ফেব্রুয়ারির নির্বাচন উৎসবমুখর করতে সবাইকে একত্র হওয়ার আহ্বান

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৬ বার
কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারের আশ্বাস

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে—এমন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের আয়োজনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এই নির্বাচন যেন শুধু রাজনৈতিক কার্যক্রমের অংশ না থেকে উৎসবমুখর হয়ে দাঁড়ায়, এজন্য সকলকে একত্র হয়ে কাজ করতে হবে।

ড. ইউনূস বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে আসন্ন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী যে দায়িত্ব পালন করছে তা এককভাবে নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় এটি একটি নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে। তিনি উল্লেখ করেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের পথে যাত্রা করব। এজন্য নির্বাচনের পরিবেশ আনন্দময় ও উৎসবমুখর করতে আমাদের সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

প্রধান উপদেষ্টা স্বাধীনতার ইতিহাসের আলোকে সশস্ত্র বাহিনীর অবদানও স্মরণ করান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জন্মগ্রহণ করেছে। ২১ নভেম্বরের ঐতিহাসিক লড়াইতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনী একত্রিত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে। তিনি স্মরণ করান, মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পরিবারের জন্য জীবন ও স্বাধীনতার ঝুঁকি ছিল অত্যন্ত উচ্চ। “যদি আমরা বিজয় অর্জন না করতাম, তবে এই বীর সেনাদের মৃত্যুদণ্ড ছিল অনিবার্য এবং তাদের পরিবারও বিপদে পতিত হত,” বলেন তিনি।

ড. ইউনূস সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী দেশে গঠনমূলক কাজ, জাতীয় দূর্যোগ মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান ও চলমান দেশ পুনর্গঠন ও সংস্কারের কাজেও সশস্ত্র বাহিনী মানুষের আস্থা অর্জনে নিরবচ্ছিন্নভাবে অবদান রাখছে। প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বাস প্রকাশ করেন, গণতান্ত্রিক এবং নিয়মতান্ত্রিক নেতৃত্বের প্রতি অনুগত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী তাদের পেশাগত দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে দেশের জন্য অব্যাহতভাবে ত্যাগ ও দায়িত্ব পালন করবে।

নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করার জন্য তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করবে। এটি দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে।”

ড. ইউনূস দেশের শান্তি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় দেশ এবং আমরা সব বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক সহাবস্থানে বিশ্বাসী। তবুও, যেকোনো আগ্রাসী বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রস্তুত রাখা এই নিরাপত্তার মূল স্তম্ভ।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা শুক্রবার সকালেই সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পে হতাহতদের জন্য শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের এবং ২০২৪ সালের ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের ত্যাগ আমাদের দেশের জন্য চিরকাল প্রেরণার উৎস।”

ড. ইউনূসের এই বক্তব্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক নির্দেশনা নয়, বরং দেশের জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনীকে একত্রিত করে একটি উৎসবমুখর, দায়িত্বশীল ও সমন্বিত পরিবেশ তৈরির আহ্বান হিসেবে দেখা যেতে পারে। তিনি নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বক্তব্যের শেষে প্রধান উপদেষ্টা দেশের সব স্তরের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান, নির্বাচনকে কেবল ভোটের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ না রেখে এটি একটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে উদযাপন করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচন যেন আনন্দ ও উৎসবমুখর হয়ে দাঁড়ায়, সেই দায়িত্ব আমাদের সবার।”

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই বক্তৃতা বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে, যেখানে সশস্ত্র বাহিনী ও নাগরিক সমাজ একত্রিত হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত