প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তৎপরতায় এবার বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন রূপ ধারণ করেছে। কুষ্টিয়া-২ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে দলের ঘোষিত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বৃহস্পতিবার স্থানীয় নেতাকর্মীরা মশাল মিছিলের আয়োজন করেন। একই সঙ্গে জামালপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির এক প্রাক্তন নেতা।
কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনের পরিস্থিতি ছিল উজ্জ্বল ও উত্তেজনাপূর্ণ। স্থানীয় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম আলম জানান, শহীদুল ইসলামের হাত ধরেই কুষ্টিয়াঞ্চলে বিএনপির সুনামের ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে। এই প্রার্থীর চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদানের জন্য সমর্থকরা মশাল মিছিল করে তাদের দাবি জানান। মিছিলকারীরা বলেন, রাজনৈতিক দলটি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে এবং যে নেতা অঞ্চলের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাকে সমর্থন দিতে হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনেও একই ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। মনোনয়নপ্রত্যাশী তারিক আহমেদ সমর্থিত নেতাকর্মীরা গোমস্তাপুরে মশাল মিছিলের মাধ্যমে দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার প্রতি সংশোধনের আহ্বান জানান। এসময় স্থানীয় বিএনপি নেতা সৈয়দ ফারুক হোসেন ও মনিরুল ইসলাম মুনি উপস্থিত ছিলেন। মিছিলকারীরা দাবী করেন, দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা বজায় রাখা উচিত এবং দক্ষ নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন বিএনপির প্রাক্তন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার। তিনি বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন, কিন্তু দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত হন। বুধবার সন্ধ্যায় পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পর তিনি এ ঘোষণা দেন এবং সমর্থকরা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাগত মিছিলের আয়োজন করেন।
আব্দুর রউফ তালুকদার জানান, “জনগণ আমাকে চারবার ভোট দিয়ে উপজেলা পরিষদের দায়িত্ব দিয়েছেন। এবারও মানুষের প্রত্যাশা ও এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে আমি জনগণের পাশে থাকতে চাই। আমার সিদ্ধান্ত একান্তভাবে জনগণের কল্যাণ এবং উন্নয়নের স্বার্থে নেওয়া।” তাঁর এ বক্তব্য স্থানীয় নির্বাচনী অঙ্গনের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও উত্তেজনার সঞ্চার করেছে।
মিছিল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন মতভেদ ও মনোনয়ন প্রক্রিয়ার প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ভোটের আগে এই ধরনের কার্যক্রম দলকে আরও সতর্ক ও ন্যায়নিষ্ঠ মনোভাব গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব ঘটনা শুধু মনোনয়ন প্রক্রিয়ার বিষয় নয়, বরং নির্বাচনী রাজনীতিতে ছাত্র-জনতার ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রভাবকেও প্রতিফলিত করছে।
সংগ্রামী নেতাদের এই ধরনের কর্মসূচি দলীয় নীতি এবং জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে সমন্বয় সাধনের গুরুত্বকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। নির্বাচনের আগে এ ধরনের উত্তেজনা দলের ভাবমূর্তির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।