রাজধানীতে শুক্রবার সকালে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পে মেট্রোরেলের কমপক্ষে ছয়টি স্টেশনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ নগর পরিবহন ব্যবস্থার ওপর এই ধাক্কা উদ্বেগ তৈরি করলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফাটলগুলো প্রাথমিকভাবে গুরুতর নয় এবং সব স্টেশনেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি, পল্লবী, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ এবং ফার্মগেট।
কারওয়ান বাজার ও বিজয় সরণি স্টেশনে বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন কক্ষের ফ্লোরে সরাসরি ফাটল দেখা যায়। বিজয় সরণি স্টেশনের সাব-স্টেশনের প্রবেশদ্বারের দেয়ালেও ফাটল ধরা পড়ে, যা স্টেশনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পল্লবী স্টেশনে সমস্যা আরও স্পষ্ট—সাব-স্টেশন ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেয়ালেই ফাটল ধরা পড়েছে। একইভাবে মিরপুর-১১ স্টেশনে সাব-স্টেশনের ফ্লোর এবং মিরপুর-১০ স্টেশনের বেশ কয়েকটি টাইলসে ফাটল নজরে আসে। ফার্মগেট স্টেশনের লিফট কোরের ভেতরের দেয়ালেও ফাটল শনাক্ত হয়েছে।
এই সবকিছুই মূল কাঠামো ভূমিকম্পের কম্পনে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে নগরবাসী ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। অনেকে মনে করছেন, নতুন নির্মিত অবকাঠামো হিসেবে মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোতে এমন ক্ষতি উদ্বেগ সৃষ্টি করে, বিশেষ করে যখন শহরটি ভূমিকম্প–ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত।
ফাটল নিয়ে জানতে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে সংস্থার আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা যায়নি।
তবে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি জানান, ফাটলগুলোকে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না এবং প্রকৌশলীরা পরীক্ষা–নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ভাষায়, ট্রায়াল রানের সময় কোনো ঝুঁকি পাওয়া যায়নি বলেই মেট্রোরেল নিয়মিতভাবে চালু রয়েছে। এর পাশাপাশি ভূমিকম্পের পর সব স্টেশনে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষ হলে কাঠামোগত মেরামত ও উন্নয়ন বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এই ঘটনার পর নগরবাসী এখন অপেক্ষায়—মেট্রোরেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।