চকরিয়ায় রেললাইনে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১ বার
চকরিয়ায় রেললাইনে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

কক্সবাজারের চকরিয়ায় রেললাইন থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সোমবার ভোরে উপজেলার হারবাং নতুন বাজার এলাকার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের পাশে পড়ে থাকা লাশটি দেখে পথচারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন। পরে রেল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং লাশটি উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, লাশটি রেললাইনের ওপর সামান্য এক পাশে ছিল এবং শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল।

হারবাং রেলওয়ে স্টেশনের ইনচার্জ রশিদুল ইসলাম জানান, সকালেই কয়েকজন স্থানীয় মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় রেললাইনে একটি লাশ পড়ে থাকার খবর প্রকাশ করেন। এমন পোস্ট দেখার পর তিনি ঘটনাটি রেল পুলিশকে জানান। পুলিশ এসে নিশ্চিত হয় যে ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। তাঁর মতে, ঘটনাটি রাতের কোনো সময় ঘটেছে। তিনি বলেন, রোববার রাতে সৈকত এক্সপ্রেস নামের চট্টগ্রামগামী ট্রেনটি রাত সাড়ে নয়টার দিকে হারবাং এলাকায় পৌঁছায়। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সময় ওই ব্যক্তি ট্রেনে কাটা পড়তে পারেন।

রেল পুলিশ লাশটি উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় যে মৃত্যুর ঘটনা দুর্ঘটনাজনিত এবং ট্রেনের আঘাতেই হয়েছে। তবে মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। একটি পা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মাথা, বুক ও হাতের অংশে ক্ষত রয়েছে। তদন্তে দায়িত্বরত কক্সবাজার রেলওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, লাশের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আঘাতটি একাধিক অংশে লেগেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি চলন্ত ট্রেনের নিচে পড়েছিলেন বা খুব কাছাকাছি ছিলেন।

শাহজালাল আরও বলেন, মৃত ব্যক্তির পোশাক-পরিচ্ছদ থেকেও তেমন পরিচয়সূত্র পাওয়া যায়নি। তাঁর কাছে কোনো পরিচয়পত্র, ফোন বা ব্যাগ পাওয়া যায়নি। এতে তদন্ত আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছে। তাঁরা কেউই ব্যক্তিটিকে চিনতে পারেননি। আশপাশের থানা, হাসপাতাল, স্থানীয় প্রশাসন এবং নিখোঁজ অভিযোগের তথ্যও মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিচয় শনাক্ত করা না গেলে ময়নাতদন্তের পর লাশটি আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামে হস্তান্তর করা হবে।

লাশ উদ্ধারের পর এলাকাজুড়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়। কেউ বলেন, তিনি হয়তো পাশের গ্রাম থেকে এসেছিলেন। কেউ দাবি করেন, ট্রেনের ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হতে পারে। আবার কয়েকজন মনে করেন, তিনি হয়তো রেললাইন পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। স্থানীয়রা জানান, হারবাং এলাকায় রেললাইন পার হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ক্রসিং কম। অনেকেই নিয়ম না মেনে লাইন পার হন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। রাতের অন্ধকারে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এলাকাবাসীর অনেকে রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় যথেষ্ট আলোর ব্যবস্থা নেই। পথচারীদের সতর্ক করার মতো সাইনবোর্ডও কম। রেল চলাচল বাড়ায় দুর্ঘটনার হারও বাড়ছে। বিশেষত কক্সবাজারগামী নতুন রেললাইন চালু হওয়ার পর এই রুটে ট্রেন চলাচল অনেক বেড়েছে। গত কয়েক মাসেও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

চকরিয়া থানার সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। রেল লাইনের পাশে বসবাসকারী মানুষেরও সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। অনেকেই মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বা ইয়ারফোনে গান শুনতে শুনতে রেললাইন পার হন। এতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ে। ট্রেনের শব্দও সবসময় স্পষ্ট শোনা যায় না, বিশেষত রাতে বা বৃষ্টির দিনে।

রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ট্রেনের চালক ও সহকারী চালকের সঙ্গে কথা বলা হবে। সৈকত এক্সপ্রেসের চালক দুর্ঘটনার সময় কোনো আঘাত অনুভব করেছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। সাধারণত রাতের অন্ধকারে দূর থেকে কোনো মানুষকে দেখতে সমস্যা হয়। রেললাইন এলাকায় দু’পাশের ঝোপঝাড়ও দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেয়।

এরই মধ্যে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সময় ও প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনা বলেই মনে করছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা। তাঁর পরিবার কোথাও হয়তো নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে অপেক্ষা করছে। তাঁর আত্মীয়স্বজনকে খুঁজে পাওয়াই এখন পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। স্থানীয় থানাগুলোতে খবর পাঠানো হয়েছে এবং রেলপথের বিভিন্ন স্টেশনেও বার্তা পাঠানো হয়েছে।

মানবিক দিকটি বিবেচনা করে পুলিশ বলছে, যদি কেউ তাঁর সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, তবে দ্রুত যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। এলাকার মানুষও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা চান, রেললাইন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হোক। আলো, সাইনবোর্ড, গেট ও পাহারার সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। রেল কর্তৃপক্ষও বলছে, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চকরিয়ার এই ঘটনা নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে রেললাইন কোনো খেলাধুলার স্থান নয়। এটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং দুর্ঘটনা এক মুহূর্তেই জীবন কেড়ে নিতে পারে। মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত না হলেও তাঁর মৃত্যু একটি বেদনাদায়ক ঘটনা হয়ে থাকছে। স্থানীয়দের মূল্যায়ন অনুযায়ী, নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম ও কাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। রেললাইন সংলগ্ন এলাকাসহ সারাদেশে এমন ঘটনায় মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত