয়া এবং সতর্কতা অবলম্বন করলে আমরা এই ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারি এবং আত্মিক শান্তিও লাভ করি।

সংক্ষেপে বলা যায়, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানব জীবনের অস্থায়িত্ব বোঝা যায়। তবে ইসলামের নির্দেশনা অনুসারে বিনয়ী হৃদয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া এবং সতর্কতা অবলম্বন করলে বিপদ কমানো সম্ভব। এটি শুধু আত্মরক্ষার জন্য নয়, বরং মানব জীবনে বিশ্বাস, শান্তি ও আত্মতৃপ্তি অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত