শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডকে ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলল পাকিস্তান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩২ বার

জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে বাংলাদেশের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছে পাকিস্তান। বিষয়টি ঘিরে নানা আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ইসলামাবাদের এই অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবিকে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি বলেন, এটি বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই এসব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম এবং এর বিচার-বিবেচনা করার পূর্ণ দায়িত্ব বাংলাদেশের জনগণের।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে ফাঁসি এবং বাকি দুটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়। রায়ে বলা হয়েছে, এসব অপরাধে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা, নেতৃত্বের দায়িত্ব এবং ঘটনাগুলো ঘটানোর জন্য দেওয়া নির্দেশ প্রমাণিত হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের মতে, হত্যা, ষড়যন্ত্র, উসকানি ও নেতৃত্বের দায়ে তার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগই ছিল গুরুতর ও প্রমাণিত।

১৭ নভেম্বর, বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল–১ রায় ঘোষণা করে। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার গুরুত্বপূর্ণ রাজসাক্ষী, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি শেখ হাসিনা ও কামালের দেশে থাকা সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল, তার মধ্যে ছিল গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্য, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদকে হত্যা, চানখাঁরপুলে সংঘটিত হত্যা এবং আশুলিয়ায় হত্যা ও লাশ পোড়ানোর ঘটনা। প্রতিটি অভিযোগই জুলাই আন্দোলনের সময়কার সহিংসতা, নির্দেশনা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতাকে ঘিরে তদন্ত ও বিচার করা হয়।

রায় ঘোষণার পর দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একদিকে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আন্দোলনের জটিলতা নিয়ে নানা মন্তব্য আসছে। এই অবস্থায় পাকিস্তানের মন্তব্য যে এই পুরো বিষয়টি বাংলাদেশই সামলাতে সক্ষম—তা আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত